পানির দরে চামড়া

August 25, 2018, 2:40 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সিলেটের চামড়া ব্যবসায়ীরাও এবার লোকসানের মুখে। ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে পাওনা না পাওয়ার কারণে তারা চাহিদামতো চামড়া কিনতে পারেননি। লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চামড়া তারা ক্রয় করেছেন। আর চামড়ার দাম ছিল গেল কয়েক বছরের তুলনায় খুবই কম। এ কারণে হতাশ চামড়া সংগ্রহকারী ও ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন- সিলেটে লক্ষাধিক চামড়া সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবার।

কিন্তু পুঁজির অভাবে তারা প্রায় ৫০ হাজার চামড়া কিনেছেন। বাকি চামড়াগুলো অবিক্রীত অবস্থায় পড়ে আছে। তারা বলেন- সিলেটের চামড়া ব্যবসায় এতো ধস বিগত ২০ বছরেও দেখা যায়নি। এবার ১৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে। এর বেশি দাম খুব কম পরিমাণে চামড়ায় দেখা যায়। সিলেটে কোরবানির ঈদের দিন চামড়া কেন্দ্রিক ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া ক্রয় করে একটু বেশি দামে ব্যবসায়ীদের কাছে ওই চামড়া বিক্রি করেন। কিন্তু এবার মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন লোকসানের মুখে। তারা যে দামে চামড়া ক্রয় করেছেন তার অর্ধেক দামও বিক্রিতে পাননি। মৌসুমী ব্যবসায়ী কেরামত আলী, আবদুল আলীসহ কয়েকজন মানবজমিনকে জানিয়েছেন- প্রতি বছর তারা বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া ক্রয় করে এনে ব্যবসায়ীদের কাছে একটু বেশি দামে বিক্রি করেন। এতে তাদের আয় হতো। কিন্তু এবার চামড়ায় টাকা বিনিয়োগ করে তারা অর্ধেক লোকসানের মধ্যে পড়েছেন। আর নগদ দামে ব্যবসায়ীরা চামড়া ক্রয় করতে চাননি। কিনলেও চামড়ার দাম তারা দেননি। সিলেটের শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি শামীম আহমদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ট্যানারি মালিকদের কাছে তাদের প্রচুর টাকা পাওনা পড়ে আছে। মালিকরা ঈদের আগে পাওনা পরিশোধের কথা বললেও তারা টাকায় দেয়নি। এতে করে ব্যবসায়ীরা পুঁজির সংকটে পড়েন। তিনি বলেন- সিলেটে এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অর্ধেক চামড়া ক্রয় করেছেন তারা। সিলেটের গাজী বুরহান উদ্দিন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- প্রতি বছর কোরবানির ঈদে স্থানীয়রা তাদের কোরবানির পশুর চামড়া মাদরাসার এতিমখানায় দান করে থাকেন। আর ওই চামড়া বিক্রি করে এতিমখানায় আয় হতো। কিন্তু এবার আর চামড়ায় দাম পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরাও চামড়া কিনতে অনীহা প্রকাশ করেন। সিলেটের শাহজালাল চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি শাহীন আহমদ জানিয়েছেন- সিলেটের তিন শতাধিক চামড়া ব্যবসায়ীর মধ্যে বেশির ভাগই এ বছর ক্ষতির আশঙ্কায় চামড়া কেনেননি। এই সুযোগে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা কম দামে চামড়া কিনে নিয়েছেন। কম দামে কিনলেও তারা লাভ করতে পারবেন তা এখনো নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।