প্রধানমন্ত্রীকে ‘কটূক্তির’ মামলায় চবি শিক্ষক রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পুলিশের রিমান্ড আবেদনের শুনানি করে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদু্ল্লাহ কায়সার সোমবার এ আদেশ দেন।

জেলা পুলিশের পরিদর্শক (প্রসিকিউশন) বিজন কুমার বড়ুয়া বলেন, পুলিশের পক্ষ থেকে রোববার পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছিল। সোমবার শুনানি করে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করল।

“শুনানিতে আমরা বলেছি, তিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়ে ফেইসবুকে প্রধানমন্ত্রীকে ব্যঙ্গ করেছেন। উনার কাছ থেকে ছাত্র-ছাত্রীরা কী শিখবে?”

মাইদুল ইসলামের আইনজীবী ভুলন লাল ভৌমিক বলেন, হাই কোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়েছে জানিয়ে তারা রিমান্ড শুনানি স্থগিত রাখার আবেদন করেছিলেন।

“আদালত তা আমলে নেননি। হাই কোর্টের নির্দেশনা মেনে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।”

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের পক্ষে বলতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ‘কটূক্তি’ করে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গত ২৩ জুলাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে হাটহাজারি থানায় তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইফতেখারুল ইসলাম।

কোটা আন্দোলনকারীদের পক্ষে ফেইসবুকে পোস্ট দেওয়ায় মাইদুল ইসলাম এবং যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আলী আর রাজীকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ছাত্রলীগ।

তাদের চাকরিচ্যুত করার দাবি জানিয়ে ছাত্রলীগের বিলুপ্ত কমিটির সভাপতি আলমগীর টিপু উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপিও দেন।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ‘হুমকির’ কারণে ক্যাম্পাস ছেড়ে নিরাপত্তা চেয়ে প্রক্টরের কাছে আবেদন করেছিলেন শিক্ষক মাইদুল ইসলাম। ওই অবস্থায় গত ৬ অগাস্ট হাই কোর্ট থেকে তিনি আগাম জামিন নেন।

হাই কোর্টের দেওয়া আট সপ্তাহের জামিন শেষে ২৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন মাইদুল ইসলাম। আদালত তা নাকচ করে দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। 

এরপর ২৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ মাইদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করে।