অনুমোদন পেল জঙ্গি দমনে কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

জঙ্গি কার্যক্রম ও অপরাধীদের সনাক্ত করাসহ দেশের অভ্যন্তরীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক হাজার ২৭২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ের একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানান,  ‘ডিজিএফআইয়ের টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি অবকাঠামো, মানব সম্পদ এবং কারিগরি সক্ষমতা উন্নয়ন’ শীর্ষক এই প্রকল্পটি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই) বাস্তবায়ন করবে।

“এ প্রকল্পটির মাধ্যমে সমাজ থেকে শতভাগ দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারলেও অনেকখানি কমিয়ে আনা সম্ভব। যে উদ্দেশ্যে এ প্রকল্পটি এনেছি সেভাবেই যেন ব্যবহার করতে পারি,” বলেন তিনি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, “সাইবার ক্রাইম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিরাপদ রাখার জন্য আমরা এ প্রকল্পটি এনেছি। এ কার্যক্রমের মাধ্যমে জঙ্গি ও জ্বালাও পোড়াওয়ের মতো অপরাধীদের সনাক্ত করা হবে।”

তিনি বলেন, “বিশ্বব্যাপী টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সাইবার জগতের দ্রুত উন্নয়নের ফলে প্রচলিত জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে। বর্তমান বিশ্বে জনগণের উপর সরকারের চেয়ে বিদেশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব অনেক বেশি। এতে রাষ্ট্রের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।”

গুগল, ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে প্রচারিত সরকারের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রচলিত কারিগরি সক্ষমতা দিয়ে রোধ করা সম্ভব না হওয়ায় এ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ের এই বৈঠকে এটিসহ ২৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ের মোট ২৪ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। এরমধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে প্রায় ১৯ হাজার ৩৬২ কোটি টাকা, প্রকল্প সহায়তার খাত থেকে প্রায় ৫ হাজার ৭৩ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে ৩০৬ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে।

বৈঠকে  ‘জরুরি ভিত্তিতে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় মাল্টি-সেক্টর’ প্রকল্প শীর্ষক প্রকল্পটিও অনুমোদন পায় বলে জানান মুস্তফা কামাল।

এ প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারে অবস্থিত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানো, সামাজিক সেবা প্রদান ব্যবস্থার উন্নতি, স্বাস্থ্যের উন্নতি, শিক্ষার উন্নত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হবে।

“রোহিঙ্গারা যতদিন আমাদের দেশে থাকবেন ততদিন তাদের ভালমন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের। আমরা তাদের ভালো থাকার ব্যবস্থা করছি। যখন তারা মিয়ানমারে ফেরত যাবেন তখন সেখানকার স্থানীয় বাংলাদেশিরা এসব অবকাঠামোর সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন।”

বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবিসহ অনেক সংস্থা ও দেশের অনুদানে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।