এমপিওভুক্ত হবেন দারুল ইহসানের সনদধারীরাও

August 29, 2018, 6:22 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম


  সারা দেশে অবৈধ আউটার ক্যাম্পাস খুলে সনদ বিক্রিসহ নানা অভিযোগে বন্ধ হওয়া দারুল ইহসানের সনদের বৈধতা দিলো খোদ শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিতর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের বৈধতা দিয়ে এমপিওভুক্ত করার জন্য মাউশিকে নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর এ কাজটি সম্পূর্ণ অগোচরে করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখা। গতকাল এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়  থেকে অর্জিত সনদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য করা হবে এবং নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে।

 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার সময় সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়। তার মধ্যে অন্যতম ছিল দারুল ইহসান কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যায়ে পড়ে না।
যেটি কোনো বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে পড়ে না সে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদ কীভাবে বৈধতা দেয়া যায়? এমন প্রশ্ন তুলে কর্মকর্তারা বলছেন, এখানে বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন হয়েছে।

এ ব্যাপারে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) জাবেদ আহমেদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রায় তিন হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারছিল না মাউশি। এর ফলে এসব শিক্ষক-কর্মচারী এমপিওভুক্তির সুযোগ পাবে। তিনি বলেন, এটা সবার জন্য প্রযোজ্য না। যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত তাদের জন্য প্রযোজ্য।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কোর্টের রায়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হওয়ার পর প্রায় তিন হাজার বেসরকারি শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তি বিষয়টি আটকে যায়। এ আদেশে শুধু এসব শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত এসেছে। দারুল ইহসানের সনদ দিয়ে এখন নতুন করে কেউ এমপিওভুক্ত হতে চাইলে সেটা অসম্ভব।  
গতকালের আদেশে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা সনদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি/ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে এবং ওই সনদের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে বিধিমোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওভুক্ত সংক্রান্ত সব কার্যক্রম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গ্রহণ করবে।

 

জানা গেছে, ২০০৬-২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৩টি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের ১৩ই এপ্রিল হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। রায়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এই নামে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের অনুমতি না দেয়ার জন্য সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়। রায়ে বলা হয়, দারুল ইহসান কোনো বিশ্ববিদ্যালয় নয়। রায় প্রকাশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের এমপিওভুক্তিতে জটিলতা তৈরি হয়। নতুন এমপিভুক্তির জন্য আবেদনকারীদের এমপিওভুক্তি বন্ধ হয়ে যায়। ইনডেক্সধারী শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন প্রতিষ্ঠানে উচ্চতর পদে এমপিওভুক্ত হতে পারছেন না। ফলে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। জটিলতা নিরসনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গত বছর ১২ই অক্টোবর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ক্ষেত্রে রায়ের আগে অর্জিত সনদধারীদের গ্রহণযোগ্যতা দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগকে চিঠি দেয়। সম্প্রতি বদলি হওয়া মাউশির উপ-পরিচালক (মাধ্যমিক) নিজ উদ্যোগে এ চিঠি দেন। চিঠি আমলে নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দারুল ইহসানের সনদের বৈধতার ব্যাপারে মতামত চায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে। কমিশন আদালতের রায় এবং সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রণালয়কে সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মতামত দেয়। এরপর গতকাল বিতর্কিত এ আদেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ।