টালমাটাল সিলিকন ভ্যালি : ফেসবুক কেলেঙ্কারি

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

প্রযুক্তির দুনিয়ায় ঝড় তুলেছে ফেসবুক। এরপর নড়েচড়ে বসেছে প্রযুক্তি নগরী সিলিকন ভ্যালির অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে ডাটা নির্ভর ব্যবসা চালায় এমন প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ সমস্যা এড়াতে পথ খুঁজতে শুরু করেছে। খবর ইয়াহুর।
ফেসবুক কেলেঙ্কারি প্রকাশ হওয়ার পর অন্যান্য প্রতিষ্ঠানও ফেঁসে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভয়টা তাদেরই বেশি যারা গ্রাহকের তথ্যের ভিত্তিতে বিজ্ঞাপন চালায়। আর গ্রাহকদের ওই তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের প্রভাবিত করারও সুযোগ থাকে।
প্রযুক্তি শিল্পের বিশ্লেষক রব এন্ডের লে বলেছেন, এ সপ্তাহে ফেসবুক, কিন্তু সামনে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানও হতে পারে। প্রযুক্তিশিল্পে এটি অবশ্য খুব সাধারণ একটি সমস্যা।
টালমাটাল অবস্থার মধ্য দিয়ে চলতি সপ্তাহে ফেসবুক ১৪ শতাংশ বাজার মূল্য হারিয়েছে। এর ফলে অন্যতম একটি বড় ও শক্তিশালী কোম্পানির ক্ষতি গুনতে হয়েছে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি।
তবে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা পাঁচ কোটি ফেসবুক গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নেয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেও পরিস্থিতি খুব একটা শান্ত করতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ।
এদিকে সেন্টার ফর হিউম্যান টেকনোলজি বলছে, ফোন, অ্যাপস ও ওয়েব আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। যা প্রমাণ করে এগুলো আমাদের কতটা সুবিধা দেয়। আমরা সবাই এ চক্রে বন্দি হয়ে পড়েছি।
ফেসবুক ছাড়া কষ্টকর?
ফেসবুকের ওই কেলেঙ্কারির পর প্রশ্ন উঠেছে কী ঘটতে যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগের জনপ্রিয় এই মাধ্যমটির। অনেকে হ্যাশট্যাগডিলিটফেসবুক (#deletefacebook) আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। এই তালিকায় হোয়াটসঅ্যাপের সহপ্রতিষ্ঠাতা ব্রায়ান অ্যাকটন, টেসলা ও স্পেসএক্সের মালিক এলন মাস্ক থেকে শুরু করে রাজনীতিকরাও রয়েছেন।
এলন মাস্ক এমনকি ফেসবুক থেকে টেসলা ও স্পেসএক্সের অ্যাকাউন্টও মুছে দিয়েছেন। তিনি এক টুইটার বার্তায় ফেসবুক কী? বলে প্রশ্নও তুলেছেন।
এদিকে প্রশ্ন উঠছে ফেসবুক যে ছেড়ে যাব তাহলে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে যোগাযোগটা রক্ষা করবো কীভাবে? যোগাযোগ আর ব্যবসার অন্যতম মাধ্যম হয়ে ওঠা ফেসবুককে তাই ছেড়ে যাওয়া অনেকের জন্য সত্যিই কষ্টকর।
নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং-এর অধ্যাপক স্কট গ্যালোওয়ে বলেছেন, ফেসবুকের নিজের যতটা না দরকার তার চেয়ে বেশি কোম্পানিকে দরকার বিজ্ঞাপনদাতাদের।