জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের ওপর বাড়ছে নজরদারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত, জঙ্গি, তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীসহ একাধিক মামলার দুর্ধর্ষ আসামিরা জামিন পাওয়ার পর কোথায়, কীভাবে অবস্থান করছে, সরকার তা তদারক করবে। আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করতে পারে- এমন আশঙ্কায় নীতিনির্ধারকরা তাদের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নিয়েছেন।

এ পরিকল্পনা অনুযায়ী, তালিকাভুক্ত ও জামিন পাওয়া দুর্ধর্ষ আসামিরা মামলায় নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে কি-না বা তারা কতজন জামিনে রয়েছে এবং তাদের সর্বশেষ অবস্থা কী- সংশ্নিষ্টদের কাছ থেকে এসব বিষয়ে তথ্য নেওয়া হবে। এর মধ্যেই সংশ্নিষ্টদের এসব তথ্য দিতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি নরসিংদীর মাধবদী ও শেখেরচরে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নারীসহ দু'জন নিহত হয়। আরও দুই নারী জঙ্গি আত্মসমর্পণ করে। সূত্র জানায়, এই চারজনের মধ্যে তিনজনই জামিনে মুক্ত ছিল। ২০১৬ সালে র‌্যাব চার নারী জঙ্গিকে গ্রেফতারের পর তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। তাদেরই তিন জামিনপ্রাপ্ত জঙ্গি নরসিংদীতে আস্তানা গাড়ে। সাম্প্রতিক এ ঘটনার পর জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন নিয়েছে কি-না বা নেওয়ার চেষ্টা করছে কি-না, সেসবের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে আইন মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। আলোচিত মামলাগুলোতে কতজন আসামি জামিনে রয়েছে, তার পরিসংখ্যান করা হচ্ছে। তাদের কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, কতজন ঠিকানা পাল্টে আদালতে গর-হাজির রয়েছে, এসবেরও তালিকা হচ্ছে। একই সঙ্গে এ ধরনের মামলা তদারকিতে বিশেষ সেল গঠন করা যায় কি-না তা নিয়ে দুই মন্ত্রণালয় আলোচনাও করছে।

অতীতে রাজনৈতিক সহিংসতায় জড়িত আসামি, দুর্ধর্ষ জঙ্গি ও তালিকাভুক্ত  সন্ত্রাসীদের মধ্যে কতজন জামিনে রয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট হিসাব নেই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে। প্রতিদিন মহানগরগুলোর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট ও জেলাগুলোতে জজ কোর্টে কে কখন জামিন পাচ্ছেন, সে হিসাবও নিয়মিত রাখা হচ্ছে না। এমনকি কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর কতজন নিয়মিত হাজিরা দিচ্ছে, আর কতজন গা-ঢাকা দিয়েছে, তাও কেন্দ্রীয়ভাবে জানা নেই। কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সন্ত্রাসীদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর রেওয়াজ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা হচ্ছে না। আদালতসমূহে নিয়োজিত সরকারি আইনজীবীদের ফাঁকি দিয়ে তারা কারাগার থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, জঙ্গি ও সন্ত্রাসীরা আদালত থেকে কে কীভাবে জামিন পাচ্ছে, তার হিসাব থাকা উচিত। এসব অপরাধী যাতে আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জামিন না পায়, সে ব্যাপারে সরকারের নিয়োজিত আইনজীবীদের আরও সতর্ক থাকা প্রয়োজন। তারা যাতে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে জামিন না পায়, সেজন্য আইন মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করবে। বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তদারকি করা হবে।

আইন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, নাশকতা মামলার আসামি এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের জামিনের বিষয়ে সরকারি আইনজীবীদের কঠোর নজরদারির নির্দেশনা রয়েছে। আইনের ফাঁক গলে তারা যাতে জামিন না পায়, সেজন্য তাদের সচেষ্ট থাকতে বলা হয়েছে।