আইনের কঠোর প্রয়োগই হ্রাস করবে সড়ক দুর্ঘটনা: পবা

August 5, 2018, 3:50 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

   পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা বলেছেন, ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ও আইনের কঠোর প্রয়োগই সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করবে। বক্তারা বলেন, সড়কে প্রতিদিনই বাড়ছে দুর্ঘটনা বা হত্যাকাণ্ড। শিক্ষার্থীসহ সকল শ্রেণির মানুষ এই দুর্ঘটনার শিকার। সম্প্রতি ঢাকায় দু’জন স্কুল শিক্ষার্থী বাসচাপায় নিহত এবং চট্টগ্রামে একজনকে মেরে পানিতে ফেলে দেয়ার ঘটনা সবাইকে উদ্বিগ্ন করছে। ফলে যাতায়াতের নিরাপত্তা নিয়ে বর্তমানে সবাই শঙ্কিত। তারা বলেন, দুর্ঘটনার নামে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড আর কত? যাত্রী নিরাপত্তার জন্য আইন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলাই সড়কে অরাজকতা ও দুর্ঘটনা হ্রাস করতে সাহায্য করবে।


পবা’র উদ্যোগে আয়োজিত ‘দুর্ঘটনার নামে হত্যাকাণ্ড আর নয়! সড়কে হত্যাকাণ্ড ও অরাজকতা: কারণ ও করণীয়’-শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। বক্তারা বলেন, বর্তমানে কোমলমতি ছাত্রছাত্রীরা নিরাপদ যাতায়াতের জন্য যৌক্তিক আন্দোলন করছে। সেই প্রেক্ষিতে সরকারও তাদের আন্দোলনের দাবিগুলো মেনে নিয়েছে। এখন দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগের জন্য জোর দাবি জানান। পবা তার সহযোগী বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তির মাধ্যমে দাবিগুলো বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে ছাত্রছাত্রীদের যার যার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানান। চালকদের প্রশিক্ষণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বক্তারা কিছু সুপারিশ করেন। সুপারিশগুলো হচ্ছে- ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে সরকারের আশ্বাসকৃত দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া।

চালক ও সহকারীদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ, পরিবহন চালক (পেশাদার/অপেশাদার/বৈধ লাইসেন্সধারী/লাইসেন্সহীন) ডিজিটাল নিবন্ধ ও এ তালিকা যাতে নাগরিকরা চেক করতে পারে তার ব্যবস্থা করা। চালকের সহকারীর নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা। নিবন্ধন অনুসারে চালকদের অস্থায়ী চালনার পাশ প্রদান। সকল চালক ও সহকারীদের নিবন্ধনপত্র গাড়িতে নির্দিষ্ট স্থানে প্রদর্শনের ব্যবস্থা নেয়া। প্রশিক্ষণের ব্যাপারে সুপারিশের মধ্যে রয়েছে- বিভিন্ন জেলায় পুলিশ, সিভিল ডিফেন্স, বিজিবি, আর্মির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে দক্ষ ড্রাইভার আছে এ সকল স্থানের তালিকা এবং প্রশিক্ষণ দানের সক্ষমতা যাচাই। চালক ও সহকারী নিবন্ধনের পরবর্তীতে জেলা ও উপজেলা অনুসারে তাদের প্রশিক্ষণ  কেন্দ্রগুলোতে বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণে পাঠানো। প্রশিক্ষণকালে চালকদের ভাতা প্রদানের জন্য বাজেট বরাদ্দ। সেনাবাহিনীর ও সিভিল ডিফেন্সকে প্রশিক্ষণ সমন্বয় এবং মান পরীক্ষার দায়িত্ব প্রদান। স্বল্প শিক্ষিত ড্রাইভারদের জন্য তাদের অনুসারে প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি, রাস্তায় দ্বৈত সাইন স্থাপনের উদ্যোগ  ও নিরক্ষরদের গাড়ি মেরামতের কাজে প্রশিক্ষণ প্রদান। তরুণদের প্রণোদনা দিয়ে পাবলিক যান পরিচালনার প্রশিক্ষণ দান। চালক ও সহকারীদের ট্রিপের পরিবর্তে বেতন নির্ধারণ। চালক ও সহকারীদের বেতন অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রদান এবং তাদের বেতন কর মুক্ত  করা।

বৈধ লাইসেন্স প্রাপ্ত চালক ও সহকারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ইন্স্যুরেন্সের ব্যবস্থা করা। বিআরটিএর একটি নির্দিষ্ট বিভাগকে বিষয়টি তদারকির দায়িত্ব প্রদান। কোনো চালক আইন লঙ্ঘন করে গাড়ি চালালে শাস্তি স্বরূপ তার ইন্স্যুরেন্স হতে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা কেটে নেয়া। প্রতি রাস্তায় গোপনে সিপ্রড মিটার বসানো। যাত্রীদের সহজে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যবস্থা করা। গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা পাবলিক পরিবহন বাড়ানোর মাধ্যমে গণ পরিবহনের সংকট দূর করা, বিআরটিসির বাসগুলোও নিয়মিত চলাচল, বিআরটিসির মাধ্যমে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাস আমদানি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাস্তায় চলাচলের ব্যবস্থা করা। ফিটনেসসহ পর্যাপ্ত পরিমাণে বড় বড় বাসের ব্যবস্থা করা। নিবন্ধিত যেসমস্ত বাস চলাচল করবে না তাদের শাস্তির আওতায় আনা, পাবলিক বাসের জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা, পথচারীদের জন্য পর্যাপ্ত সিগন্যাল ও জেব্রা ক্রসিং করা এবং মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনায় প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এলাকা ভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় অংশগ্রহণের ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করেন।

পবা’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন দৃকের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শহিদুল আলম। গোলটেবিল বৈঠকে পবা’র সম্পাদক এমএ ওয়াহেদ, শামীম খান টিটু, স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান মজুমদার, সাউথ-ইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক স্থপতি জুবাইদা গুলশান আরা, বিসিএইচআরডি-এর নির্বাহী পরিচালক মাহবুল হক, পরিচালক মমতাজুর রহমান মোহন, পবা’র সদস্য শামীমা জাহান, বাংলাদেশ সাইক্লিং ও হাঁটা জোট-এর কার্যনির্বাহী সদস্য নিশু সাদেক, বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থার ইলিয়াস হায়দার, নাসফ-এর ওমর ফারুক, লেখক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া, ডিমুস-এর প্রেসিডেন্ট সৈয়দা দিলরুবা আখতার, ডাব্লিউবিবি-ট্রাস্টের মাসুম বিল্লাহ্‌ ভূঁইয়া বক্তব্য দেন।