পদ্মা সেতুসহ ৭ মেগা প্রকল্পে গতি বাড়ানোর তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

জাতীয় নির্বাচনে উন্নয়ন ইস্যুকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতুসহ সেতু বিভাগের আওতায় মেগা ৭ প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া অর্থ ব্যবহারে ধীরগতি বিরাজ করছে। চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) এসব প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে (সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নসহ) ৯ হাজার ১৫৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা।

গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যয় হয়েছে ৪৩৫ কোটি ৫৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে গতি বাড়াতে প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দিয়েছে সেতু বিভাগ। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) সেতু বিভাগের আওতাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ তাগিদ দেয়া হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম। ১৭ অক্টোবর জারি হওয়া সভার কার্যবিবরণী সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মেগা প্রকল্পগুলো হচ্ছে- পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ, সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রজেক্ট এবং ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প, গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট করিডোর (বিআরটি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট), কর্ণফুলী নদীর তলদেশে বহু লেন টানেল নির্মাণ, সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ (এলেঙ্গা-হাটিকুমরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ) (সেতু কর্তৃপক্ষ অংশ ৩৪ কিলোমিটার), ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রকল্প। সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সোমবার বলেন, নির্বাচনের সঙ্গে প্রকল্পগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। এসব প্রকল্প উচ্চ কারিগরি প্রকল্প হওয়ায় যখন-তখন নতুন নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। সে জন্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের তাগিদ দেয়া হয়েছে। যেমন, পদ্মা সেতুতে কিছু সমস্যা হচ্ছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের কাজ করতে গিয়ে দেখা গেছে মাটির নিচে গ্যাস পাইপলাইন রয়েছে। এ রকম ডিজাইনের বাইরে যে কোনো নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থবছরের প্রথম তিন মাস তো বর্ষাকাল, তাই প্রকল্পে কাজের বিপরীতে পেমেন্ট দেয়া হয়নি। ফলে এ সময় টাকা একটু কম খরচ হয়। সভায় পদ্মা সেতু প্রকল্পের হালনাগাদ অগ্রগতি তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি হয়েছে ৬০ শতাংশ। মূল সেতুর অগ্রগতি ৭০ শতাংশ এবং নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ৪৫ শতাংশ। ইতিমধ্যেই জাজিরা প্রান্তে সংযোগ সড়ক, মাওয়া প্রান্তে সংযোগ সড়ক এবং সার্ভিস এরিয়া-২-এর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সভায় মূল সেতু এবং নদীশাসন কাজের অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেয়া হয়। এ ছাড়া সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, ভূমি অধিগ্রহণ ও হস্তান্তর সম্পন্ন হয়েছে। ইউটিলিটি ও অবকাঠামো অপসারণের কাজ চলছে। ভূমি অধিগ্রহণের ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের এনজিও এর মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ দেয়া হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পুনর্বাসন ও অবকাঠামো অপসারণের কাজ ত্বরান্বি^ত করতে বলা হয়েছে। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ২৪২টি ওয়ার্কিং পাইল ড্রাইভিং, ২৬০টি পাইল ক্যাপ, ৩৫টি ক্রস বিম, ১৩৮টি কলাম ও ১৬২টি আই গার্ডার নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। এ প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি বাড়ানোর পাশাপাশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর ত্বরান্বিত করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

বিআরটি গাজীপুর-এয়ারপোর্ট প্রকল্পে অগ্রগতি সম্পর্কে সভায় জানানো হয়, প্রকল্পের সাইট অফিস স্থাপন এবং ১৬৪টি সাব-সয়েল ইনভেস্টিগেশনের মধ্যে ১৬২টির কাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়া জয়েন্ট সার্ভে ও ইআইএ’র কাজও শেষ হয়েছে। টঙ্গী সেতুর পর থেকে চেরাগ আলী পর্যন্ত ড্রেনেজ কাজের জন্য ৩ হাজার ৮০০টি আরসিসি পাইপের মধ্যে ৩২০টি তৈরি হয়েছে। প্রকল্প এলাকার রিপিয়ার চলছে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি মাত্র ১ শতাংশ। কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পতেঙ্গা ও আনোয়ারা প্রান্তে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, আরও ভূমি অধিগ্রহণ ও রিকুইজিশনের কাজ চলছে। প্রকল্প সাইটে পানি সরবরাহের জন্য তিনটি গভীর নলকূপ স্থাপন, পতেঙ্গা ও আনোয়ারা উভয় প্রান্তে ২ মেগাওয়াট করে এবং পতেঙ্গা প্রান্তে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য স্থায়ী সংযোগ দেয়া হয়েছে। এ অংশে ওয়ার্কিং ওয়ে নির্মাণ শেষ হয়েছে। এখন সড়ক নির্মাণের কাজ চলছে। আনোয়ারা প্রান্তে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণসহ সাব-স্টেশনের কাজ চলছে। প্রকল্পটির ভূমি অধিগ্রহণ কাজ দ্রুত করার পাশাপাশি টানেলের বোরিং কাজ দ্রুত শুরুর তাগিদ দেয়া হয়েছে।

সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প-২ (এলেঙ্গা-হাটিকামরুল-রংপুর মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ) সেতু কর্তৃপক্ষ অংশ ৩৪ কিলোমিটার) প্রকল্পটির ঠিকাদার নিয়োগে কারিগরি প্রস্তাব মূল্যায়নের ওপর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সম্মতি পাওয়া গেছে। আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়ন করে এডিবির কাছে অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পরামর্শক নিয়োগে কারিগরি ও আর্থিক প্রস্তাব মূল্যায়নের ওপর এডিবির সম্মতি পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদিত হয়েছে। শিগগির পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হবে। এ ক্ষেত্রে ঠিকাদার ও পরামর্শক নিয়োগের বিষয়টি ত্বরান্বিত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে। ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পটির এলএপি এবং আরএপি প্রণয়নের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের কাজ চলমান রয়েছে। এ ছাড়া ডিজাইন রিভিউ এবং সুপারভিশন কনসালটেন্ট নিয়োগে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের জন্য মূল্যায়ন কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যে ২ জন সহকারী প্রকৌশলী এবং ৫ জন উপ-সহকারী প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রকল্পের জন্য অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) থেকে পুনরায় লোন অ্যাপ্লিকেশন প্রেরণের অনুরোধ করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ের কাজগুলো দ্রুত করার তাগিদ দেয়া হয়েছে সভায়।

ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রকল্পটির বিষয়ে সভায় জানানো হয়, পরামর্শক নিয়োগে আর্থিক প্রস্তাব সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে অনুমোদনের পর পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে কাজও শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ইনসেপশন রিপোর্ট দাখিলও করেছে। এ ক্ষেত্রে সমীক্ষার কাজ যথাসময়ের মধ্যে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার তাগিদ দেয়া হয়েছে।