‘পাকিস্তানের নজির বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য না’

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

অবৈধ সম্পদ অর্জনের দুর্নীতির অভিযোগের মুখে থাকা আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের আগাম জামিন নিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর ফলে তাকে হাইকোর্টের দেয়া আগাম জামিন বাতিল হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এর আগে আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুনানিতে আদালত বলেন, আসামীপক্ষ (মামলার আগে জামিন) পাকিস্তানে এই ধরণের নজিরের কথা বলেছিলেন, কোর্ট বলেন পাকিস্তানের নজির বাংলাদেশে গ্রহণ যোগ্য হতে পারে না।

জামিন সংক্রান্ত রুলের শুনানি শেষে মঙ্গলবার বিচারপতি মো.নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি ড.কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে বিচারপতি মো. জয়নুলের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন। দুদকের পক্ষে খুরশিদ আলম খান ও রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহরিন ও এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক শুনানি করেন।

এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, রায় ঘোষণার আগে আদালত বলেছেন, এই ধরনের মামলা ছাড়া আগাম জামিনের বিষয়ে কোনো নজীর নেই। মামলা ছাড়া আগাম জামিন হলে সমাজে কেওয়াজ সৃষ্টি হবে। আদালত আরও বলেন, আসামীপক্ষ (মামলার আগে জামিন) পাকিস্তানে এই ধরণের নজিরেরের কথা বলেছিলেন, কোর্ট বলেন পাকিস্তানের নজির বাংলাদেশে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। পত্রিকার বিষয়ে বলেছেন পত্রিকার কাজ সমাজের ক্ষতগুলো তুলে ধরা।

এর আগে বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে আগাম জামিন দিয়ে জারি করা রুলের ওপর শুনানি গত ১০ জুলাই শুরু হয়ে পর্যায়ক্রমে আরও তিনদিন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৭, ১৯ এবং সর্বশেষ ২৩ জুলাই শুনানি হয়।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, গত বছরের ১০ জুলাই হাইকোর্ট বিচারপতি জয়নুল আবেদীনকে আগাম জামিন দিয়ে রুল জারি করেছেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করেছিল। আপিল বিভাগ হাইকোর্ট বিভাগে রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন। সে অনুসারে রুল শুনানি শেষ হয়েছে।

২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রাক্তন বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে নোটিশ দেয় দুদক। পরে ওই নোটিশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে তিনি একই সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেন। রিটটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেন আদালত।

এরপর ২০১০ সালের ২৫ অক্টোবর তাকে আরও একটি নোটিশ দেয় দুদক। ৩ নভেম্বর তিনি এ বিষয়ে তথ্য জমা দেন। এর দীর্ঘদিন পর ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তার কাছে ব্যাখ্যা চায় দুদক। পরে তিনি ব্যাখ্যা দেন।

একই বছরের জুনে একটি পত্রিকায় বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে গ্রেফতার ও হয়রানির আশংকায় তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। ২০১৭ সালের ১০ জুলাই হাইকোর্ট তাকে এ অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জামিন দেন এবং রুল জারি করেন।