মেঝেতে বসে পরীক্ষা

August 9, 2018, 2:20 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

   সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার শ্রীপুর (উত্তর) ইউনিয়নের ‘তেলীগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ শিক্ষক ও শ্রেণিকক্ষ, বসার বেঞ্চ ও টিউবওয়েল না থাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়টিতে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র/ছাত্রী ৫১৬ জন। ৫১৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৩ জন। ফলে শিক্ষক, বেঞ্চ ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে বিদ্যালয়ের পাঠদান চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। ভবনের কক্ষ সংকট আর বসার বেঞ্চ না থাকায় শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের বারান্দার ফ্লোরে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চালু থাকায় বিদ্যালয়টির ফলাফল শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নে অন্যতম এটি।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়টির শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের জন্য ৮ জন শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও বর্তমানে বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৩ জন শিক্ষক।


১৯৪৮ সালে ৫৪ শতাংশ ভূমির উপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। এবং ১৯৭৩ সালে এ বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। বিদ্যালয়ের ভূমির উপর বর্তমানে ২টি ভবন থাকলেও একটি টিনসেট ভবন ঝুঁকিপূর্ণ থাকায় গত ৫ বছর পূর্বে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই পরিত্যাক্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভবন সহ মূল ভবনের ৫টি কক্ষে ছাত্র-ছাত্রীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছে। যার ফলে শিক্ষার্থীদের মারাত্মক লেখা পড়ার ব্যাঘাত ঘটছে।

 

সোমবার বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, পরিত্যক্ত ভবনের ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙা বারান্দা আর মূল ভবনের বারান্দার মাটিতে বসে দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিদ্যালয়ের ভবনের ভিতরের ৪টি কক্ষে পর্যাপ্ত পরিমাণ বসার বেঞ্চ না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা গাদাগাদি করে বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে আর শিক্ষকরা দরজার মাঝখানে দাঁড়িয়ে বারান্দা আর কক্ষের ভিতরে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকরা জানান, ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে ৩ জন শিক্ষক দিয়ে ৫টি শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করাতে গিয়ে বিদ্যালয়ের পাঠদান মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে।

 

বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণির ছাত্র রৌদ্র পাল, স্মিতা রায় জানায়, বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত বসার বেঞ্চ আর বিল্ডিং না থাকায় তারা খুব কষ্টে ক্লাস করছে। তারা বলে, যারা আগে বিদ্যালয়ে আসতে পারে তারা গাদাগাদি করে কক্ষের ভিতরে বেঞ্চের মধ্যে বসতে পারে, আর না হয় বারান্দায় মাটিতে বসে ক্লাস করতে হয় তাদের।

 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শোয়েব আহমদ জানান, শিক্ষক সংকট, বেঞ্চের অভাব, নতুন ভবন নির্মাণ ও সুপেয় পানির দ্রুত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। ৮ জন শিক্ষকের মধ্যে আছেন মাত্র ৩ জন। তিনি এ বিদ্যালয়ে নতুন যোগদান করেছেন, বদলিকৃত প্রধান শিক্ষক এসব বিষয়ে কোনো লিখিত আবেদন করেছেন কিনা জানেন না। তবে, বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক পাঠদান চালু রাখতে একজন শিক্ষক প্রেষণে দেয়ার জন্য আবেদন জানাবেন তিনি। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের প্রচুর জায়গা রয়েছে, পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ টিনসেড ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন, বেঞ্চ ও টিউবওয়েল বসানোর দ্রুত প্রয়োজন।