বেড়িবাঁধে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রাজধানীর মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ সড়ক অবরোধ করেছে শ্রমিকরা। রবিবার সকাল নয়টার দিকে বেড়িবাঁধ চাঁদ উদ্যান এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এর ফলে বন্ধ রয়েছে বেড়িবাঁধসহ আশপাশের সড়কে সকল ধরণের গণপরিবহন চলাচল। এসব সড়কে চলাচলকারী ব্যক্তিগত যান চলাচলেও বাধা দিচ্ছেন পরিবহন শ্রমিকরা।

সড়ক দুর্ঘটনা আইনে চালকের জন্য মৃত্যুদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখায় এ আন্দোলনের ডাক দেয় শ্রমিক নেতারা। গত শুক্রবার মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধ আন্তঃজেলা ট্রাক চালকরা এই আন্দোলনের ডাক দেয়।

 সকাল থেকে আন্দোলনে অংশ নেয়া শ্রমিকরা বেড়িবাঁধ এলাকায় সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। সড়ক দিয়ে চলাচল করা সকল বাস, মিনিবাস, ইজিবাইক, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকাপ ভ্যানসহ সকল যান বন্ধ করে দেয় তারা।
অবরোধ অমান্য করে কিছু যান চলাচলের চেষ্টা করলে আন্দোলনকারীরা তা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। তবে পুলিশি উপস্থিতিতে তা সম্ভব হয়নি। সকাল নয়টা নাগাদ বেড়িবাঁধ চাঁদ উদ্যান এলাকায় টায়ার জ্বালায় পরিবহণ শ্রমিকরা।

বেড়িবাঁধ সড়কে দায়িত্বরত মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাজীব জানান, সকাল থেকে আন্দোলন চললেও কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘আমরা সকাল থেকে এখানে আছি। শ্রমিকরা যেন কোনো ভাঙচুর না করে সেদিকে আমাদের দৃষ্টি আছে। এখানকার শ্রমিকদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। তারা আমাদের বিপরীতে গিয়ে কিছু করবে না। আন্দোলন শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমরা এখানে অবস্থান করবো।’

আন্দোলন কতক্ষণ বা কতদিন স্থায়ী হবে এ বিষয়ে কিছু জানাতে পারেনি আন্দোলনরত শ্রমিকরা। আন্দোলনকারী বাসচালক কবীর বলেন, ‘সরকার ৩০২ ধারায় যে মামলার ব্যবস্থা করছে, দুর্ঘটনায় কেউ মরলে যাবজ্জীবন, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এগুলা আমরা মানি না। এই নিয়ম বাদ না করলে আমাদের আন্দোলন চলবে।’
সড়ক দুর্ঘটনার শাস্তি কমানোর পাশাপাশি এয়ারপোর্ট সড়কে দুর্ঘটনায় দুই স্কুলশিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার জাবালে নূর চালকের মুক্তির দাবিও জানিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

এদিকে যান চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন এই সড়ক ব্যবহারকারী যাত্রীরা। বাস, মিনিবাস, লেগুনা বন্ধের কারণে অনেকেই পায়ে হেটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন। স্বল্প দূরত্বের জন্য সকাল থেকে গণপরিবহনের ভূমিকা পালন করছে ভ্যানগাড়ি। সেক্ষেত্রে স্বাভাবিকের তুলনায় দ্বিগুণ ভাড়া গুণতে হচ্ছে যাত্রীদের।