প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অ্যাঞ্জেলিনা জোলির সাক্ষাত বিকালে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সফররত জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) বিশেষ দূত ও হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি।

বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় গণভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের প্রেস উইং জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াও জোলি পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। আলাদা এসব বৈঠকে জোলির রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হবে।

হলিউডের সাড়াজাগানো অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি সোমবার সকালে মিয়ানমারে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা দেখতে ঢাকায় আসেন। গত দুদিন তিনি কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। ক্যাম্পে দুর্দশতাগ্রস্ত রোহিঙ্গা মানুষের সঙ্গে বিশেষ করে শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান।

মঙ্গলবার বিকালে তিনি উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্প-৫ এ প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি- মিয়ানমারে অসংখ্য নারী-পুরুষ সেনা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এখনও তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তারা জানিয়েছেন, হয় তাদের বাংলাদেশে রাখা হোক, না হয় গুলি করে মেরে ফেলা হোক।

তিনি বলেন, এখন সবার দায়িত্ব হলো রাখাইনে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যেন তাদের ফেরত না পাঠানো হয়। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও অন্য সুবিধা দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সংখ্যাটা এত বড় যে, একা বাংলাদেশ সামলাতে পারবে না। এ কারণেই সবার সহযোগিতা দরকার। এ ছাড়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে নাগরিকত্ব পেয়ে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা।

জোলি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টের পর সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আসছে। বাংলাদেশ উদার হস্তে এসব রোহিঙ্গাকে গ্রহণ করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে, যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় এবং মানবতার জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত।

তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা খুবই অসহায়। এসব মানুষ শুধু বাস্তুচ্যুতই হয়নি। তারা এখন রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করছে।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জোলি রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ সব সম্প্রদায়ের অবস্থা উন্নয়নে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তাদের অবশ্যই নিজ কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।

এর আগে সোমবার কক্সবাজার পৌঁছে সরাসরি উখিয়ার ইনানী রয়েল টিউলিপে হোটেলে ওঠেন জোলি। সেখান থেকে টেকনাফ চাকমারকূল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের কাছ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। রোহিঙ্গা শিশুদের নিয়ে কিছুক্ষণ খেলাও করেন তিনি।

২০১২ সাল থেকে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার বিশেষ দূত হিসেবে কাজ করছেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। এর আগে রোহিঙ্গাদের দুর্দশা দেখতে গত বছরের ২১ মে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন ইউনিসেফের বিশেষ দূত ও বলিউড অভিনেত্রী সাবেক বিশ্বসুন্দরী প্রিয়াংকা চোপড়া।