সময় চলে যায়,স্মৃতি রয়ে যায়

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট থেকে দুই সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিলাম আমরা। এ স্মৃতি চিরিদিন আমাদের মানসপটে থাকবে। খুবই কম সময়ে আপন করে নিয়েছিলাম অপরিচিত সকলকে। তাইতো মাত্র ১৪দিন এক সাথে থাকার পরে, যখন যাওয়ার সময় হল তখন সবার চোখের কোণ থেকে অশ্রু ঝরে পরল মলিন মুখে। বলছিলাম রাজধানীর সাভারে অবস্থিত শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট-এ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ শেষে চলে আসার সময়ের কথা।

শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সাভারের ধারাবাহিক কার্যক্রম এর অংশ হিসেবে ১ অক্টোবর ২০১৮ শুরু হয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ। দুই সপ্তাহ ব্যাপী এ প্রশিক্ষণে ২৫ জেলার ৫১ জন প্রশিক্ষনার্থী অংশগ্রহণে করে। জেলা থেকে আগতদের মিলনমেলায় পরিণত হয় ইনস্টিটিউট। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর এবং মূল কার্যক্রম প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রশিক্ষনার্থীদের পরিপূর্ন মানুষরূপে গড়ে তোলার চেষ্টা চলে ১৪দিন। এসময়ে প্রতিষ্ঠানটির কর্তাব্যক্তি, প্রশিক্ষকসহ সকলের আন্তরিকতায় মুগ্ধ হই আমরা।

দুই সপ্তাহ ব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে সার্টিফিকেট প্রদানের মাধ্যমে প্রশিক্ষনার্থীদের বিদায় জানানো হয়। বিদায়কালে প্রশিক্ষণ কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। বিদায়ের হাহাকারে ভারি হয়ে ওঠে সর্বত্র। সবার চোখেই ছিলো বিদায়ের করুণ রোদন।

কুমিল্লা থেকে আগত আজিজা আক্তার বলেন, এখানে এসে অনেক কিছু শিখলাম, জানলাম যা ভবিষ্যৎ জীবনে আমার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রশিক্ষণ নিতে আসা জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জীবন নাহার তরী বলেন, শিক্ষার পাশাপাশি এ ধরনের প্রশিক্ষণ দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

চট্টগ্রাম এর প্রশিক্ষনার্থী আকবর আলী জিকু কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন ভালোবাসার কষ্ট যে কেমন হয় তা আজ বিদায়ের দিনে বুঝলাম।তবুও এখান থেকে অর্জিত জ্ঞান মানুষের কল্যাণে ব্যাবহার করবো।

শেরপুর থেকে আসা জাহিদুল ইসলাম টুটুল চোখে জল আর মুখে হাঁসি নিয়ে বলেন জীবন বদলাতে এ প্রশিক্ষণ আমাদের খুবই প্রয়োজন ছিলো।

ইনস্টিটিউটের সহকারী পরিচালক এবং ক্ষুদ্র ব্যবসা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন প্রোগ্রামের কোর্স কো-অর্ডিনেটর মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন এখানে সব জেলার মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এক পরিবার। যে পরিবারের একজনের সুখ সবার সুখ,একজনের দুঃখ সবার দুঃখ।সুখে-দুঃখে সবাই মিলে মিশে থাকার প্রত্যায় ব্যাক্ত করেন তিনি।

ইনস্টিটিউট উপ পরিচালক আমীর আজম বলেন,হারানোর বেদনা নির্মম হলেও বাস্তবতাকে মেনে নিয়েই সবার চলতে হবে,এবং তিনি আশাবাদ ব্যাক্ত করেন এখান থেকে অর্জিত শিক্ষা যেনো সবার জীবনের পাথেয় হয়।

উল্লেখ্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সমৃদ্ধ যুব সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ বিষয়ে শেখ হাসিনা যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট যুবদের বিনা খরচে থাকা-খাওয়া ও প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে।