আবারও ‘দুর্বল’ কম্পানির শেয়ার কেনার ঝোঁক

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে শেয়ার গ্রাহকদের কোনো লভ্যাংশ দিচ্ছে না বিবিধ খাতের সাভার রিফ্যাক্টরিজ লিমিটেড। ২০১৪ সাল থেকে ধারাবাহিক লোকসানে থাকা কম্পানিটির আর্থিক উন্নয়নেও কোনো অগ্রগতি নেই। চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের তিন মাসেও লোকসানে থাকা কম্পানির শেয়ারের দাম আকাশচুম্বী।
আইন অনুযায়ী, ব্যবস্থা নিতে অতালিকাভুক্ত সম্ভাব্য তালিকায় রেখেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ। কারণ জানতে চিঠিও পাঠানো হয়েছে, সন্তোষজনক উত্তর না পেলে ব্যবস্থা নেবে স্টক এক্সচেঞ্জ।

শুধু এটিই নয়, এমন অনেক দুর্বল কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগকারীর চাহিদা বেড়েছে। লোকসান, বছর বছর লভ্যাংশ দিচ্ছে না আবার আর্থিক উন্নয়নেও কোনো অগ্রগতি নেই, তবুও শেয়ারের দাম বাড়ছেই।

নতুন বছর ও নতুন সরকারের কাছে ভালো কিছু পাওয়ার আশায় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীর সক্রিয়তা বেড়েছে। নতুন ও পুরনোদের সক্রিয়তায় গতিশীলতার পথে পুঁজিবাজার। লেনদেন এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়া ও মূল্যসূচকে বড় উত্থান এমন আভাস মিলেছে। কিন্তু নিয়মিত লভ্যাংশ ও মুনাফায় থাকা মৌলভিত্তির কম্পানির শেয়ারে বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ কম্পানির শেয়ারেও উল্লম্ফন দেখা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গুজব কিংবা না জেনে-বুঝে দুর্বল কম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করে ঝুঁকিতে পড়ছে বিনিয়োগকারীরা। বিগত সময়ে কম্পানির আর্থিক অবস্থা কিংবা বর্তমান বা ভবিষ্যৎ উদ্যোগ আছে কি না সেসব বিবেচনায় বিনিয়োগের পরামর্শ সংশ্লিষ্টদের। তাঁরা বলছেন, নিজের মূলধনের নিরাপত্তা নিজেকেই দেখতে হবে। হুজুগে কিংবা অন্যের কথা শুনে বিনিয়োগ করলে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ‘এ’ তালিকাভুক্ত কম্পানির বাইরে নতুন তালিকাভুক্ত, ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ ‘বি’ ক্যাটাগরি ও বছরজুড়েই কোনো লভ্যাংশ না দেওয়া কম্পানির মধ্যে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে থাকা কম্পানি গেইনারের শীর্ষে। অর্থাৎ দুর্বল কম্পানিতে বিনিয়োগকারীর আগ্রহ বেশি, শেয়ার কেনার চাপ বেশি থাকায় দামও বাড়ছে।