বাংলাদেশের রাজনৈতিক তথ্যচিত্র নিয়ে আলোচনা বলিউডে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশের রাজনৈতিক তথ্যচিত্র নিয়ে বেশ জোরেশোরে আলোচনা চলছে বলিউডে। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির আলোচনায় রয়েছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে নির্মিত ডকুড্রামা ‘হাসিনা : এ ডটারস টেল’। 

টাইমস অব ইন্ডিয়ার ডেপুটি ফিচার এডিটর প্রিয়াঙ্কা দাশগুপ্তার লেখায় উঠে এসেছে বাংলাদেশের এই ডকুড্রামার কথা যার পরিচালক রেজাউর রহমান খান পিপলু। ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই তথ্যচিত্রের ট্রেলার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকে চলছে আলোচনা। ২ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড ব্যাপ্তির এই ট্রেলার দেশে ও দেশের বাইরে দারুণভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই ও অ্যাপলবক্স ফিল্মসের যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত তথ্যচিত্রের ট্রেলারটি শুরু হয় শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার স্বাগত উক্তির মাধ্যমে। সেখানে তিনি অন্ধকার এক স্বপ্নের কথা বর্ণনা করছেন, যেন কেউ তাদেরকে ছুরি নিয়ে তাড়া করছে। ৭০ মিনিটের এই তথ্যচিত্রের ট্রেলারের শুরুতেই এমন চমকে দেয়া কথা এবং শব্দের আবহে দর্শকের মাঝে তৈরি হয় নতুন এক মোহ।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা, একজন মা এবং সর্বোপরি একজন মানুষ- এটাই তথ্যচিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান তথ্যচিত্রের পরিচালক পিপলু খান। 

তিনি বলেন, ‘এটি কোনো রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা নয়। আমাদের পরিপূর্ণ স্বাধীনতা ছিল এটি নির্মাণের ক্ষেত্রে। এখানে বস্তুনিষ্ঠতার কোনো ঘাটতি রাখিনি।’

এই তথ্যচিত্র নির্মাণে সবচেয়ে কষ্টকর ছিল ধানমন্ডি ৩২ এ শুটিং করা। ১৫ আগস্ট নির্মাতা তার ক্যামেরা নিয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে অনুসরণ করে। এই বাড়ি, যেখানে ১৯৭৫ সালে হত্যা করা হয়েছিল তাদের পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এখানেই হত্যা করা হয়েছিল তাদের পরিবারের সদস্যদের। দেয়ালগুলোতে এখনো চিহ্নিত সেই বুলেটের ছাপ। প্রতি বছর এখানে বাবার উদ্দেশ্যে বিশেষ প্রার্থনা করেন দুই বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা। সে দৃশ্য স্থান করে নিয়েছে এ তথ্যচিত্রে।

পরিচালক পিপলু খান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণত ধানমন্ডি ৩২ এ গেলে বাসভবনটির ছোট একটি ঘরে বসে থাকেন। কিন্তু ফেব্রুয়ারির ২ তারিখে শুটিংয়ের জন্য তিনি সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠেন। ১০ বছর পর তিনি আবারো প্রতিটি ঘর ঘুরে দেখেন। এমনকি তিনি আমার সহযোগীর কাছ থেকে ক্যামেরা নিয়ে গাছ ও কবুতরের বেশ কিছু ছবিও তোলেন।’

টুঙ্গি পাড়ায় শেখ হাসিনার পরিবারের আদি নিবাসও স্থান করে নিয়েছে এই তথ্যচিত্রে। ‘গত দুই বর্ষায় আমি তাদের সাথে সেখানে (টুঙ্গি পাড়ায়) গিয়ে শুটিং করেছি। গণভবনে গিয়েও আমি শুটিং করেছি। এছাড়াও আমি জার্মানির সেই বাসভবনে গিয়েছি যেখানে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ছিলেন। আমি চেয়েছি তাকে একই সাথে একজন নেতা, একজন মেয়ে, একজন বোন এবং একজন মানুষ হিসেবে।’ কথাগুলো বলছিলেন নির্মাতা পিপলু খান। 

পিপলু খান আরো বলেন, ‘শেখ হাসিনা সম্ভ্রান্ত রাজনৈতিক পরিবারের সদস্য। আর সে কারণেই তার জীবনের প্রতিটি আলোচনায় রাজনীতির কথা এসেছে। কিন্তু আমি তাকে একজন মানুষ হিসেবে দেখাতে চেয়েছি। আমি বিশ্বাস করি গণভবনে থাকা প্রতিটি গাছের নাম তিনি বলতে পারবেন।’

'শুধু গাছের নাম জানাই নয়, আতিথেয়তায়ও জুরি নেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। তার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গি পাড়া থেকে প্রতি বছর বড়ই আসে ঢাকায়। মূল উদ্দেশ্য বড়ইয়ের আচার করা। সময় পেলেই আচার বানান তিনি। আর অতিথি এলে সেই আচার না খেয়ে যেতেই পারে না।'- কথাগুলো বলছিলেন পিপলু খান। 

বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যার সম্পর্ক অত্যন্ত দৃঢ় মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এখনো তারা একে অপরের শাড়ি বদল করে পরেন। শুধু তাই নয়, আমার এই তথ্যচিত্রের প্রাথমিক কথাগুলো আপাই (প্রধানমন্ত্রী) ঠিক করে দিয়েছিলেন। আর তার সাথে আরো কথা জুরে দিয়েছিলেন তার বোন।’

শেখ হাসিনাকে নির্ভীক আখ্যায়িত করে পিপলু বলেন, ‘তার একটি নির্ভীক বাচনভঙ্গি রয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলা ভাষায় তার দক্ষতা, তার কাজ করার সক্ষমতা এবং স্মৃতি আমাকে চমকে দিয়েছে।’

এই তথ্যচিত্রের সম্পাদনায় থাকা সেনের আদি নিবাস ফরিদপুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য ও রেকর্ডিং আছে। বিষয়গুলোকে ঠিকভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি আমরা। এই তথ্যচিত্রটিতে তার (শেখ হাসিনার) মানবিক অনুভূতিগুলো তুলে ধরার চেষ্টা করেছি আমরা।’

এখানে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কোন কিছু স্থান পায়নি জানিয়ে সেন ও পিপলু খান বলেন, ‘এটি কোনো প্রোপাগান্ডার জন্য নির্মিত তথ্যচিত্র নয়। বরং বাংলাদেশের মানুষের কাছে একজন মানুষ হিসেবে বঙ্গবন্ধু কন্যার জীবন তুলে ধরা হয়েছে। এখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপস্থাপন করছি না আমরা।’ 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পরও ভয়াল সেই রাত তাড়া করে বেড়িয়েছিল বেঁচে থাকা বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যাকে। দিল্লিতে থাকাকালেও শেখ হাসিনার জন্য এই জীবন মেনে নেওয়া ছিল বেশ কঠিন। কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য সে সময়টা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ছিল জানিয়ে পিপলু খান বলেন, ‘দিল্লিতে শেখ হাসিনা বেশ গুরুত্বপূর্ণ একটি সময় পার করেছেন। তার সে সময়কার জীবনের কথা তিনি বলেছেন। আমরা তার কিছু ধারণ করে নিয়েছি। ইন্দ্রিরা গান্ধীর বাড়িটির সাথেও তার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্মৃতি আছে। ভারতীয় এই প্রধানমন্ত্রীকে তিনি অভিভাবক হিসেবে দেখতেন।’

ট্রেলার মুক্তি পেলেও এখনও এই তথ্যচিত্রের পোস্ট প্রডাকশন শেষ হয়নি। ৭০ মিনিট দৈর্ঘ্যের তথ্যচিত্রটি অক্টোবরের যে কোনো সময়ে মুক্তি পাবে।