রাজধানীতে নাইট শিফটেও অফিস হতে পারে: সাঈদ খোকন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

যানজট নিরসনে কোরিয়ার সিউল শহরের মতো রাজধানী ঢাকায় দিনের পাশাপাশি রাতের বেলায়ও অফিস আওয়ার শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

তিনি বলেন, ‘এটা খারাপ আইডিয়া না। সিউল শহরের বিভিন্ন করপোরেশন ও সরকারি, আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠান নাইট শিফটে কাজ করে। রাত ৯টা থেকে তাদের শিফট শুরু হয়। সকালে আবার আরও একটি শিফট শুরু হয়। তারা পুরো সময়টাকে ব্যবহার করছে। এ কারণে মানুষের মুভমেন্ট অনেকটা কমে গেছে। তার সুফল তারা ভোগ করছেন। যানজট হচ্ছে না।’

সোমবার রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো ও যানজট নিরসনে বাস রুট রেশনালাইজেশন বিষয়ে গঠিত কমিটির প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রতিক্রিয়া জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এসব কথা বলেন।

সাঈদ খোকন বলেন, ‘সিঙ্গাপুরের একটি কনফারেন্সে সিউল শহরের মেয়রের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তিনি সেখানে অনেক বিষয় শেয়ার করেছেন। তার শহরে বিভিন্ন করপোরেশন ও সরকারি প্রতিষ্ঠান নাইট শিফটে কাজ করে। রাত ৯টা থেকে তাদের রাতের শিফট শুরু হয়। সকালে আবার আরও একটি শিফট শুরু হয়। তারা পুরো সময়টাকে ব্যবহার করছে। এ কারণে মানুষের মুভমেন্ট অনেকটা কমে গেছে। তার সুফল তারা ভোগ করছেন। যানজট হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঢাকা শহরও এখন রাত ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত অনেক অ্যাকটিভ দেখা যায়। ট্রান্সপোর্টগুলো ডিস্ট্রিবিউশন করছে। যদি সরকার মনে করে রাতের বেলায় একটা শিফট কাজ করবে, তাদের যদি পেমেন্ট, সিকিউরিটিজ এবং আসা-যাওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়, তাহলে এই ধারণাটা একেবারেই মন্দ না। আমার ধারণা, এমন একটা বিষয় হতে পারে।’

মেয়র উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি একটা সময় নগরীতে ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ ছিল। কিন্তু এখন সেই অবস্থা নেই। আমাদের দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটের কারণে নারীদের নিরাপত্তাসহ যেকোনও নিরাপত্তা অনেক উন্নত। চুরি-ছিনতাই অনেক কমে এসেছে। এলইডি লাইটের কারণে অনেক দূর থেকে দেখা যায়। আমাদের এলাকায় মোটরসাইকেলের হেডলাইট বন্ধ করে চালানো যাবে! এই অবস্থা থেকে আমরা চিন্তা কারছি, কেউ যদি চায় বা উদ্যোগ নেয় যে রাতে তারা একটা শিফট শুরু করবেন, আমার মনে হয় সেটা খারাপ আইডিয়া হবে না।’

যানজটের অন্যতম কারণ ব্যক্তিগত গাড়ি ও রিকশা। এ দুটি পরিবহন নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘প্রাইভেটকারের বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে আমাদের কোনও নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। এরপরও সিটি করপোরেশনের ম্যান্ডেট এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করার জন্য যে পরিপত্র জারি করে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেই বৈঠকে আমরা এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করবো। সেখানে ব্যক্তিগত গাড়ি ও যত্রতত্র রিকশা এবং লাইসেন্সবিহীন রিকশা নিয়ন্ত্রণে আলাপ-আলোচনা হতেই পারে। সমস্যা থেকেই সমাধানের যাত্রা শুরু হয়।’

সাঈদ খোকন বলেন, ‘আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বিষয়ে কাজ শুরু করবো। পুরো কাজ শেষ করতে দুই বছরের বেশি লাগবে না। আমার মেয়াদকালেই শেষ করতে চাই। আশা করি এর মাধ্যমে শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণ ও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফিরবে।’

এ সময় মেয়রের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মো. বিলাল প্রমুখ।