নতুন প্রজাতির ‘ভেনামি’ চিংড়ি উৎপাদনে পাইলট প্রকল্প আসছে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

রপ্তানিকারক ও চিংড়ি চাষিদের দীর্ঘ পরীক্ষার পর অবশেষে বিশ্বখ্যাত ‘ভেনামি’ নামের সাদা চিংড়ি চাষের পদক্ষেপ নিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর। দ্রূতই এর সম্ভাব্যতা যাচাই করে বাগদা চিংড়ির পাশাপাশি পরীক্ষামূলকভাবে এ জাতের চিংড়ি চাষে একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নিতে যাচ্ছে অধিদপ্তর। এ জন্য খুলনা বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বাংলাদেশ মৎস্য গবষেণা ইনস্টিটিউটের পুকুর ব্যবহার করা হবে।
এরই মধ্যে রপ্তানিকারকদের দীঘির্দনের দাবী এবং বাস্তবতার নিরিখে ‘ভেনামি’ চাষের কাযর্ক্রম শুরু করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক সুবিধা থাকায় দেশের উপক‚লবতীর্ খুলনা এবং কক্সবাজারে এই জাতের চিংড়ি চাষ শুরু করা হবে। এদিকে চিংড়ির বড় ক্রেতা দেশগুলোয়ও এখন অথৈর্নতিক মন্দাবস্থা বিরাজ করছে। ভোক্তারাও এখন বেশি দামের বাগদার বদলে ভেনামি চিংড়ি কিনছে। ফলে ভেনামি ব্যাপকভাবে দখল করে নিয়েছে বিশ্ববাজার। 

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বাগদা চিংড়ির উৎপাদন হেক্টরপ্রতি তিন থেকে ছয় হাজার কেজি। অন্যদিকে ভেনামি বা সাদা চিংড়ি উৎপাদন হয় ১০ থেকে ৩০ হাজার কেজি। ফলস্বরূপ বিশ্বব্যাপী বাগদার স্থান দখল করে নিচ্ছে ভেনামি। চিংড়ির বিশ্ববাণিজ্যে ৭৭ শতাংশ অবদানই ভেনামির। বাগদার অবদান ১৩ শতাংশ। ভেনামির মোট ৭২ শতাংশই উৎপাদিত হয় এশিয়ায়। এশিয়ার সব দেশেই সাদা এই চিংড়ির উৎপাদন বেড়েই চলেছে, কেবল বাংলাদেশ বাদে। 

এ প্রসঙ্গে মৎস্য অধিদপ্তরের (ডিওএফ) মহাপরিচালক আবু সাঈদ মো. রাশেদুল হক বলেন, ভিনদেশি এই জাতের চিংড়ি চাষের জন্য খুলনা বিভাগের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের বাংলাদেশ মৎস্য গবষেণা ইনস্টিটিউটের পুকুর ব্যবহার করার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছে। কারিগরি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, তারা পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রাথমিক পদক্ষেপ নিয়েছেন। প্রকল্পটি এই প্রজাতির জন্য নতুন প্রাকৃতিক পরিবেশে মানিয়ে নেয়ার জন্য সহায়ক হবে।

মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের আগস্টে ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি চাষের সম্ভাব্যতা যাচাই এবং নতুন প্রজাতির উপর কী ধরনের প্রভাব পড়ে সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা ভেনামি চিংড়ি চাষের জন্য সমন্বিত উদ্যোগের সুপারিশ করে। এর মধ্যে রয়েছে, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, জৈব নিরাপত্তা, হ্যাচারি ব্যবস্থাপনা, পোনা আমদানি, উৎপাদন এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উপর গুরুত্ব দেয়া। পরীক্ষামূলক চাষের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ব্যাপকভিত্তিক উৎপাদনে যাওয়ার বিষয়ে কমিটি সুপারিশ করে। কমিটি চিংড়ির রেণু উৎপাদন বাড়ানোর জন্য স্থানীয় কিছু হ্যাচারিকে জীবাণুমুক্ত পোনা আমদানির অনুমতি দেয়ার সুপারিশ করে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী এশিয়ার অনেক দেশে বিদেশি রোগের আমদানি ঘটবে এমন আশঙ্কায় ভেনামি প্রজাতির চিংড়ি চাষের বিরোধিতা করা হয়েছিল। তবে বাংলাদেশ হিমায়িত খাদ্য রপ্তানিকারক সমিতি (বিএফএফইএ) ইতিবাচক যুক্তি তুলে ধরে আন্তজাির্তক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার জন্য অনেক দিন থেকেই ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনের বিষয়ে সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।