ফেব্রুয়ারি কী সিনেমার ‘মধু’ মাস?

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ঢাকাই চলচ্চিত্রের নতুন বছর শুরু হলো ভারতীয় আমদানি করা ছবি দিয়ে। ২০১৯ সালের প্রথম সপ্তাহে  ৪ জানুয়ারি মুক্তি পায় কলকাতার ‘বিসর্জন’ সিনেমাটি। কৌশিক গাঙ্গুলী পরিচালিত ছবিটিতে জয়া আহসানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন আবির চ্যাটার্জি।ছবিটি মুখ থুবড়ে পড়েছে। টানতে পারেনি দর্শক । ছবিটি ব্যবসা করলে হয়তো ‘বিসর্জ’নের সিক্যুয়েল ‘বিজয়া’ আমদানি করে মুক্তি দেয়া হতো। কিন্তু সেটা আর সম্ভব হয়নি। কলকাতার ছবি বাংলাদেশের দর্শক টানতে পারেনি। তাই  পরের সপ্তাহে মুক্তি দেয়া হয় নিরেট দেশি ছবি ‘আই এম রাজ’। 

‘আই এম রাজ’কে বলা যায় বছরের প্রথম অখাদ্য ছবি। তাই হল পায়নি তেমন একটা।  এমন  ছবি হল না পাওয়াটাই স্বাভাবিক। দর্শক এখন আর বোকা নেই। ইন্টারনেটের এ যুগে ‘আই এম রাজ’র ছবি দর্শক গাঁটের টাকা খরচ করে দেখবেন সেটা অকল্পনীয়। বরং ফ্রি দিলেও সময় ব্যয় করে দেখবেন কীনা সন্দেহ। 

পরের সপ্তাহ ১৮ ও ২৫ তারিখে কোন ছবিই মুক্তি পায়নি। পুরোনো ছবি দিয়েই দর্শক টানার চেষ্টা করেছে হলগুলো। বছরের শুরুতে ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাষ্ট্রি জানান দিলো ঢাকার চলচ্চিত্রের সংকটের কথা। দেখিয়ে দিলো  দিনে দিনে ছবি নির্মাণের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ার চিত্র। 

ছবির এ সংকটের সময়ে এসে ফেব্রুয়ারি মাসকে মধূর মাসই মনে করলো চলচ্চিত্র প্রযোজকরা। না হলে এ মাসে এতো ছবি মুক্তির তালিকায় আসবে কেন? ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কোন ছবি মুক্তি না পেলেও দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে যেন প্রতিযোগিতায় নামছেন প্রযোজকরা। গত মাসে সপ্তাহে ফাকা গেলেও এই মাসে এসে প্রতি সপ্তাহে দুটি করে ছবি মুক্তি দিতে যেন উঠে পড়ে লেগেছেন। ভালোবাসা দিবস আর ভাষা দিবস উপলক্ষে তারা হয়তো মনে করছেন এ মাসে ছবি ব্যবসা হবে? আসলেই কী ব্যবসায় সফলের মাস এটি? উত্তরে হয়তো সবাই না বলবেন। কারণ এখন ভালো কন্টেন্ট এর যুগ। ভালো ছবি নির্মাণ না করলে ভালো ব্যবসা আশা করাও বোকামি। 

চলতি মাসের ৮ ফেব্রুয়ারি ৩০ থেকে ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে শামীমুল ইসলাম শামীমের ‘আমার প্রেম আমার প্রিয়া’। যদিও এই ছবির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় বছর তিনেক আগে। চাইলেই ছবিটি গত মাসেও মুক্তি দিতে পারতো। অন্যদিকে একই তারিখে মুক্তি পাচ্ছে তারেক শিকদার পরিচালিত ‘দাগ হৃদয়ে’। দুটি ছবিই পুরোপুরি কমার্শিয়াল। ফাকা মাঠ ফেলে একই দিনে দুই ছবি মুক্তির প্রতিযোগিতা না করলেই কী হতো না? এমন প্রশ্ন রেখেছেন অনেকের। 

১৫ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে তৌকীর আহমেদের ‘ফাগুন হাওয়ায়’ ছবিটি। প্রায় ৪০টি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির কথা আছে বলে জানান পরিচালক। একই দিনে মুক্তি পাচ্ছে হাবিবুল ইসলাম হাবিব পরিচালিত ও মৌসুমী অভিনীত ‘রাত্রির যাত্রী’। ভালোবাসা দিবসে ব্যবসা করবে এমন হিসেবে কষে রাত্রীর যাত্রী মুক্তি দেয়াটা কতটা বোকামি হবে সেটা ছবি মুক্তির পরই টের পাবেন প্রযোজক। তবে ‘ফাগুন হাওয়ায়’ মুক্তি দেয়াটা ঠিক আছে। কারণ, ভাষা আন্দোলন নিয়ে ছবি এটি। একুশে ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে ছবিটি মুক্তির যৌক্তিতা রয়েছে বেশ। 

পরের সপ্তাহে ২২ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে ‘অন্ধকার জগ’ নামে একটি ছবি।বদিউল আলম খোকন পরিচালিত ছবিটিতে রয়েছেন ডিএ তায়েব ও মাহিয়া  মাহি। এ সপ্তাহে এই একটি ছবিই মুক্তি পাচ্ছে প্রেক্ষাগৃহে। ছবিটি নিয়ে আশাবাদের কথা জানিয়েছেন ডিএ তায়েব। কিন্তু কতটা দর্শক টানতে পারবে সেটা সময়ই বলে দেবে। 

মোট কথা চলতি মাসের তিন সপ্তাহজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে এই পাঁচ ছবি মুক্তি পাচ্ছে। কিন্তু কেন? পরের মাসই হয়তো নতুন কোন ছবি মুক্তি পাবেনা। হলে থাকবে না নতুন কোন ছবি। ছবির মুক্তির এ অসুস্থ প্রতিযোগিতা থেকে ঢাকাই চলচ্চিত্র ইন্ডাষ্ট্রিকে বের হয়ে আসতে হবে। একটা ছবি নির্মাণের পর সেটার বাজার ও মুক্তির সময় নিয়ে আরও বিস্তর গবেষণা করা প্রযোয়জন। কারণ চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িত আছে ব্যবসা। ছবি যদি ব্যবসা না করে তাহলে প্রযোজক বিমুখ হবেন। আর প্রযোজক না থাকলে ছবি বানাবে কে? ভাবতে হবে এখনই