স্থিতিশীল সবজি বাজার বেড়েছে আদার দাম

September 1, 2018, 1:24 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

   রাজধানীর কাঁচাবাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরেছে। গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কাঁচাবাজার ছিল অনেকটাই স্থিতিশীল। তবে, শীতকালীন আগাম সবজির দাম একটু বেশি। এছাড়া দাম বেড়েছে আদার। রাজধানীর কাওরান বাজার, সেগুনবাগিচা এবং হাতিরপুলসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
বিক্রেতারা জানান, ঈদের পর ক্রেতা-বিক্রেতা বাড়ায় অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে এসেছে কাঁচাবাজার। তবে, সবজির সরবরাহ বাড়লেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি।
ফলে ঈদের আগের তুলনায় সব সবজিই কিছুটা কম দামে বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচাবাজারে বেশিরভাগ সবজি ৩০-৪০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। তবে, ঈদের আগের মতো এখনো শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপি ও পাতাকপি চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে। বেশি দামেই বিক্রি হচ্ছে শীতের আগাম সবজি শিম। বাজার ও মানভেদে প্রতিকেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ১২০-১৪০ টাকা। আর টমেটো বাজার ও মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকা কেজি। ঈদের আগেও একই দাম ছিল। চড়া দামে বিক্রি হওয়া আর এক সবজি গাজর, যা ৮০-১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে ছোট আকারের প্রতিপিস ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০-৩৫ টাকা। আর পাতাকপি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা পিস। ঈদের আগে চড়া দামে বিক্রি হওয়া বেগুনের দাম সব থেকে বেশি কমেছে। মান ও বাজারভেদে বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ৬০-৮০ টাকা। এছাড়া দাম কমার তালিকায় রয়েছে বরবটি, কাকরল, করলা, পটোল, ঝিঙা, ধুন্দল, ঢেঁড়স ও লাউ।
ঈদের আগে ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া চিচিংগা, পটোল, ঝিঙা, ধুনদল, কাকরল বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ টাকা কেজি। পেঁপে আগের মতো ২০-৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ৪০-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া করলার দাম কমে নেমেছে ২৫-৩৫ টাকায়। ঢেড়স বাজার ভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকা কেজি। ঈদের আগে এ সবজিটির দাম ছিল ৪০ টাকার ওপরে। আর ঈদের আগে ৫০-৬০ টাকা পিস বিক্রি হওয়া লাউয়ের দাম কমে ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচামরিচের দামও কিছুটা কমেছে। ঈদের আগে ৩০-৩৫ টাকা পোয়া (২৫০ গ্রাম) বিক্রি হওয়া কাঁচামরিচের দাম কমে ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম কমেছে পিয়াজেরও। ৫৫-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি পিয়াজের দাম কমে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকা কেজি। আর আমদানি করা পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা কেজি, যা ঈদের আগে ছিল ৩৫-৪০ টাকা।
কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী আতিক বলেন, বাজারে বেশিরভাগ সবজির দাম কমলেও শিম, টমেটো, গাজর, ফুলকপির দাম চড়াই রয়েছে। কারণ এসব সবজির আলাদা চাহিদা রয়েছে। আবার বাজারে তুলনামূলক সরবরাহও কম। শীতের সবজি পুরোপুরি বাজারে না আসা পর্যন্ত এসব সবজির দাম কমার খুব একটা সম্ভাবনা নেই। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, চাহিদা বেশি থাকার কারণে টমেটো ও গাজরের দাম কমেনি। তিনি বলেন, অনেকে সবজি পছন্দ করে। এ ধরনের ক্রেতাদের বাজারে নতুন আসা সবজির প্রতিই চাহিদা বেশি থাকে। শিম ও কপির ক্ষেত্রেও এখন এটাই দেখা যাচ্ছে। ফলে এ সবজির দাম চড়া।
এদিকে, বাজারে সাদা বয়লার মুরগি ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা ঈদের আগে ১৫০-১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। ঈদের আগে ২৫০ টাকার ওপরে বিক্রি হওয়া লাল লেয়ার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০-২২০ টাকা কেজিতে। আর ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৯০-৯৫ টাকা ডজন, যা ঈদের আগে ১০০ টাকার বেশি ছিল।
মুরগি ব্যবসায়ী মান্নান বলেন, ঈদের আগে সাদা বয়লার মুরগি বিক্রি করেছি ১৫০ টাকা কেজিতে। এখন সেই মুরগি ১২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি করছি। অধিকাংশ মানুষের বাসায় ফ্রিজে কোরবানির মাংস মজুত রয়েছে। ফলে মুরগির চাহিদা অনেক কম। এ জন্যই দাম কিছুটা কমে গেছে। ডিম ব্যবসায়ী সাদেক বলেন, ঈদের আগে ডিমের ডজন ছিল ১১০ টাকায়। এখন ৯০ টাকা। ঈদের পর ডিমের চাহিদা কিছুটা কমেছে। ফলে দামও কিছুটা কম।
এদিকে, বাজারগুলোতে বেড়েছে আদার দাম। গত সপ্তাহ থেকে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা বেড়েছে আদার দাম। গত সপ্তাহে প্রতিকেজি আদার দাম ছিল ১০০ থেকে ১৪০ টাকা। গতকাল হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।