দুই টনের রাজাবাবুকে নিয়ে হৈ চৈ

August 8, 2018, 8:55 am নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

   মানিকগঞ্জে সাটুরিয়ার রাজাবাবুকে আসন্ন কোরবানি ঈদে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। লক্ষ্মীসোনা তৈরির কারিগর খান্নুমিয়া এবার রাজাবাবুর ওজন বানিয়েছেন দুই টনের বেশি। এ রাজাবাবুকে দেখতে উৎসুক জনতা প্রতিদিন তার বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে। তবে, রাজাবাবুর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা দুটোই পাচ্ছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও পুলিশ প্রশাসন থেকে।  

 

গতকাল সকালে রাজাবাবুর মালিক খান্নুমিয়ার বাড়ি গিয়ে দেখা যায় বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ রাজাবাবুকে দেখতে ভিড় করছে। উৎসুক জনতা নানা মন্তব্য করছে রাজাবাবুকে দেখে।


কীভাবে ৩ বছর ১০ মাসে এত বড় ষাঁড় গরু হয়। গরুর মালিক কি খাইয়ে এত বড় করেছে যার ওজন হয়েছে  ৫২ মণেরও বেশি।

 

রাজাবাবুর দেখাশোনাকারী ইতি আক্তার জানায়, কেরানিগঞ্জ থেকে তার বাবা খান্নুমিয়া তিন লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে প্রায় চার বছর আগে রাজাবাবুকে কিনে আনেন। গত কোরবানির ঈদে রাজাবাবুর ওজন ছিল প্রায় ৪০ মণ। ওই বছর রাজাবাবুর দাম উঠেছিল সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। দাম কম হওয়ায় রাজাবাবুকে আমরা বিক্রি করিনি। এবার রাজাবাবুর ওজন হয়েছে দুই টনেরও বেশি। ইতি জানায়, কোনো ধনবান ও বিত্তশালী ব্যক্তি এগিয়ে আসলে ও দাম ভালো পেলে এবার রাজাবাবুকে বিক্রি করা হবে।

 

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম জামান জানান, রাজাবাবু হনস্টেইনি ফ্রিজিয়াম জাতের। তিন বছর ১০ মাসে এর উচ্চতা হয়েছে ৬ ফুট ৭ ইঞ্চি, লম্বা হয়েছে ৮ ফুট, বুকের মাপ হচ্ছে ১২ ফুট। প্রাকৃতিক খাদ্য উপাদান দিয়ে তৈরি করা হয় রাজাবাবুকে। কোনো হরমোন, ক্ষতিকর মেডিসিন ও রাসায়নিক রাজাবাবুকে দেয়া হয়নি। তিনি আশা করছেন রাজাবাবুর দাম ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা হবে।

 

রাজাবাবুর খাদ্য সম্পর্কে দিঘলিয়া ইউনিয়নের দেলুয়া ভূয়া গ্রামের মালিক খান্নু মিয়া জানান, রাজাবাবুকে চিড়া, গুড়, আপেল, মাল্টা, মিষ্টিলাউ, ভুষি, খড়, সবরি কলা, বিচা কলা ও ছোলা খাবার দেয়া হয়। এতে প্রতিদিন ব্যয় হয়েছে দুই থেকে তিন হাজার টাকা। তিন বছর ১০ মাসে প্রায় ১৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে তার পেছনে। কীভাবে এত টাকা খরচ হলো জানতে চাইলে তিনি জানান, গতবার লক্ষ্মীসোনা নামে একটি গরু বিক্রি করি ১০ লাখ টাকায়। ওই টাকা ও ব্যাংকসহ মানুষের কাছে ধার দেনা করে রাজাবাবুকে এবার কোরবানি ঈদে বিক্রি করার জন্য তৈরি করেছি। জানি না ভাগ্যে কি আছে। এবার রাজাবাবুকে কত টাকায় বিক্রি করবেন জানাতে চাইলে তিনি জানান ২০ থেকে ২২ লাখ টাকা দাম হলে বিক্রি করবেন। রাজাবাবুকে কিভাবে চিকিৎসা দিয়েছেন জানতে চাইলে খান্নু মিয়া বলেন, রাজাবাবুর চিকিৎসার জন্য প্রতিদিন সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের বড় স্যার ডা. মো. খোরশেদ আলম ও সার্জন ডা. মো. সেলিম জামান প্রতিদিনই দেখাশোনা করেছেন। কোনো সমস্যা হলে খবর দিলে সঙ্গে সঙ্গে তারা এসে দেখে গেছেন। আর রাজাবাবুর তেমন বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান। খাান্নুমিয়া আরো জানান, গরু ছোট থেকে বড় করতে হলে বাড়িতেই একজন ডাক্তারের প্রয়োজন হয়। তাই ছোট মেয়ে ইতি আক্তারকে সাভার যুব উন্নয়ন ও সাটুরিয়া প্রাণিসম্পদ অফিসে গরু প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণের উপর প্রশিক্ষণ নিয়েছে। মেয়েই রাজাবাবুর সব দেখাশোনা করেছে বলে জানান।  

 

সাটুরিয়া থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান বলেন, সাটুরিয়ায়  এত বড় ষাঁড় গরু চুরি বা শত্রুতা করে কেউ ক্ষতি করতে না পারে সেজন্য রাতের বেলা প্রাণিটির নিরাপত্তা দেয়া হয়েছে। সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. খোরশেদ আলম  বলেন, দুই বছর ধরে রাজাবাবুর ভালোমন্দ আমরাই দেখাশোনা করেছি। প্রতি সপ্তাহে একবার আমি গিয়ে খোঁজ নিয়েছি। এ ছাড়া, ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম প্রতিদিনই রাজাবাবুর খবর নিয়েছেন। রাজাবাবুকে প্রাকৃতিক উপায়ে মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।