বাংলাদেশের নাটক দেখেন শীর্ষেন্দু

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশের নাটকের প্রশংসা করেছেন কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর মতে, বাংলাদেশের নাটকের গল্পগুলো খুব চমৎকার এবং মিষ্টি। ভারতে বাংলাদেশের চ্যানেল দেখা যায় না বটে, কিন্তু কোনো না কোনোভাবে নাটকগুলো তারা দেখেন। ঢাকা আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবের শেষ অধিবেশনে বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের সঙ্গে এক চমৎকার আড্ডায় এসব কথা বলেন শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়।

গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা আন্তর্জাতিক সাহিত্য উৎসবের শেষ অধিবেশন ছিল বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে। এ অধিবেশনে ছিল না তিল ধারণের জায়গা। আসনসংখ্যার দ্বিগুণ দর্শক দাঁড়িয়ে দুই কথাসাহিত্যিকের আড্ডা উপভোগ করেছেন। আড্ডায় শীর্ষেন্দুর শিশুদের রচনা, গল্প, খেলা নিয়ে লেখা, উপন্যাস, শরৎচন্দ্রের ‘দেবদাস’–এর শত বছর পূর্তি উদ্‌যাপনসহ নানা বিষয় নিয়ে জিজ্ঞেস করেন ইমদাদুল হক মিলন। রসজ্ঞ সে আলোচনা দর্শকদের দারুণ আনন্দ দেয়।

ইমদাদুল হক মিলন তাঁর কাছে জানতে চান, তাঁর ভূতেরা কেন এমন মজার হয়। ভয় না পেয়ে বরং তাদের কেন বন্ধু মনে হয়? শীর্ষেন্দু বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভূতের হয় পান। তাই কীভাবে সেই ভয়কে জয় করা যায়, সেটা ভেবেই তিনি ভূতদের অমন মজা করে লেখায় উপস্থাপন করেছেন। তা ছাড়া শিশুদের নরম মনে যেন কোনো অভিঘাত সৃষ্টি না হয়, সেটাও তাঁর মাথায় ছিল।

সাহিত্যের মানুষ হয়ে কেন তিনি খেলা নিয়ে লেখেন? এ প্রশ্নে শীর্ষেন্দু বলেন, তাঁর অফিসের লোকেরা মনে করেন, তিনি খেলা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ। তবে তা না হলেও তিনি খেলার অনুরাগী। একবার ভারত ও বাংলাদেশের খেলার সময় একজন তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলেন, একদিকে ১১ জন ভারতীয়, অন্যদিকে ১১ বাঙালি। আপনি কার দল। তিনি বলেছিলেন, ভারত জিতলে আমি হয়তো করতালি দেব, কিন্তু বাঙালি জিতলে মনে মনে খুশিই হব।

ইমদাদুল হক মিলনের নানা প্রশ্নে, স্মৃতিচারণার পর পালা আসে দর্শকদের। শীর্ষেন্দুর ‘ঔষধ’ লেখাটির প্রসঙ্গে এক দর্শক প্রশ্ন করেন, নারীবাদীরা লেখাটিকে কীভাবে গ্রহণ করেছিল? তিনি বলেন, ‘নারীবাদীরা ওটাকে নারীবিরোধী লেখা মনে করে আমাকে প্রায় পেটানোর আয়োজন করেছিল। আমি ক্ষমা চেয়েছি। ওই লেখায় আসলে স্বামী-স্ত্রীর মিলনকে দেখাতে চেয়েছিলাম। সেটা করতে গিয়ে আমাকে একটু বাঁকা পথ অবলম্বন করতে হয়েছিল। মেয়েরা আমাকে যথেষ্ট অপমান করেছে। আমার বিরুদ্ধে মিছিল করার কথা ছিল, কিন্তু শেষ অবধি সেটা আর করেনি। এখন আর ও রকম কিছু লিখি না। আমি ভালো ছেলে হয়ে গেছি।’

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশের লেখকদের গুরুত্ব নেই কেন। এক দর্শকের এমন প্রশ্নের জবাবে শীর্ষেন্দু বলেন, মিলনের লেখা তো সেখানে গুরুত্ব পায়। তবে আমাদের ওখানেও অনেকের লেখা কেউ পড়ে না। আসল কথা হচ্ছে, পাঠক কমে যাচ্ছে। তবে সব জায়গায় নয়। আর এটা নিয়ে দুঃখ করার কিছু নেই। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের সব লেখকই ধীরে ধীরে সম্মানিত হবেন। এখানকার টিভি চ্যানেলগুলো ভারতে দেখানো হয় না। কিন্তু ইউটিউবে সেগুলো দেখা যায়। আমি কিন্তু ইউটিউবে বাংলাদেশের নাটক দেখি। আস্তে আস্তে এসব আদান-প্রদান বাড়বে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। সাংস্কৃতিক জিনিসগুলো জোর করে চাপানো যায় না। ভালো কাজ করতে করতেই সেটি একসময় গৃহীত হবে।’