প্রত্যাবাসনে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে- পররাষ্ট্র সচিব

August 14, 2018, 3:54 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মিয়ানমার থেকে ফেরার একদিন পর পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক বললেন- প্রত্যাবাসন যেকোনো দেশের জন্যই জটিল ও কঠিন বিষয়, যাতে রাতারাতি সবকিছু করা সম্ভব নয়। তার ভাষায়- ‘বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য তারা (মিয়ানমার) কী করেছে তা আমাদের দেখিয়েছে, আমি বলবো কিছু একটা হয়েছে।’ গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের ফাঁকে সচিব গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন। সেখানে তিনি বলেন- এত তাড়াতাড়ি সবকিছু সমাধান হবে না, তবে আমরা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে দৃঢ়ভাবে আশাবাদী। সচিব বলেন, এখানে কিছু নির্দিষ্ট বিষয় উপস্থাপন করতে হবে, যাতে রোহিঙ্গারা তাদের মাতৃভূমিতে আত্মবিশ্বাস ও নিরাপদে ফিরতে পারে।

এই কাজের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন। মিস্টার হক বলেন, আমরা রাখাইনে রোহিঙ্গাদের জন্য তৈরি করা অবকাঠামো দেখেছি।
বেশ কিছু অবকাঠামো ভারত সরকারের সহায়তায় তৈরি হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, রোহিঙ্গারা কবে নাগাদ ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা আমরা এখনই বলতে পারছি না। তবে উভয়পক্ষই এ নিয়ে কাজ করছে। গত শুক্রবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন সহজীকরণের জন্য রাখাইন রাজ্যে সঠিক পরিবেশের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি সেখানে দ্রুত রোহিঙ্গাদের ঘরবাড়ি নির্মাণের কথা বলেছিলেন।

শনিবার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে রাখাইন রাজ্য সফর করে সেখানকার ধ্বংসস্তূপ প্রত্যক্ষ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী-সচিবসহ রাখাইনের মংডু সফরকারী বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলকে পুরো এলাকা ঘুরে দেখিয়েছেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ ও ত্রাণমন্ত্রী উন মিয়াত আয়ে। তারা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার আন্তর্জাতিক সীমান্তের জিরো লাইনে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়েও সম্মত হয়েছেন। এ সময় সীমান্তের ৩৪ এবং ৩৫ নং পিলারের মাঝামাঝিতে অবস্থানরত বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর যৌথ জরিপ চালানোর বিষয়েও একমত হয় দুই দেশ। ৯ থেকে ১২ই আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল মিয়ানমার সফর করে। সফরকালে স্টেট কাউন্সেলরের কার্যালয় ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলো দেখভালের দায়িত্বপ্রাপ্ত দু’জন মন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়।

উভয় মন্ত্রীই বন্ধুসুলভ প্রতিবেশী মনোভাব নিয়ে রাখাইন রাজ্যের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা ইস্যু সমাধানে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তারা দুই দেশের ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ক উন্নয়নেও জোর দেন। মূলত নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের আবাসন সুবিধা, চলাফেরা ও জীবনযাত্রাসহ প্রত্যাবাসন সামগ্রিক প্রক্রিয়ার কতটা অগ্রগতি হয়েছে তা দেখতেই উচ্চ পর্যায়ের ওই বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের এবারের মিয়ানমার সফর ছিল।