বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরি টাকা ফিরবে কবে ১ মাসের মধ্যে আরসিবিসির বিরুদ্ধে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির পুরো অর্থ কবে নাগাদ ফেরত পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করে বলা মুশকিল। সরকারের সংশ্নিষ্ট মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা অবশ্য দৃঢ়তার সঙ্গে বারবার বলেছেন যে অবশ্যই রিজার্ভের অর্থ ফেরত আনা হবে। গত বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের ব্যাংক আরসিবিসির সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস দেগুইতোর বিরুদ্ধে সে দেশের আদালতের এক রায়ের ফলে রিজার্ভের অর্থ ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা আরও বেড়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফিলিপাইনের এ ব্যাংকের মাধ্যমেই রিজার্ভের অর্থ অবৈধভাবে হ্যাকাররা তুলে নেওয়ার সুযোগ পায়। 
ফিলিপাইনের আদালত মায়াকে ৩২ থেকে ৫৬ বছরের কারাদণ্ড ও ১০ কোটি ৯০ লাখ ডলার জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা বলছেন, এই সাজার মধ্য দিয়ে অর্থ পাচারের ঘটনায় মায়া আইনগতভাবে দোষী সাব্যস্ত হলেন। আরসিবিসিও তার দায় এড়াতে পারবে না। বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় এই প্রথম আদালত কাউকে সাজা দিলেন। এতে বাংলাদেশের অর্থ ফেরত পাওয়ার বিষয়টি ত্বরান্বিত হবে। আর আরসিবিসিও অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবে না। এখন চুরি হওয়া অর্থ আরসিবিসিকে পরিশোধ করা উচিত বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্নিষ্টরা।
২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে ভুয়া পেমেন্ট অর্ডারের বিপরীতে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। এর মধ্যে শ্রীলংকায় যাওয়া দুই কোটি ডলার বিতরণ হওয়ার আগেই ফেরত পায় বাংলাদেশ। আর ফিলিপাইনে যাওয়া আট কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত এলেও ছয় কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত পাওয়া যায়নি। ফেরত না পাওয়া অর্থের মধ্যে ১৪ মিলিয়ন ডলার ছাড়া বাকি অর্থের খোঁজ পাওয়া গেছে, যার বড় অংশই দেশটির আদালতের নির্দেশে ফ্রিজ হয়ে আছে। এর আগে ফিলিপাইনের আদালতের নির্দেশে প্রায় দেড় কোটি ডলার ফেরত পায় বাংলাদেশ। এর পর থেকে পুরো অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার প্রতিষ্ঠা হয় বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনার দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা যায়নি। এমনকি চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ এখনও ফেরত আনা সম্ভব হয়নি। শিগগিরই বাকি অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে- এমনটি মনে করছেন না ঘটনার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তারা। তবে তারা জানান, অর্থ উদ্ধারে বাংলাদেশের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। অর্থ ফেরত আনার ব্যাপারে মামলা করার প্রক্রিয়া নিয়ে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম  বলেন, রিজার্ভের অর্থ উদ্ধারের জন্য আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির আগেই মামলা করতে হবে। মামলার রায়ের পর কবে নাগাদ অর্থ ফেরত পাওয়া যাবে, তা বোঝা যাবে বলে তিনি জানান। মামলার ব্যাপারে আলোচনা করতে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছে। 
এ মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম গতকাল সমকালকে বলেন, রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্তে অগ্রগতি রয়েছে। দেশ-বিদেশ থেকে এ ঘটনার ব্যাপারে সংগ্রহ করা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। মামলার তদন্ত এগিয়ে নিতে ও চার্জশিট দাখিলের ক্ষেত্রে তা কাজে আসবে। তথ্য চেয়ে কয়েকটি দেশকে 'কোর্ট টু কোর্ট' চিঠিও দেওয়া হয়েছে। তবে এ চিঠিগুলোর উত্তর এখনও পাওয়া যায়নি।