শুভ জন্মদিন চিত্রনায়ক ফারুক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলা চলচ্চিত্রের মিয়া ভাইখ্যাত চিত্রনায়ক ফারুকের জন্মদিন আজ। তবে জন্মদিন উপলক্ষে নিজে থেকে বিশেষ কোনো আয়োজন রাখেননি ফারুক।

এ বিষয়ে এই অভিনেতা বলেন, ‘আমি জন্মদিন পালন করি না। ১৯৭৫ এর পর আমি কখনোই আমার জন্মদিন পালন করিনি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেষ মুজিবুর রহমান যে দেশে হত্যা হয়ে যায়। সেই দেশে আমার জন্মদিন পালন করি কেমন করে। তাই জন্মদিনেও আমি অন্যান্য দিনের মতোই নরমাল থাকি।'

 

তিনি আরও বলেন, 'কাছের পরিচিত মানুষরা হয়তো কোথাও আয়োজন করলে আমি যাই, একটু কথা বলি। কিন্তু আমি স্বতঃফূর্তভাব থাকি না’।

১৯৪৮ সালে আজকের এই দিনে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা আজগার হোসেন পাঠান। তার শৈশব-কৈশোরও কেটেছে পুরান ঢাকায়। বর্তমানে উত্তরায় নিজ বাড়িতে তিনি বসবাস করছেন। পাঁচ বোন ও দুই ভাইয়ের  মধ্যে তিনি সবার ছোট।

তার ডাক নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। যিনি ফারুক নামেই অধিক পরিচিত। প্রথম জীবনে তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় তার। লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্বঅভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

ফারুক স্কুল জীবন থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি ছয় দফা আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

 

১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’, ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘আলোর মিছিল’ দুটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। ১৯৭৫ সালে গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

সে বছর লাঠিয়াল চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য সেরা পার্শ্বঅভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করনে।

এরপরে ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত ‘সূর্যগ্রহণ’, মাটির মায়া ও নয়নমনি চলচ্চিত্র তিনটি মুক্তি পায়।

পরের বছর শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কালজয়ী উপন্যাস সারেং বৌ অবলম্বনে নির্মিত সারেং বৌ ও আমজাদ হোসেন পরিচালিত 'গোলাপী এখন ট্রেনে' চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা।

১৯৭৯ সালে তার অভিনীত ‘নাগরদোলা’, ‘দিন  যায় কথা থাকে’, ‘কথা দিলাম’, ‘মাটির পুতুল’, ‘সাহেব’, ‘ছোট মা’, ‘এতিম’, ‘ঘরজামাই’ চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসা সফল হয়। ১৯৮০ সালে ‘সখী তুমি কার’ এবং ১৯৮৭ সালে ‘মিয়া ভাই’, চলচ্চিত্রে সাফল্যের পর চলচ্চিত্রাঙ্গনে মিয়া ভাই হিসেবে তিনি পরিচিত লাভ করেন।

কিংবদন্তি এই অভিনেতা অভিনয়ে অসামান্য অবদানের জন্য ২০১৬ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মাননা পান।

চলচ্চিত্রের বাইরে ফারুক একজন ব্যবসায়ী হিসেবেও যথেষ্ট সুনাম রয়েছে এই অভিনেতার।