গনমাধ্যমের স্বাধীনতা,যেনো উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনা

August 14, 2018, 9:23 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

“স্বাধীনতা তুমি,
স্বাধীন দেশে পরাধীনতার শিকল বেঁধে নির্বাক চোখে তাকিয়ে থাকা” লাইন দুটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমের বর্তমান অবস্থারই প্রতিচ্ছবি যেনো। 

দেশ স্বাধীনের এত বছর পরেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করতে একেক সময়ে একেক শ্রেনীর মানুষদের যে বিকৃতমনা কার্যকলাপ তা প্রতিনিয়ত বহিঃবিশ্বের কাছে দেশীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে চলেছে।বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা শুধু উর্বর মস্তিষ্কের কল্পনাতেই সম্ভব।
বিশ্বের ১৮০ টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের গনমাধ্যম এর অবস্থান ১৪৬ তম।যেখানে আমাদের দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে মাথা উঁচু করে দাড়াচ্ছে,সেই সময় গণমাধ্যম এর উপর বিশেষ বিশেষ গোষ্ঠীর খড়গহস্ত বিশ্বের দরবারে আমাদের মাথা নিচু করে দিচ্ছে।
মুক্ত গণমাধ্যম যে কোনো দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য শর্ত।মুক্ত চিন্তাধারা যদি বিকশিত না হয়,তবে কোনো অবস্থাতেই সমাজ বা রাষ্ট্রের আশানুরুপ উন্নয়ন সম্ভব নয়।যদি মানুষের চিন্তাধারা একই খাতে প্রবাহিত করা বা করার চেষ্টা তদানুযায়ী প্রয়োজনে চাপ সৃষ্টি করা হয়,আইনের দোহাই দিয়ে বাক- স্বাধীনতা রোধ করা হয় সেইক্ষেত্রে সমাজের উন্নয়ন আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নয়।
সাংবাদিকরা বরাবরই নির্যাতিত,কোনো লেখনী,তথ্য যদি বিশেষ কোনো ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিপন্থি হয় তখনই সেই ব্যাক্তি বা গোষ্ঠী উঠে পড়ে লাগে সাংবাদিক বা গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে।মানুষের বাক- স্বাধীনতা তাদের দু-চোখের বিষ যেনো।প্রয়োজনে নির্মমতার আশ্রয় নিতে,হিংস্র হয়ে উঠতে তাদের কোনো তুলনাই চলেনা।

সাংবাদিক হত্যা বা নির্যাতন এখন ফ্যাশনে পরিনত হয়েছে,আর নতুন নতুন আইন তো সাংবাদিক নির্যাতনের একেকটা ফাঁদ মাত্র।অন্যদিকে সাংবাদিক অত্যাচারের বিচার শুধু কল্পনাতেই সম্ভব।বিচার বিভাগের ধুয়াশার ফলে আইন অমান্য করেও সহজে পার পেয়ে যাওয়ায় অপরাধ কে আর্টে পরিনত করার যে প্রবণতা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে পড়েছে,মস্তিষ্কে মগজের যে ঘুণপোকা বাসা বেঁধেছে তা খুব দ্রুত আমাদেরকে অনিবার্য পতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমাদের প্রচলিত সমাজ ব্যাবস্থাই মূলত এ ধরনের পৈশাচিক কর্মকান্ডের জন্য দায়ী।সাংবাদিকরা যদি জাতির বিবেক হয় আর সে বিবেক কে ধ্বংস করতে যদি প্রতিযোগীতা চলে তবে একে পৈচাশিকতা ছাড়া আর কিই বা বলা চলে।
জংগীদের অনবরত হুমকি এখন গণমাধ্যমের গা-সওয়া হয়ে গেছে,প্রায়শই তাদের রোষের মুখে পড়ে আহত, নিহত হন সাংবাদিকরা।বিচারিক ব্যবস্থার ধীরগতির ফলে বারবার হামলার স্বীকার হয়েও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবে ঝুঁকির মধ্যেই থেকে যাচ্ছি আমরা।
তদুপরি সরকারের বিশেষ মদদপুষ্ট শ্রেনীর তোপের মুখে গণমাধ্যম এর অবস্থা মৃতপ্রায় নদীর মত।আর মদদপুষ্ট শ্রেনীর বিচারের আশা করা নিরেট নির্বুদ্ধিতা বৈ আর কিছু নয়।তাদের বিচারের কথা শুনে হয়তো পুরান ঢাকার ঘোড়াগুলোও হেঁসে উঠবে,গোয়েবলসও লজ্জা পাবে।
গণমাধ্যম খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়,রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য মুক্ত বুদ্ধির চর্চা তথা বাক স্বাধীনতা সর্বপরি গণমাধ্যম এর স্বাধীনতা আবশ্যক।অন্যথায় রাষ্ট্র নানাবিধ ভুলের মধ্যে নিমজ্জিত হতে বাধ্য ফলে অজান্তেই অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে দেশমাতৃকার।
বর্তমানে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে আছে আমাদের মনুষ্যত্ব বোধ এবং তা হয়ে উঠেছে কোনো এক বিরল সম্পদ।এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই বিপদাপন্ন হয়ে পড়বে দেশের সাধারণ জনগণ।কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যদি না থাকে সেই ক্ষেত্রে সাধারণ জনগন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে রাষ্ট্রযন্ত্রের চালকদের কাছ থেকে।ফলে মানুষে মানুষে ভেদাভেদ বাড়বে,বঞ্চনা বাড়বে, কষ্ট বাড়বে, দুর্ভোগ বাড়বে, অধিকারহীনতা বাড়বে,মানুষ পরিণত হবে পশুতে।কারো দুঃখে কেউ ব্যথিত হবে না,দেশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হলেও কেউ প্রতিবাদ করবে না। চিৎকার করে ‘মানি না’ বলবে না। কারও পাশে কেউ এসে দাঁড়াবে না।
আমরা আশায় বুক বেঁধে বেঁচে থাকি,কারণ ভালো কিছুর আশা কামনা করা ছাড়া আমাদের হাতে আর কিছুই নেই।ফিরে আসুক গণমাধ্যমের স্বাধীনতা,ফিরে আসুক মানবিক মূল্যবোধ।কেটে যাক  গণমাধ্যম,গণমাধ্যম কর্মীদের উপর থেকে দুর্যোগের কালো অমানিশা।কেটে যাক বিচার বিভাগের ধুয়াশা।