মান্নান খান দম্পতির দুর্নীতি মামলার শুনানি আবারও পেছাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবদুল মান্নান খান ও তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে করা দুর্নীতি মামলার শুনানির দিন পিছিয়ে আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।


 
রোববার মামলা দুটির অধিকতর চার্জ শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু এদিনও ‘অসুস্থ’ বলে আদালতে সময় আবেদন করে আসামিপক্ষ।

ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন তা মঞ্জুর করে অধিকতর চার্জ শুনানির জন্য পরবর্তী ওই দিন ধার্য করেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরদ্ধে চার্জশিট দাখিলের পর ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলি হয়। এরপর নানা অযুহাতে বিচার শুনানি পেছাতে থাকে।

মান্নান খানের মামলাটি বিচারের জন্য বদলি হওয়ার পর ২০১৫ সালের ২২ নভেম্বর এটি আমলে নেয়ার বিষয়ে শুনানি শেষে বিচারের জন্য গ্রহণ করা হয়। মামলা বিচারের জন্য গৃহীত হওয়ার পর বিচার শুনানির জন্য ঢাকার ৩ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে বদলি করা হয়।

৭ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত মামলায় আসামি মান্নান খানের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। নির্ধারিত দিন ২০১৬ সালের ৩ জানুয়ারি তার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। ওই দিন দুদক প্রসিকিউশন শুনানি করতে জোর চেষ্টা চালালেও আসামির সময় আবেদনের কারণে তা সম্ভব হয়নি। এভাবে পরবর্তী সময়ে ওই বছরের ১৭ জানুয়ারি, ২৪ জানুয়ারি, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২৪ এপ্রিল, ৩১ জুলাই ও ৩০ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে চার্জ শুনানির কথা থাকলেও তা হয়নি।

অপরদিকে মান্নান খানের স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে সম্পদের মামলা বিচারের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে।

এ মামলাটি বিচারের জন্য ২০১৫ সালের ১১ মে ঢাকা মহানগর আদালতে বদলি হয়। এরপর ৭ নম্বর বিশেষ জজ আদালতে চার্জগঠন শুনানির মাধ্যমে বিচার শুরুর জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু দফায় দফায় সময় আবেদন করায় তার বিরুদ্ধেও বিচার শুরু করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ গত বছরের ২২ জানুয়ারি আদালতে মান্নান খান দম্পতির দুর্নীতির মামলার চার্জ শুনানি হয়। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তার বড় গাফিলতিতে চার্জগঠন সম্ভব হয়নি। আদালত ওইদিনই তদন্ত কর্মকর্তাকে দুই মামলায় জব্দ করা সব নথিপত্র আদালতে দাখিলের নির্দেশ দেন।

গত বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি ও ২ এপ্রিল দুই ধার্য তারিখে তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজনীয় নথিপত্র আদালতে দাখিলে ব্যর্থ হন। ওই ২৮ মে মামলার নথিপত্র দাখিল করলে তৎকালীন ঢাকার তিন নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক আবু আহমেদ জমাদার চার্জগঠনের আদেশের জন্য ১৬ জুলাই দিন ধার্য করেন। আর এরই মধ্যে আদালতের বিচারক (আবু সৈয়দ দিলজার হোসেন) বদল হয়। এরপর নতুন বিচারক অধিকতর চার্জ শুনানির জন্য গত বছরের ২৭ আগস্ট, ৮ অক্টোবর, ৫ নভেম্বর ও ২৮ ডিসেম্বর ও সর্বশেষ বুধবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দিন ধার্য করেন।

মান্নান খান দম্পতির মামলায় একবার চার্জ শুনানি হলেও বিচারক পরিবর্তন করায় তা ফের করতে হচ্ছে। নতুন বিচারক আসার পরও আসামিপক্ষের বেশ কয়েক দফায় সময় নেয়ায় বিচার শুরু অদ্যাবধি সম্ভব হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, ২০১৪ সালের ২১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে ৭৫ লাখ ৪ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করে দুদক।

অপরদিকে তার স্ত্রী হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই বছরের ২১ অক্টোবর মামলা করে দুদক।

তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট মান্নান খানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে দুদক। চার্জশিটে মান্নান খানের অবৈধ সম্পদের পরিমাণ বেড়ে যায়।

তাতে দেখা যায়, তার আয়বহির্ভূত সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন ৩১ লাখ ৪৫ হাজার টাকার।

তদন্ত শেষে হাসিনা সুলতানার বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ৯ জুন আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। চার্জশিটে ১ কোটি ৮৬ লাখ ৫৩ হাজার টাকার সম্পদের তথ্য গোপন ও ৩ কোটি ৩৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকার আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তদন্ত প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।