অধিবেশন শেষ করল মিলমিশের দশম সংসদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ নিয়ে শুরু হলেও কোনো রকম সরব আলোচনা ছাড়াই অধিবেশন শেষ করল দশম জাতীয় সংসদ।

দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে বিরোধী ও সরকারি দলের সমঝোতা-সহযোগিতার ভিত্তিতে চলা এই সংসদ পুরোটা সময় ছিল বিভিন্ন মহলের আলোচনা-সমালোচনায়।

সরকারি দলের প্রতি বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সমর্থনের রেশ শেষ দিনেও দেখা গেছে। সমাপনী ভাষণেও সরকার ও সরকার প্রধানের প্রশংসা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। সরকার প্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্যেও ছিল বিরোধী দলের প্রশংসা।

সমাপনী ভাষণে রওশন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর মমতা আছে, জনগণের জন্য। তিনি সংসদে উপস্থিত থেকে আমাদের সবাইকে কাজ করার উৎসাহ দেন।”

প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা তার বক্তব্যে বলেন, “এই সংসদে বিরোধী দলের কত কটূক্তি দেখেছি। সকলের সহযোগিতায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। অতীতের মতো দশম সংসদে বর্বরতা, অশালীন বাক্য শুনতে হয়নি। সংসদ সম্পর্কে মানুষের যে বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়েছিল, তা দূর করে সংসদ যে দেশ, জনগণ ও জাতির স্বার্থে কাজ করে তা মানুষের মধ্যে ফিরে এসেছে। আমি এজন্য বিরোধী দলকে ধন্যবাদ জানাই।”

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীও সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “দুই দলের সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সংসদ কার্যকর করায় নজির স্থাপন করেছে।”

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিএনপির বয়কটের কারণে সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসে জাতীয় পার্টি। তবে সংসদের মতো তাদের মিলমিশ ছিল সরকারেও; সরকারে তাদের অংশগ্রহণ সরকারি ও বিরোধী দলকে একাকার করে দিয়েছিল।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ওই নির্বাচনও ছিল নানা দিক থেকে নাটকীয়। ওই বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রথম বৈঠকে বসে সংসদ। সেই হিসেবে আগামী ২৮ জানুয়ারি মেয়াদ হচ্ছে এই সংসদের।

সোমবার রাতে ২৩তম অধিবেশনের সমাপ্তি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠের মধ্য দিয়ে অধিবেশনের ইতি টানেন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী।

আগামী নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে একাদশ সংসদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে বলে এরই মধ্যে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সংসদের দুই অধিবেশনের মধ্যে ৬০ দিনের বিরতি থাকবে না, এমন বিধান রয়েছে। তবে সংসদের মেয়ার পূর্তির শেষ ৯০ দিনের মধ্যে এই বাধ্যবাধকতা থাকবে না। সেই হিসেবে আগামী সংসদ নির্বাচনের আগে জরুরি প্রয়োজন না হলে সংসদ বসছে না। 

সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাষণে বলেন, যদি কোনো অঘটন বা দুর্ঘটনা না ঘটে ও যুদ্ধবিগ্রহ না লাগে, তাহলে এটাই চলতি সংসদের শেষ অধিবেশন।

দশম সংসদকে কার্যকর উল্লেখ করে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, “সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের প্রশ্নোত্তর এবং সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। এসব প্রক্রিয়াতেই নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়।”

দশম সংসদ মোট ২৩বার অধিবেশনে বসেছে। আর এই ২৩টি অধিবেশনে কার্যদিবস ছিল ৪১০টি। এই সময় বিল পাওয়া গিয়েছিল ১৯৮টি। এর মধ্যে পাস হয়েছে ১৯৩টি। প্রত্যাহার হয়েছে একটি। এই সময় বিল পাওয়া গিয়েছিলো ১৯৮টি। এর মধ্যে পাস হয়েছে ১৯৩টি। প্রত্যাহার হয়েছে ৪টি। আর অনিষ্পন্ন রয়েছে ১টি।

অন্য যে কোনো সংসদের চেয়ে নবম সংসদে বিরোধী দলের বর্জন ছিল রেকর্ড পরিমাণ। ওই সংসদে বিরোধী দল অনুপস্থিত ছিল ৩৪২ কার্যদিবস, উপস্থিত ছিল ৭৬ কার্যদিবস।