এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে আমানত দাঁড়িয়েছে ২০১২ কোটি টাকা

August 30, 2018, 4:17 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

 

   জনপ্রিয়তা বেড়েই চলেছে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবার। ফলে ব্যাংকিং সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য চালু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের প্রসার দ্রুত হচ্ছে। গ্রাহক সংখ্যা ও লেনদেন অর্থের পরিমাণ উভয়ই বাড়ছে। আমানতের প্রবৃদ্ধিও বাড়ছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, গত ৩০শে জুনের পর এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা হিসাবে মোট জমার পরিমাণ (আমানত) দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ১২ কোটি টাকা। তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চের শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে মোট জমার পরিমাণ (আমানত) ছিল এক হাজার ৬৩৪ কোটি টাকা।
এসব অ্যাকাউন্টে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২৩.১৫ শতাংশ। এ ছাড়া জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক দাঁড়িয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ জন। বাংলাদেশ ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং বিষয়ে হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ জন। এসব হিসাবে জমাকৃত অর্থের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩৯৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। আর সর্বশেষ গত ৩০শে জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট বা হিসাবে মোট জমার পরিমাণ (আমানত) দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এসব অ্যাকাউন্টে আমানতের প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় দ্বিগুণ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছরের জুন পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৭ ব্যাংকের মাধ্যমে মোট ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৪০০ জন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। এর মধ্যে গ্রামের মানুষ ১৫ লাখ ৪০ হাজার ৩৭৭ জন। গত জুন পর্যন্ত শহরে দুই লাখ ৩৭ হাজার ২৩ জন ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। অর্থাৎ শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে খোলা ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় সাড়ে ছয় গুণ। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের জন্য ১১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৪ জন পুরুষ ব্যাংক হিসাব খুলেছেন। ব্যাংক হিসাব খোলা নারী রয়েছেন ছয় লাখ ৯ হাজার ৮২৪ জন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালের জুন শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে গ্রাহক ছিল আট লাখ ৭২ হাজার ৮৬৫ জন। এই হিসাবে গত একবছরে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নতুন গ্রাহক হয়েছেন ৯ লাখ চার হাজার ৫৩৫ জন। আর গত তিন মাসে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নতুন গ্রাহক হয়েছেন তিন লাখ আট হাজার ৬০৩ জন। মার্চ শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক ছিলেন ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭ জন। ছয় মাসের ব্যবধানে নতুন গ্রাহক হয়েছেন পাঁচ লাখ ৬৩ হাজার ৩৩ জন।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে নিবন্ধিত গ্রাহক ছিলেন ১২ লাখ ১৪ হাজার ৩৬৭ জন। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে এজেন্ট ব্যাংকিং চালু করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৩ সালের ৯ই ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারির পর ২০১৪ সালে প্রথম এ সেবা চালু করে ব্যাংক এশিয়া। অর্থনীতিবিদরা বলেন, ব্যাংকিং খাত ও সরকারি সহযোগিতার কারণে গ্রামীণ অর্থনীতিতে একধরনের পুনর্জাগরণ ঘটেছে। আর এটা সম্ভব হয়েছে ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুসন কর্মসূচি হাতে নেয়ার কারণে। টাকা যাতে গ্রামের মানুষের হাতে সহজে পৌঁছায় সেই ব্যবস্থা নেয়া হয়। এজন্য পেমেন্ট সিস্টেমকে আধুনিক করা হয়। আগে চেক দিলে টাকা জমা হতে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় লাগতো। এখন সেটি কয়েক সেকেন্ডে জমা হয়। যেখানে ব্যাংক কখনও যেতে পারেনি, সেখানে এজেন্ট ব্যাংকিং কাজ করছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিন হাজার ৫৮৮টি এজেন্টের আওতায় ৫ হাজার ৩৫১টি আউটলেটের মাধ্যমে সারা দেশে এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে ব্যাংক এশিয়া, মধুমতি ব্যাংক ও এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংক এশিয়ার দুই হাজার ২৪২টি আউটলেটের মধ্যে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের সংখ্যা এক হাজার ৮২৮টি। তিন মাস আগে অর্থাৎ মার্চে তিন হাজার ২১৬ এজেন্টের আওতায় আউটলেট ছিল চার হাজার ৯০৫টি।

জানা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে গ্রাহক তার চলতি হিসাবে সর্বোচ্চ চারবার ২৪ লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ দুটি লেনদেনে ১০ লাখ টাকা উত্তোলন করতে পারেন। সঞ্চয়ী হিসাবে সর্বোচ্চ দুবার আট লাখ টাকা নগদ জমা এবং সর্বোচ্চ তিন লাখ টাকা করে দুটি লেনদেনে ছয় লাখ টাকা তুলতে পারেন। তবে রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রে উত্তোলনসীমা প্রযোজ্য হয় না। দিনে দুবার জমা ও উত্তোলন করা যায়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ঋণ বিতরণও হচ্ছে। বেসরকারি খাতের ছয়টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোট ১৩৭ কোটি ৩২ লাখ ৯৪ হাজার টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে শহর অঞ্চলে ঋণ বিতরণ করা হয়েছে ২৩ কোটি ৭৮ লাখ ৭৮ হাজার টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ঋণ বিতরণ হয়েছে ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ ১৬ হাজার টাকা।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এ পর্যন্ত ২০টি বাণিজ্যিক ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ব্যাংক মাঠপর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ব্যাংকগুলো হলো এনআরবি ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, দ্য সিটি ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড।