রাজধানীতে ৭৫ লাখ জাল টাকা ও সরঞ্জাম উদ্ধার

August 19, 2018, 2:00 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রাজধানীতে জাল টাকা তৈরি চক্রের ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম নগরীর লালবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে শুক্রবার তাদেরকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- কাউসার হামিদ, আলাউদ্দিন, নজরুল ইসলাম, মো. মোস্তফা, মো. সোহেল, মো. মজিবুর রহমান ওরফে বাদশা, মো. সজীব হোসেন ও মোছা. সালেহা বেগম। এসময় ওই চক্রের কাছ থেকে ৭৫ লাখ জাল টাকার নোট ও জাল টাকা তৈরিতে ব্যবহৃত ১টি ল্যাপটপ, ২টি কালার প্রিন্টার, টাকা তৈরির বিভিন্ন কাগজ, প্রিন্টার কালি, স্কীন বোর্ড, জাল টাকায় ব্যবহৃত ফয়েল পেপার উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য দিয়েছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার আব্দুল বাতেন। সংবাদ সম্মেলনে বাতেন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি জালটাকা তৈরির মূলহোতা কাউসার হামিদ।


সে তার অন্যতম সহযোগী আলাউদ্দিনসহ অন্যরা লালবাগের ৪ নং এমসি রায় লেনের একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরির কাজ করে আসছিলেন। আসামি সজীব ও মোছা: সালেহা জাল টাকা তৈরির কাগজে জলছাপ, নিরাপত্তা সুতা স্থাপন করতো। কাউসার হামিদের জাল টাকা তৈরির হাতেখড়ি হয় তারই বড় ভাইয়ের সঙ্গে। তার বড় ভাই জাল টাকা তৈরিতে পারদর্শী ছিল। সে অনেক আগে থেকেই জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত ছিল। পরবর্তীতে ২০০৪ সাল থেকে কাউসার নিজেই জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ব্যবসা শুরু করে। জাল টাকা তৈরির জন্য এর আগেও সে একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে ফের একই কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। বাতেন আরো বলেন, দেশে যেকোনো ধরনের বড় উৎসব যেমন, রমজানের ঈদ, কোরবানির ঈদ, দুর্গাপূজা ইত্যাদি অনুষ্ঠানকে টার্গেট করে আসামিরা ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাদের সহযোগীদের মাধ্যমে জাল টাকা সরবরাহ এবং বিক্রি করে। জাল ১ লাখ টাকা তৈরি করতে খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। পরবর্তী সময়ে সে পাইকারি বিক্রেতার কাছে ১ লাখ টাকা ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করে। পাইকারি বিক্রেতা ১ম খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রয় করে ২০-২৫ হাজার টাকা, ১ম খুচরা বিক্রেতা ২য় খুচরা বিক্রেতার কাছে বিক্রয় করে ৪০-৫০ হাজার টাকায় এবং ২য় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই টাকা সমমূল্যে অর্থাৎ আসল এক লক্ষ টাকায় বিক্রয় করে। মাঠ পর্যায়ে কর্মীরা বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য/দ্রবাদি ক্রয়ের মাধ্যমে এই জালনোট বাজারে বিস্তার করে থাকে।