বেপরোয়া মোটরসাইকেল,সড়কে লাশের মিছিল,"গতিই আমাদের কাছে মুখ্য,জীবন নয়"

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

মানুষের নিত্য প্রয়োজনীয় যানবাহনগুলোর মধ্যে মোটরসাইকেল বড় একটি ক্ষেত্র দখল করে আছে।যুব সমাজের কাছে মোটর সাইকেলের জনপ্রিয়তা ব্যাপক।দ্বি-চক্র এ যানের জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থান এর প্রধান কারন এর দ্রুত গতি।আর এই গতিই প্রতিনিয়ত কেড়ে নিচ্ছে অসংখ্যা তাজা প্রাণ।এ সকল দুর্ঘটনার ফলে হাজারো পিতা-মাতা পরিণত হচ্ছে জীবন্ত লাশে।স্তব্ধ হয়ে যাচ্ছে অসংখ্যা পরিবারের সুখ-শান্তি।যেসব পরিবার তাদের প্রিয়জনকে হারায় তারাই জানে স্বজন হারানোর বেদনা কত নির্মম, কতটা কঠিন।আমরা সাধারণ জনগন নির্বাক দর্শক এর মত শুধু দেখেই যাচ্ছি লাশের মিছিল।দুর্ঘটনা গুলো এখন আর আমাদের কাঁদায় না।কারন প্রতিনিয়ত এসব দেখতে দেখতে আমরা অভ্যাস্ত হয়ে গেছি।
অনিয়ন্ত্রিত ট্রাফিক ব্যাবস্থা,আইনের শিথিলতা,অদক্ষ ড্রাইভার,অপরিকল্পিত সড়ক ব্যাবস্থাপনা ইত্যাদি সমস্যা গুলোই মূলত এসকল দূর্ঘটনার কারন।অহরহ আমাদের কত কিছুতেই দেরি হয়,সেদিকে আমাদের খেয়াল নেই অথচ সড়কে আসলেই আমরা খুব ব্যাস্ত হয়ে পড়ি।খুব দ্রুত গতিতে যাওয়ার ফলে যে আমরা অনেক অল্প সময়ে গন্তব্যে পোঁছাতে পারছি,ব্যাপারটা এরকম নয়।আস্তে আস্তে চালালে যে খুব বেশি দেরি হয় তাও নয়।তবুও আমরা বেপরোয়া,আমরা কোনো আইন মানতে রাজি নই,গতিই আমাদের কাছে মুখ্য,জীবন নয়।
অল্প বয়সে মোটর সাইকেল হা তে পেয়ে,রক্তের গরমে যে সকল উঠতি বয়সী ছেলেরা নিছক আনন্দের জন্য বেপরোয়া গতিতে বাইক ছুটায়,তাদের এ আনন্দের বলি হতে হয় অনেক সাধারণ মানুষকে।উন্মাদের মত বাইক ছোটানো এ ব্যাক্তি গুলো শুধু যে একা ভোগে তা নয়,তাদের এ কর্মকান্ড অচিরেই পরিবারের কান্নার কারন হয়ে দাঁড়ায়।এ ক্ষতি শুধু তার একার ক্ষতি নয়,এ ক্ষতি পরিবারের ক্ষতি,সমাজের ক্ষতি,সর্বপরি দেশের ক্ষতি।দুর্ঘটনাগুলো চাপ সৃষ্টি করে দেশীয় অর্থনীতির উপর।মোটরসাইকেল নিয়ে অনেক নির্মমতার সাক্ষী হয়েও আমরা নির্বাক।কিছুদিন আগেই সন্তানের হাতে পিতা-মাতা খুন হয়ে গেলো মোটর সাইকেল না দেওয়ার জন্য।এর চাইতে বড় লজ্জা আর কি হতে পারে যখন পিতা-মাতার চেয়ে মোটর সাইকেল বড় হয়ে যায়।
কোনো দুর্ঘটনাই কাম্য নয়,সকল দুর্ঘটনার ক্ষতিই অপূরণীয়।আইনের সঠিক প্রয়োগ,পারিবারিক সচেতনতা সৃষ্টি তথা সরকারকে বিভিন্ন উদ্যেগ গ্রহন করতে হবে দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য।কারন জনগনের স্বাভাবিক মূত্যু নিশ্চিত করার দায় রাষ্ট্রের উপর বর্তায়,রাষ্ট্র সেই দায় কোনো ভাবেই অস্বীকার করতে পারেনা।তবে রাষ্ট্রের পাশাপাশি জনগণ কে ও সতর্ক হতে হবে,আমরা নিজেরা যদি সচেতন না হই, নাগরিক দায়িত্ব পালন না করি, সেই ক্ষেত্রে একক ভাবে রাষ্ট্রের পক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।চালকদের ট্রাফিক আইন জানতে হবে এবং অবশ্যই মানতে হবে।সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে সড়কের এই বেপরোয়া যান চলাচল বন্ধ করতে।ফলশ্রুতিতে হ্রাস পাবে অপমৃত্যুহার,এবং রক্ষা পাবে অসংখ্যা তাজা প্রাণ।