বাস চালকদের বর্বরতা,ধুঁকছে মানবতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

“আমি চিৎকার করে কাঁদিতে চাহিয়া,করিতে পারিনি চিৎকার
বুকের ব্যাথা বুকে জমায়ে নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার”।

সড়কে একের পর এক বিভিষীকা সৃষ্টি করেই চলেছেন বাস চালকেরা।প্রতিযোগীতামূলক চালানোর মনোভাব এর ফলে সড়ক এখন সম্পূর্ণ  অনিরাপদ সাধারণ মানুষের জন্য।চলমান বাসের যাত্রী থেকে শুরু করে পথচারী,রাস্তার পার্শবর্তী ঘরের ঘুমন্ত মানুষ,কোথাও আমরা নিরাপদ নই বেপরোয়া বাসের কবল থেকে।
অদক্ষ চালক,অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যবস্থা,আইনের শিথিলতা,বিচার বিভাগের ধুয়াশার ফলে হত্যা করেও পার পেয়ে যাচ্ছেন এই সকল মানুষরূপী নরপশুরা।
কিছুদিন আগেই এপ্রিলে দুই বাসের রেষারেষিতে পড়ে হাত হারিয়ে প্রাণ দিলেন রাজীব,তারপরে ঢাকা ট্রিবিউনের কর্মী নাজীম উদ্দীন,নিষ্ঠুর নির্মমতার সাক্ষী নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহরিয়ার হত্যাকান্ড।আঘাত প্রাপ্ত যাত্রীকে চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যার মত পৈশাচিক আচারণও আমাদের মনে দাগ কাটে না।
একদিন আগের কথাই ধরা যাক,ছুটির পরে ঘরে ফেরার জন্য বাস স্টপেজে অপে¶মাণ দেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারী শিক্ষার্থীরা।এদেরই কেও হয়তো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিতো,তাদেরকে ঘিরে পিতা-মাতার আশা ভরসা এক নিমিষেই শেষ হয়ে গেলো।
কি তাদের অপরাধ?তবে কি স্বাধীন দেশের নাগরিক হয়েও কতিপয় বাস চালকদের কাছে জিম্মি থাকবে আমাদের জীবন!এ হত্যাকান্ডের শেষ কোথায়?আর কত নির্মমতার সাক্ষী হয়েও নিশ্চুপ হয়ে বসে থাকবো আমরা?মানবিকতা আর কত নিচে নামলে মনুষ্যত্ব ফিরে আসবে আমাদের মাঝে?
কোনো দূর্ঘটনাই কাম্য নয়,সকল দূর্ঘটনার ক্ষতিই অপূরণীয়।স্বজন হারানোর বেদনা যে কতটা দুঃসহ তা একমাত্র তারাই জানেন যারা স্বজন হারান।পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি যখন দূর্ঘটনায় মারা যায় বা পঙ্গুত্ব বরণ করে নিতে বাধ্য হয়,তখন সেই পরিবার কতটা বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে তার খোঁজ কি কেও রাখে,অথবা যে পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে হারিয়ে জীবন্ত লাশে পরিণত হচ্ছেন,ধুঁকে ধুঁকে নিঃসাড় হয়ে যাচ্ছেন,  এ পরিনতির দায়ভার  কাদের উপর বর্তায়,কে দেবে এই প্রশ্নের উত্তর।
আইনের কঠোর শাষন,দক্ষ চালক সূষ্টি,অপরাধ করেও পার পাওয়ার অপব্যবস্থা রোধ,সর্বপরি রাষ্ট্রকে দায়িত্ব নিতে হবে এ হত্যাযজ্ঞ রোধের।কারণ রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়ভার রাষ্ট্রের।রাষ্ট্র এ দায়ভার কোনো ভাবেই অস্বীকার করতে পারেনা।
ফিরে আসুক মানুষের নিরাপত্তা,ফিরে আসুক মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর নিশ্চয়তা।