১৭ বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা ডিএমপি কমিশনারের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, সংঘবদ্ধ অপরাধসহ যে কোনও ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পরিচালিত অপারেশনে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। অপারেশনের সময় ১৭টি বিষয় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বলছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া।

২০ মার্চ ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১৯ মার্চ রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে জালাল উদ্দিন নামে ডিবি পুলিশের একজন পরিদর্শক নিহত হওয়ার ঘটনার একদিন পর এই নির্দেশনা দেন তিনি।

এর আগে গত বছরের ১২ আগস্ট রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় একটি অভিযানে গিয়ে রাহুল পাটোয়ারী নামে ডিবি পুলিশের একজন সহকারী কমিশনার গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন।

এ নির্দেশনার ব্যাপারে ডিএমপি’র উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটি অভিযানের সময় কিছু সাধারণ নিয়মকানুন থাকে বা সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। আমরা সতর্কতা অবলম্বন করেই অভিযান পরিচালনা করে থাকি। এসব বিষয়ে সবাই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবু বিষয়টি মনে করিয়ে দেওয়ার কারণ হলো, অভিযানের সময় সবাই যাতে আরও বেশি সতর্ক থাকে।’

ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জঙ্গি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদকদ্রব্য, সংঘবদ্ধ অপরাধসহ যে কোনও ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে অপরাধী বা অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য ডিএমপিকে বিভিন্ন ধরনের অপারেশন পরিচালনা করতে হয়। এসব অপারেশন পরিচালনাকালে অপরাধীদের দ্বারা পুলিশের আক্রান্ত হওয়ার অনেক সম্ভাবনা থাকে। বিগত দিনগুলোতে কতর্ব্যরত অবস্থায় ডিএমপি’র অনেক সদস্যের আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য কর্তব্যরত অবস্থায় কিংবা অন্যান্য ক্ষেত্রে অসতর্কতা, অধিক আত্মবিশ্বাস, অধিক সাহসিকতা, আত্মতুষ্টি, আইন বা বিধি অমান্যের সাধারণ প্রবণতা ইত্যাদি নানাবিধ কারণে দুর্ঘটনার স্বীকার হয়ে থাকেন। পরিণতিতে অনেক সময় মৃত্যুবরণ পর্যন্ত করতে হয়, যা মোটেও কাম্য নয়।

এছাড়া অপারেশন চালানোর আগে ঘটনাস্থলকে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ ও পর্যালোচনা করতে হবে। সুনির্দিষ্ট স্থান চিহ্নিত করে সম্পূর্ণ এলাকা বা স্থানটি সুপরিকল্পিতভাবে চারদিক থেকে কর্ডন করে অপারেশন পরিচালনা করতে হবে। অপারেশন স্থলের প্রবেশ পথ ও বর্হিগমন পথ শনাক্ত করতে হবে। এরপর ঘটনাস্থল থেকে বের হওয়ার সব পথ বন্ধ করতে হবে। অপারেশন চলাকালে টিমের সদস্যরা সংঘবদ্ধ থাকবেন। কোনও সদস্য একা কিংবা বিশৃঙ্খলভাবে অবস্থান করতে পারবেন না। মোতায়েন করা  পুলিশ সদস্যরা বিচ্ছিন্নভাবে না থেকে নিজেদের দৃষ্টিসীমার মধ্যে থেকে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা অস্ত্র ও গোলাবারুদের সুরক্ষা, নিরাপত্তা এবং ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিশ্চিত করতে করবেন। যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতি সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করতে হবে। কোনোভাবেই এলোমেলো বা বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। অপারেশনের সময় যে কোনও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতনদের যথাযথ তথ্য প্রদান করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য তৎপর থাকতে হবে।

কমিশনারের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিটি সদস্যকে ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই রায়ট ফরমেশনে (লেগ গার্ড, বুট, হেলমেট, বুলেট প্রুফ জ্যাকেট)  থাকতে হবে। অপারেশনের জন্য পর্যাপ্ত সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুদ রাখতে হবে। দুর্গম এলাকায় কিংবা রাত্রিকালীন অপারেশন চালানোর পূর্বে স্থানীয় থানা পুলিশকে অবহিত করে সহায়তা গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে একাধিক টিম গঠন করে অপারেশন চালাতে হবে এবং পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে। অন্যান্য প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে স্থানীয় থানা পুলিশের সহায়তা গ্রহণ করতে হবে। অপারেশনে দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা  ও সদস্যরা অহেতুক মোবাইল ফোনে কথা বলা অথবা কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইসে অডিও কিংবা ভিডিও শোনা থেকে বিরত থাকবেন। অপারেশন চালানোর পূর্বে টিম লিডার বা অপারেশন ইনচার্জ অবশ্যই সম্ভাব্য অপারেশন সম্পর্কে ব্রিফিং করবেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই অপারেশনে থাকা পুলিশ সদস্যদের ব্যক্তি নিরাপত্তার বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।

ডিএমপি’র একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দুর্ঘটনা কখনও বলে-কয়ে আসে না। তারপরও অপারেশনগুলোতে আরেও বেশি সতর্ক থাকা উচিত। তাহলে অপারেশনের সময় নিজেদের ক্যাজুয়ালিটি আরেও কমে যাবে।