২৩ বছর পর দেশে ফিরলেন জেল-পালানো চিলির সাবেক গেরিলা নেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

হেলিকপ্টার থেকে ঝুলিয়ে দেওয়া বাক্সে করে তিন সহযোগীসহ জেল থেকে পালানো চিলির সাবেক গেরিলা নেতা পেট্রিসিয়া অর্টিজ মন্টিনিগ্রো ২৩ বছর পর দেশে ফিরেছেন।

অগস্তো পিনোশের ষ্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে লড়াই করা এ বামপন্থি গেরিলা ১৯৯৬ সালে সান্তিয়াগোর জেল থেকে পালিয়েই দেশ ছেড়েছিলেন।

এক পুলিশ সদস্যকে হত্যার অভিযোগে ১৯৯১ সালে তার ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছিল। গত বছর চিলির সর্বোচ্চ আদালত এ গেরিলা নেতার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা উঠিয়ে নেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ড থেকে সান্তিয়াগোর বিমানবন্দরে নামা প্যাট্রিসিয়াকে তার আত্মীয় স্বজন ও সাবেক সহযোদ্ধাসহ জনা পঞ্চাশেকের একটি দল স্বাগত জানায়।

এসময় কারও কারও হাতে ছিল প্যাট্রিওটিক ফ্রন্ট অব ম্যানুয়েল রডরিগেজ (পিএফএমআর) দলের লাল পতাকা। পিনোশের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে  প্যাট্রিসিয়া এ সশস্ত্র দলেরই সদস্য ছিলেন।

“আমি অভিভূত, খুবই অভিভূত। এ ধরনের অভ্যর্থনা আশা করিনি। আমি আমার দেশে ফিরেছি। ফিরেছি মর্যাদা নিয়েই। ২৩ বছর পর একত্রিত হয়েছি কমরেডদের সঙ্গে। এ দেশে যে প্রতিরোধ হয়েছিল, আমি তার অংশ ছিলাম,” সাংবাদিকদের বলেন আবেগাপ্লুত প্যাট্রিসিয়া।

সুইজারল্যান্ডে ফেরার আগে অন্তত তিন সপ্তাহ তার চিলিতেই থাকার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি। দেশ ছাড়ার পর ২০ বছরের বেশি সময় ধরে প্যাট্রিসিয়া ইউরোপের ওই দেশটিতেই থাকছেন।

সান্তিয়াগোতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় আটক হয়েছিলেন এ গেরিলা যোদ্ধা। বিচারে তার ১০ বছরের সাজা হয়েছিল।

১৯৯৬ সালে কারাগারের ওপর দিয়ে যাওয়া একটি হেলিকপ্টার থেকে ঝোলানো বাক্সে করে ‘ফিল্মি স্টাইলে’ তিন সহযোগীসহ পালিয়ে যান তিনি।

সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় নেওয়া এ গেরিলাকে ফেরত পেতে আবেদন জানিয়েও ব্যর্থ হয় চিলির কর্তৃপক্ষ।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্যাট্রিসিয়ার আইনজীবীর আবেদনে সাড়া দিয়ে চিলির সুপ্রিম কোর্ট বাদবাকি সাজা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তুলে নেয়।

প্যাট্রিসিয়ার সঙ্গে জেল পালানো রিকার্ডো পালমা সালামানকাকে ফেরত চেয়ে  চিলি গত বছর ফ্রান্সের কাছেও আবেদন করেছে। ২২ বছর ধরে পলাতক সালামানকা এখন প্যারিস কর্তৃপক্ষের হাতে বন্দি।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলিতে স্বৈরশাসক পিনোশের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে তিন হাজারেরও বেশি লোক মারা পড়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন আরও প্রায় ২৮ হাজার ব্যক্তি।

১৯৯০ সালে দেশটিতে স্বৈরশাসনের অবসান হয়।