গ্রামীণ পটভূমি ও লোকজ ধারার ছবি ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে লুপ্তপ্রায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

একসময় বাংলাদেশে গ্রামীণ পটভূমি ও ফোক তথা লোকজ ধারার চলচ্চিত্র ছিল বেশ জনপ্রিয়। নব্বই দশকেও এ ধরনের চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। ব্যবসায়িক লাভের কথা চিন্তা করে নির্মাতারা বেশ আগ্রহ নিয়ে এ ধরনের ছবি নির্মাণ করতেন।

 

কিন্তু কালক্রমে লোকজ ধারার ছবি ঢাকাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে লুপ্তপ্রায়। কালেভদ্রে দু-একটি চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও এখনকার দর্শকরা সেভাবে এসব চলচ্চিত্র নিচ্ছেন না। কিন্তু কেন? বিস্তারিত লিখেছেন এইচ সাইদুল

বাংলাদেশি তথা সার্বজনীন চলচ্চিত্রের বিভিন্ন রকমভেদ রয়েছে। যেমন- সামাজিক, অ্যাকশন, কমেডি কিংবা ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এর মধ্যে কিছু তৈরি হয় শহরকেন্দ্রিক। আবার কিছু গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত।

এরকম ভেদে একসময় সবচেয়ে জনপ্রিয় ছিল গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এ ধরনের চলচ্চিত্রে নিখুঁতভাবে সমাজ ও পরিবেশ-মাটি ও মানুষের কথা চিত্রাকারে নিহিত থাকে।

গ্রামীণ মানুষের জীবনীগাথা এসব চলচ্চিত্রে দুঃখ-কষ্ট-সুখের সঙ্গে দর্শকরা নিজেদের একাত্ম করে নেন বলেই এসব ছবির জনপ্রিয়তা নব্বইয়ের দশকেও ছিল তুঙ্গে। ওই সময় ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করলে দেখা যাবে ১০টি ব্যবসাসফল ছবির মধ্যে অন্তত ৬টিই ফোক ধাঁচের চলচ্চিত্র। বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ছবির ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, এর বড় একটা অংশজুড়ে আছে ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। এক সময়কার জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল চলচ্চিত্রের তালিকা করলে লোকজ ঘরানার নামই আসবে আগে।

বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের সূচনা যুগ অর্থাৎ ১৯৫৬ সাল থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত যেসব ছবি নির্মিত হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাই সে সময়কার গ্রামীণ আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্মিত।

এ সময়কার চলচ্চিত্রগুলোকে একার্থে সামাজিক ফোক ধাঁচের চলচ্চিত্র বলা যায়। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের ধারা প্রচলিত হয় ‘রূপবান’ দিয়ে। ১৯৬৫ সালে পরিচালক সালাহউদ্দিন নির্মাণ করলেন বহুল প্রচলিত লোকগাথা নিয়ে চলচ্চিত্র ‘রূপবান’।

এটি বাংলা ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রগুলোকে ব্যর্থতার গহ্বর থেকে টেনে তুললেন এক নিমিষে। এ দেশের লোককাহিনী, কথামালা, লোকসঙ্গীত ও লোক বিশ্বাসগুলোই এ দেশের মানুষের জীবন ও সংস্কৃতির মূল কেন্দ্রবিন্দু। অসংখ্য লোকগানের মধ্য দিয়ে বিধৃত এ কাহিনী ছিল বাংলার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে।

১২ বছরের রূপবানের সঙ্গে রাজপুত্র রহিম, যে কিনা সদ্য জন্মলাভ করেছে, তার বিয়ের মাধ্যমে এ কাহিনীর বিস্তৃতি লাভ ঘটে। তারপর দৈব বাণীর কল্যাণে ১২ দিনের স্বামী রহিমকে নিয়ে ১২ বছরের রূপবানের বনবাস। রূপবানের বনসংগ্রামী জীবন, রহিম বাদশার বেড়ে ওঠা, অপর রাজকন্যা তাজেলের প্রেমে পড়া, পরিশেষে অমোঘ সত্য প্রকাশিত হওয়ার বিষয়াদিই রূপবান লোককাহিনীর উপজীব্য।

রূপবানের সফলতায় শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের নতুন একটি অধ্যায়। ১৯৬৬ সালে ইবনে মিজান ‘রূপবান’ চলচ্চিত্রের সিক্যুয়ালের মতো করে আবার ‘বনবাসে রূপবান’ নির্মাণ করেন ও ব্যবসায়িক সাফল্য পান।

ঠিক তখন থেকেই চলচ্চিত্রে কিস্তি অর্থাৎ সিক্যুয়াল ধারা শুরু হয়। আবার এ ধারাটির জন্মও কিন্তু লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের মাধ্যমে। এর পর ১৯৬৬ সালে নজরুল ইসলাম ‘আপন দুলাল’, ইবনে মিজান ‘জরিনা সুন্দরী’, সৈয়দ আউয়াল ‘গুনাই বিবি’, আলি মনসুর ‘মহুয়া’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। রূপবান ছবির অর্থনৈতিক সাফল্যের কারণে পরে ফোক ও ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র এ দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাসে একটি স্বকীয় জায়গা করে নিতে সমর্থ হয়েছে।

পরে ১৯৮৬ সালে নির্মিত মতিউর রহমান বাদলের ‘দুলারী’, জিল্লুর রহমানের ‘আয়নামতি’, আবদুস সামাদের ‘শিরি ফরহাদ’, মতিউর রহমান পানুর ‘নাগমহল’, ১৯৮৭ সালে নির্মিত এমএ মালেকের ‘চাঁদ সওদাগর’, এফ কবীর চৌধুরীর ‘বাহাদুর মেয়ে’, আবুল খায়ের বুলবুলের ‘জারকা’, মাহমুদ হান্নানের ‘মালা বদল’, মতিউর রহমান বাদলের ‘চন্দ্রাবতী’, নুর হোসেন বলাইয়ের ‘নাগ কন্যার প্রেম’, ইবনে মিজানের ‘রঙিন রাখাল বন্ধু’, ‘রাজবধূ’, এমএ মালেকের ‘রাজমাতা’, রফিকুল বারী চৌধুরীর ‘চণ্ডীদাশ রজকিনী’, শেখ নজরুল ইসলামের ‘দিদার’, ইবনে মিজানের ‘বাহাদুর নওজোয়ান’, ‘বসন্ত মালতী’, শামসুদ্দিন টগরের ‘সতী কমলা’, মিজান চৌধুরীর ‘রঙিন সাত ভাই চম্পা’, মতিউর রহমান বাদলের ‘শাহ জামাল’, শামসুদ্দিন টগরের ‘মহুয়া সুন্দরী’, আজিজুর রহমানের ‘কাঞ্চন মালা’, শফিউল আলমের ‘অরুণ বরুণ কিরণ মালা’, ১৯৮৮ সালে নির্মিত চাষী নজরুলের ‘বেহুলা লখিন্দর’ ১৯৮৯ সালে একই নির্মাতার ‘সোনার নাও পবনের বৈঠা’, সাইদুর রহমানের ‘আলোমতি প্রেম কুমার’ চলচ্চিত্রগুলোও দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল।

তবে তারও আগে, ১৯৭৫ সালে মুক্তি পাওয়া বাংলাদেশি বাংলা ভাষার রোমান্টিক ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র ‘সুজন সখী’ ব্যবসায়িকভাবে তাক লাগিয়ে দিয়েছিল। প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার খান আতাউর রহমানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ছবিটির কাহিনী ও সংলাপ লিখেছেন আমজাদ হোসেন। পারিবারিক দ্বন্দ্বের কারণে দুই ভাইয়ের আলাদা হয়ে যাওয়া ও তাদের মিলনের গল্প তুলে ধরা হয় এ চলচ্চিত্রে।

এতে নাম চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফারুক ও কবরী। গ্রামীণ লোকগাথায় মৌলিক গল্পভিত্তিক নির্মিত এ চলচ্চিত্রের ‘সব সখীরে পার করিতে নেব আনা আনা’ গানটি এ চলচ্চিত্রকে অন্য মাত্রায় পৌঁছে দেয়। এটি আজও দর্শক মহলে সাড়া জাগানোর দাবিদার।

উল্লেখ্য, ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ ও চিত্রনায়িকা শাবনূরকে নিয়ে পরিচালক শাহ আলম কিরণ ১৯৯৪ সালে ছবিটি পুনর্নির্মাণ করেন। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন সংগ্রামের গল্পে নির্মিত হয় ‘সারেং বউ’।

চলচ্চিত্রটিকে ফোক ঘরানার ছবির তালিকায় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ছবি বলেও থাকেন অনেকে। ছবিতে অভিনয় করেছেন ফারুক, কবরী, আরিফুল হক, জহিরুল হক, বিলকিস, বুলবুল ইসলাম, ডলি চৌধুরী প্রমুখ।

এ ছবিতে আবদুল জব্বারের গাওয়া ‘ওরে নীল দরিয়া’ গানটি আজও মানুষের মুখে মুখে মুখরিত। তবে উপমহাদেশে সবচেয়ে আলোচিত ও ব্যবসাসফল লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্র হচ্ছে তোজাম্মেল হক বকুল পরিচালিত ‘বেদের মেয়ে জোছনা’।

এটি বাংলাদেশের নির্মল প্রেম ও ফোক ঘরানার চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রে এক বিরল ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। ইলিয়াস কাঞ্চন ও অঞ্জু ঘোষ অভিনীত এ চলচ্চিত্রটি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা ব্যবসাসফল ছবি। তা ছাড়া উপমহাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসেও ব্যবসাসফল প্রথম দশটি চলচ্চিত্রের মধ্যে একটি।

পরে আরও বেশ কিছু ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। গল্প ও কাহিনীর দুর্বলতার কারণে অনেক চলচ্চিত্র তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। তবুও কিছু চলচ্চিত্র দর্শকমহলে প্রশংসিত হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকেও লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের প্রতি দর্শকদের আগ্রহ ছিল।

২০০৫ সালে জনপ্রিয় নাট্যনির্মাতা সালাউদ্দিন লাভলু নির্মাণ করেন গ্রামীণ মানুষদের সাধারণ জীবনযাপন ও লোকগাথা নিয়ে ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ নামে ফোক ঘরানার চলচ্চিত্র। সম্পূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক কুসংস্কার বেড়াজালের গল্প নিয়ে নির্মিত হয় এটি।

ছবিতে প্রধান চরিত্রগুলোতে অভিনয় করেন এটিএম শামসুজ্জামান, মৌসুমী, রিয়াজ, শাবনূর ও প্রাণ রায়। এতে হাসি আর কান্নার কিছু রেশ থাকার কারণে, বাংলাদেশের কৌতূহলী দর্শকদের দারুণ আনন্দ দিতে সক্ষম হয়।

২০০৭ সালে একে সোহেল পরিচালিত ‘খাইরুন সুন্দরী’ নামে ফোক ঘরানার একটি চলচ্চিত্রও দর্শকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়। ছবির প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন মৌসুমী। তার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন ফেরদৌস। ছবিটি ওই সময় রেকর্ড পরিমাণ ব্যবসা করে।

একই সঙ্গে ছবিতে মমতাজের গাওয়া ‘খাইরুন লো তোর লম্বা মাথার কেশ’ শিরোনামের গানটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। অজপাড়া গাঁয়ের একজন নারীর প্রতি তার স্বামীর ভালোবাসা ও বিশ্বাস নিয়ে নির্মিত এ ছবিতে গ্রামীণ নারীরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে কেমন করে স্বামীর ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত হয়ে করুণ পরিণতি বরণ করে নেয় তারই একটি গল্প ছিল এখানে।

২০০৯ সালে মুক্তি পাওয়া গিয়াসউদ্দিন সেলিমের ‘মনপুরা’ চলচ্চিত্রটিও লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের ইতিহাসের আরেকটি মাইলফলক। গ্রামীণ পটভূমিতে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটিও ব্যাপক ব্যবসাসফল হয়। এতে অভিনয় করেছেন চঞ্চল চৌধুরী ও ফারহানা মিলি।

এ চলচ্চিত্রের আরেক অভিনেতা ফজলুর রহমান বাবুর কণ্ঠে ‘নিথুয়া পাথারে’ গানটিও এখনও শ্রোতাদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়। বলা চলে, ৬০ থেকে ৯০ দশকে বাংলা চলচ্চিত্রের এমন কোনো জনপ্রিয়, সফল তারকা নেই, যিনি ফোক ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেননি। বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে যত নায়কই সুখ্যাতি অর্জন করেছেন তার অধিকাংশই ফোক ঘরানার চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন।

বর্তমানে বাংলাদেশি চলচ্চিত্রে লোকজ সংস্কৃতি নেই বললেই চলে। কিছু কিছু চলচ্চিত্রে কয়েকটি দৃশ্যে সামাজিক চালচিত্র ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখা গেলেও সেটা একেবারেই অপ্রতুল। গ্রামের সাধারণ মানুষের মণিকোঠায় বেঁচে থাকা রূপকথাগুলোও গ্রামীণ সংস্কৃতির অংশ, মন ও সমাজতাত্ত্বিক নানা ব্যাখ্যা থাকলেও এসব চলচ্চিত্র নির্মাণ ও এর চাহিদা এ দেশে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু এ ধরনের ছবি নির্মাণে বর্তমান নির্মাতাদের মধ্যে কোনো আগ্রহই লক্ষ্য করা যায় না। দু-একটি যা-ও নির্মিত হয় সেগুলোও দেখার মতো হয় না। এখন বাংলাদেশে লোকজ ধাঁচের চলচ্চিত্র নির্মাণের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায়। চলচ্চিত্রের বর্তমান যুগকে লোকজ ঘরানার চলচ্চিত্রের আকাল বলেও উল্লেখ করেছেন অনেকেই।

লোকজ ধারার চলচ্চিত্রের প্রতি নির্মাতা এবং দর্শকদের অনাগ্রহ কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে গুণী নির্মাতা ছটকু আহমেদ বলেন, ‘লোকগাথা ছবি মানে প্রাণের ছবি। এমন ছবি এখন নির্মাণ করার মতো নির্মাতা বা মানসিকতা কারও আছে বলে মনে হয় না। সবাই আধুনিক হয়ে গেছে।

ফোক ধাঁচের ছবি এখনকার দর্শকের কাছে হাস্যকর মনে হয়। এ ধরনের ছবি নির্মাণ করা মানে রীতিমতো গবেষণা করা। আর গবেষণা করার সময় এখন মানুষের নেই। সবাই এখন কপি পেস্টের মধ্যে নিজেদের অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। বর্তমানে যেসব ছবি নির্মিত হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে মাটির গন্ধ, জীবনের রস একেবারেই শূন্যের কাছাকাছি।

এ প্রসঙ্গে ইতিহাস সৃষ্টিকারী ‘বেদের মেয়ে জোছনা’ ছবির নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘একটা ছবির গল্প এবং সে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে কয়েকটি গান একটি ছবিকে সব দিক দিয়ে সফলতা এনে দেয়। আর যে ছবি মাটি মানুষের কথা বলবে সে ছবি অবশ্যই মানুষ দেখবে। আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, মানুষ ফোক ঘরানার ছবিই বেশি দেখে। আর এ যাবৎ জনপ্রিয় অভিনেতারা কিন্তু ফোক ঘরানার ছবিতে অভিনয় করেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।

বর্তমানে নির্মাতাদের উচিত প্রযুক্তিগত সহজলভ্যতা কাজে লাগিয়ে মৌলিক ফোক ফ্যান্টাসি ছবি বানানো। নির্মাতাদের ভাবা উচিত আমাদের দেশে গ্রামের মানুষ এখনও ছবি দেখেন। আর গ্রামের মানুষ মূলত ফোক এবং এ ঘরানার প্রেমের ছবি দেখেন। দর্শকদের চাহিদার কথা ভেবে ফোক ঘরানার ছবি নির্মাণের দিকে নজর দিতে হবে সবাইকে।’

লোকজ ঘরানার ছবি প্রসঙ্গে চিত্রনায়ক ফারুক বলেন, ‘যুগ বদলে গেছে। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বেড়েছে। সে সঙ্গে ছবির ধারাও বদলে গেছে। সবাই এখন মুনাফার চিন্তা করেন। কিন্তু আমি বলব, ব্যবসা সফল ছবি মূলত ফোক ঘরানার ছবিই। হিসাব করলে দেখা যাবে, বেশিরভাগ পরিচালক ও নায়ক-নায়িকা ফোক ঘরানার ছবিতে কাজ করেই সুপরিচিত হয়েছেন। প্রযোজক তার লগ্নি করা টাকা ফোক ছবির মাধ্যমে উঠিয়েছেন।

এসব গোপন কিছু নয়। তবুও চলচ্চিত্রে ফোক ছবির আকাল পড়েছে। এখন লোকগাথা ছবি নির্মাণ করার মতো উপযুক্ত গল্পকার নির্মাতারও অভাব রয়েছে। দর্শকদের চাহিদা থাকলেও লোকগাথা ছবি নির্মিত না হওয়ার এটিও একটি কারণ।’