ট্রাফিক সচেতনতায় শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত

August 29, 2018, 6:18 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম


   সড়কে দুর্ঘটনা রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে সরকার এবার সারা দেশের শিক্ষার্থীদের (স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর সারা দেশে একযোগে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন নিয়ে রাস্তায় অবস্থান করবেন। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতনা সৃষ্টি, শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের দিকনির্দেশনা দেয়া, জুমার নামাজের আগে মুসল্লিদের অবহিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে মাঠ প্রশাসনসহ সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন গতকাল মানবজমিনকে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার জন্য শুধু চালকরাই দায়ী না। যাত্রী, পথচারী, সড়কের অব্যবস্থাপনা, ট্রাফিক নিয়মকানুন সম্পর্কে অনভিজ্ঞ, সচেতনতাসহ আরো কিছু বিষয় দায়ী। দুর্ঘটনা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব নয়; তবে সচেতনা সৃষ্টির মাধ্যমে কমিয়ে আনা সম্ভব।
সে কারণেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। সচিব স্বাক্ষরিত নির্দেশনাটি মাঠ প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, স্কাউটসের সঙ্গে সমন্বয় করে আগামী ৩০শে সেপ্টেম্বর সারা দেশে একই সময়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পার্শ্ববর্তী সড়ক-মহাসড়কে সকল শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক স্লোগান সম্বলিত ফেস্টুন স্বল্প সময়ের জন্য প্রদর্শন করতে হবে।

 

প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অভিভাবক ও মা সমাবেশের মাধ্যমে সচেতনতা বাড়াতে হবে। চিঠির সঙ্গে স্কাউটসের তৈরি করা একটি লিফলেট দেয়া হয়েছে। সচেতনতা সৃষ্টিতে লিফলেটটি ফটোকপি করে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা। লিফলেটে উল্লেখ করা বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দিতে শিক্ষকদের শ্রেণি কক্ষে নির্দেশনা দেয়া। সকল শিক্ষক প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সেশন অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। স্কুলের প্রতিদিনের সমাবেশে সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে শিক্ষকরা এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশসহ অভিজ্ঞ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিবে। লিফলেটের বিষয়ে শিক্ষার্থীদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করা। পোশাকধারী স্কাউট, রোভার স্কাউট ও গালর্স গাইডদের মাধ্যমে পথচারীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা। শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে তাদের অভিভাবকদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করা। লিফলেটে উল্লেখ করা ট্রাফিক নিয়ম-কানুন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে অভিভাবকদের পরিস্কার ধারণা দেয়া। অভিভাবকরা বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন মর্মে লিফলেটের নির্ধারিতে স্থানে স্বাক্ষর করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফেরত পাঠাতে হবে।

 

ঈদুল আজহার ছুটি শেষে ক্লাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ৩০শে সেপ্টেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করতে হবে। এ কার্যক্রমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটিকে সম্পৃক্ত করতে হবে। এ ছাড়া প্রত্যেক মসজিদে ইমামদের মাধ্যমে এই লিফলেটের বিষয়ে মুসল্লিদের জুমার নামাজের পূর্বে অবহিত করা। মাঠপর্যায়ে কার্যক্রমটি সফল করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও বিভাগীয় কমিশনার সমন্বয় করবেন। ইউএনও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রতিটি পৌরসভা ও ইউনিয়নে ট্যাগ অফিসার হিসেবে দায়িত্ব দিবেন। উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাকর্মকর্তা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কার্যক্রম সমন্বয়ে যোগাযোগের মাধ্যমে ইউএনওকে সহযোগিতা করবেন। ট্রাফিক নিয়ক-কানুন ও সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনা সৃষ্টিতে কতজন অভিভাবককে সম্পৃক্ত করা হয়েছে ৭ই অক্টোবরের মধ্যে প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠাতে হবে। জেলা প্রশাসকরা সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সমন্বিত প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পাঠাতে হবে। চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, সড়ক দুর্ঘটনা জন্য অননুমোদিত ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, লাইসেন্সবিহীন ও অনভিজ্ঞ ড্রাইভার যেমন অনেকাংশে দায়ী, একইভাবে পথচারী এবং যাত্রীরা ট্রাফিক নিয়ককানুন সম্পর্কে অজ্ঞতা ও অসচেতনতাও দায়ী। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বাংলাদেশ স্কাউটসের সদস্যরা সড়ক নিরাপত্তায় বিষয়ে যে ভূমিকা রেখেছেন তা সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য ছাত্র-ছাত্রীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে সড়ক নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষেয় সচেতনা তৈরির উদ্যোগ নেয়া হলে এ প্রচেষ্টা আরো বেশি টেকসই ও ফলপ্রসূ হবে।

 

 প্রধানমন্ত্রীও এ বিষয়ে স্কাউটদের অধিকতর মাত্রায় সম্পৃক্ততার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। এরই আলোকে স্কাউটস ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে সচেতনা তৈরির জন্য এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অপরদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকেও একই নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনা সৃষ্টি করতে নিরাপদ সড়কের বিষয়ে বির্তক প্রতিযোগিতা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে বলা হয়েছে। লিফলেটের পাশাপাশি অনলাইনে বাংলাদেশ স্কাউটস এর ইউটিউব চ্যানেল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং শিক্ষক বাতায়ন ও কিশোর বাতায়নে সচেতনামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।

লিফলেটে যা রয়েছে: বাংলাদেশ স্কাউটসের তৈরি করা চার পৃষ্ঠার লিফলেটে গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক সাইন (চিহ্ন)  দেয়া হয়েছে। চিহ্নগুলো দেখে যাতে নিরাপদে সড়কে চলাচল করতে পারে সেজন্য ইউটিউব ও ফেসবুকের লিংক যুক্ত করা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনার কারণ, পথচারীদের দায়িত্ব, যাত্রী হিসেবে দায়িত্ব, গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব, মোটরসাইকেল চালকের দায়িত্ব, যানবাহন মালিকের দায়িত্ব, অভিভাবক ও শিক্ষকের দায়িত্ব শিরোনামে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে লিফলেটটিতে।