আইনজীবীদের আদালতে প্রবেশে বাধা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও হত্যা মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। এদিকে প্রথমে আদালতে ঢুকতে দেয়া হয়নি কয়েকজন আসামির আইনজীবীদের। পরে অনুরোধের প্রেক্ষিতে তাদেরকে আদালতে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

রাজধানীর নাজিমুদ্দিন রোডে পুরনো ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে স্থাপিত ঢাকার ১ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন আজ বুধবার বেলা পৌণে ১২টায় এ রায় পড়া শুরু করেন। 

 

লুৎফুজ্জামান বাবর, পিন্টু, আবদুর রহিম, রেজ্জাকুল হায়দারের আইনজীদের আদালতে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। এস এম শাহজাহান, মাসুদ রানা, মাহবুবুর রহমান দুলালসহ আইনজীবীরা প্রবেশ করতে না পেরে আদালতের গেটে অবস্থান করেন। এ সময় বৃষ্টি হচ্ছিল। পরে তারা অনুরোধ করে আদালতে প্রবেশ করতে পারেন। কড়াকড়ি আরোপ করা হয় সাংবাদিকদের প্রবেশেও।

এদিকে, রায়কে ঘিরে সকাল থেকেই আদালত এলাকায় নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার আসাদুজ্জামান মিয়া আজ বুধবার সকাল দশটায় পুরান ঢাকার সাবেক কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে অবস্থিত বিশেষ এজলাস পরিদর্শন করেন।

এ সময় তিনি বলেন, নৈরাজ্য এবং জনমনে আতঙ্ক সৃস্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনের চোখে সবাই সমান।

পরে তিনি এজলাস এলাকা পরিদর্শন করেন।

রায় উপলক্ষে আদালতে চারপাশে ব্যাপক নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২২ জন নিহত হন। প্রাণে বেঁচে গেলেও গুরুতর আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েক শ’ নেতাকর্মী।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেই এ সংক্রান্ত হত্যা ও বিস্ফোরক মামলার বিচার শুরু হয়। ৬১ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার এর অধিকতর তদন্ত করে। এরপর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, হারিছ চৌধুরী, জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদসহ ৩০ জনকে নতুন করে আসামি করে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি। এরপর দুই অভিযোগপত্রের মোট ৫২ আসামির মধ্যে তারেক রহমানসহ ১৮ জনকে পলাতক দেখিয়ে বিচার শুরু হয়। অন্য মামলায় তিন আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় বর্তমানে আসামির সংখ্যা ৪৯।