বিমান বিধ্বস্তের পর ইউটিউবে প্রকাশিত রেকর্ডের আংশিক সত্যতা মিলেছে

March 22, 2018, 3:57 pm নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটির পাইলটের সঙ্গে নিয়ন্ত্রণকক্ষের প্রকাশিত কথোপকথনের রেকর্ডের আংশিক সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বিমান বিধ্বস্তের পর চার মিনিটের রেকর্ডটি ইউটিউবে প্রকাশিত হয়ে পড়ে, সেটি পরীক্ষা করে এ তথ্য জানানো হয়। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটি থেকে উদ্ধার হওয়া ব্ল্যাকবক্স থেকে তথ্য সংগ্রহের জন্য তা এপ্রিল মাসে কানাডায় পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তদন্ত কমিটির।

এ প্রসঙ্গে সিভিল এভিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউটিউবে যে রের্কড প্রকাশিত হয়েছে তার মিল পুরোপুরি পাওয়া যায়নি। টাওয়ারেও কথোপকথনের রেকর্ড হয়। সেটি তদন্ত কমিটি পরীক্ষা করেছে, সেটার সঙ্গে ইউটিউবে যে রের্কড প্রকাশিত হয়েছে তার আংশিক মিল আছে। তবে এতে কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। ব্ল্যাকবক্সের রেকর্ড ও টাওয়ারের রেকর্ড দু’টোকে মিলিয়ে দেখলেই সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব।’

সিভিল এভিয়েশন সূত্রে জানা গেছে, নেপালে তদন্ত কমিটি পাইলটের লগবই, পাইলট লাইসেন্স, কো-পাইলটের ফ্লাইংয়ের অনুমতিসহ পাইলট সংক্রান্ত  সব তথ্য এবং উড়োজাহাজের ক্রয়, মেরামত ও উড়োজাহাজ সংক্রান্ত অন্যান্য সব তথ্য চেয়েছে। সেসব তথ্য নেপালে নিয়ে যান এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি)-এর প্রধান ক্যাপটেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ। বর্তমানে তদন্ত কমিটি নেপালের ত্রিভুবন বিমানবন্দরের নিয়ন্ত্রণকক্ষের কথোপকথনের রেকর্ড বিশ্লেষণ করছেন। একই সঙ্গে ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের জন্য ‘এক্সপার্ট’ খুঁজছেন তদন্ত কমিটি। এ প্রক্রিয়া শেষ হলে এপ্রিলে ব্ল্যাকবক্সটির তথ্য উদ্ধারের কাজ শুরু হবে। যেহেতু উড়োজাহাজটি কানাডায় তৈরি, তাই কানাডায় ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের জন্য তা পাঠানোর কথাও ভাবছে তদন্ত কমিটি।

জানা গেছে, এ দুর্ঘটনার তদন্তে নেপালের সরকার ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। বাংলাদেশ থেকেও তদন্তে যুক্ত হয়েছেন ছয় সদস্যের একটি দল। ১৮ মার্চ তদন্ত কাজে যোগ দিতে বাংলাদেশে থেকে নেপালে যান এয়ারক্রাফট এক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন গ্রুপ অব বাংলাদেশ (এএআইজি-বিডি) প্রধান ক্যাপটেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ।

নেপাল থেকে টেলিফোনে এএআইজি-বিডি প্রধান ক্যাপটেন সালাহ্উদ্দিন এম রহমতুল্লাহ  বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয় সামনে নিয়ে আমরা এগুচ্ছি। নেপাল তদন্তের বিষয়ে আন্তরিক।  ব্ল্যাকবক্সের তথ্য উদ্ধারের জন্য আমরা অপেক্ষা করছি। এখনই কোনও সিদ্ধান্তে আসার সময় আসেনি।’

এদিকে ভয়েস রেকর্ড ইউটিউবে প্রকাশের পর থেকেই বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কারণ নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এসেছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স ও ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দাবি, পাইলটের ভুলেই বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। আর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া হচ্ছিলো তাদের।

নেপালের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নেপাল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে ওই কথোপকথনের অডিও রেকর্ডটি প্রকাশ করা হয়। কথোপকথনের অডিও রেকর্ড থেকে বিমানবন্দরের রানওয়ের অবতরণের বিষয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়। ইউএস বাংলার পাইলটের সর্বশেষ কথাটি ছিল, ‘স্যার, আমরা কি নামতে পারি?’ কিছুক্ষণ নীরবতার পর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে উচ্চস্বরে সতর্ক করে বলা হয়, ‘আমি আবার বলছি, ঘুরুন এখুনি।’ এরপর কিছুক্ষণের নীরবতা। তারপরই বিকট শব্দে বিধ্বস্ত হয় উড়োজাহাজটি।

প্রসঙ্গত, ১২ মার্চ সোমবার নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ যাত্রী নিহত হন। এর মধ্যে ২৬ জন বাংলাদেশি।