খাতুনগঞ্জে বাড়তি সরবরাহ : শুকনা মরিচের দাম কমল কেজিতে ৩০ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে  দীর্ঘদিন ধরে শুকনা মরিচের দাম বাড়তির দিকে ছিল। সম্প্রতি পণ্যটির দাম কমে এসেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতের বাজারেও শুকনা মরিচের দাম কমতির দিকে রয়েছে। এ সুযোগে দেশীয় আমদানিকারকরা পণ্যটির আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের পাইকারি বাজারে পণ্যটির সরবরাহ আগের তুলনায় বেড়ে গিয়ে দাম কমে গেছে। আগামী দিনগুলোয় আমদানি না কমলে দেশের বাজারে শুকনা মরিচের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।

গতকাল খাতুনগঞ্জ বাজারে মসলার আড়তগুলো ঘুরে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি ভালো মানের শুকনা মরিচ ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে সপ্তাহান্তে ভালো মানের শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৩০ টাকা কমেছে। একই পরিমাণ দাম কমেছে আমদানি করা কিছুটা নিম্নমানের (ঝাল তুলনামূলক কম) শুকনা মরিচেরও। গতকাল পণ্যটি কেজিপ্রতি ১৪০-১৪৫ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি আমদানি করা কিছুটা নিম্নমানের শুকনা মরিচ ১৭০-১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

এদিকে আমদানি করা শুকনা মরিচের দাম কমার প্রভাব পড়েছে দেশে উৎপাদিত মরিচের ক্ষেত্রেও। পাইকারি বাজারে সপ্তাহান্তে দেশে উৎপাদিত শুকনা মরিচের দাম কেজিতে ৫-৭ টাকা কমেছে। বগুড়ায় সবচেয়ে বেশি শুকনা মরিচ উৎপাদন হয়। গতকাল খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে বগুড়া থেকে সরবরাহ হওয়া শুকনা মরিচ কেজিপ্রতি ১১৫-১১৬ টাকায় বিক্রি হয়। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি বগুড়ার শুকনা মরিচ ১২০-১২২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। চাঁদপুর থেকে সরবরাহ হওয়া শুকনা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ১২৮-১৩০ টাকা থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১২২-১২৫ টাকায়। চট্টগ্রামের হাটহাজারী অঞ্চলে উৎপাদিত শুকনা মরিচ কেজিপ্রতি ১৬৫-১৭০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। এক সপ্তাহ আগেও পণ্যটি ১৭২-১৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অন্যদিকে গতকাল পাইকারি বাজারে কুমিল্লা থেকে সরবরাহ করা প্রতি কেজি শুকনা মরিচ মানভেদে ১১৫-১২০ টাকায় বিক্রি হয়। সপ্তাহখানেক আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ১২২-১২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল।

খাতুনগঞ্জের মসলা ব্যবসায়ী রনজিত ঘোষ বণিক বার্তাকে বলেন, গত চার-পাঁচ মাস ভারতের বাজারে শুকনা মরিচের দাম বাড়তির দিকে ছিল। এ সময় দেশটিতে শুকনা মরিচের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৬০ টাকা বেড়েছিল। তবে নতুন মৌসুমের মরিচ বাজারে আসতে শুরু করায় দেশটিতে শুকনা মরিচের দাম কমেছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন দেশীয় আমদানিকারকরা। তারা ভারত থেকে তুলনামূলক কম দামে শুকনা মরিচ আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে বাড়তি সরবরাহের কারণে দেশের পাইকারি বাজারে পণ্যটির দরপতন দেখা দিয়েছে। বাড়তি আমদানির কারণে দেশে উৎপাদিত শুকনা মরিচের দামও কমে গেছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে খাতুনগঞ্জ বাজারে প্রতিদিন ১৫-২০ ট্রাক শুকনা মরিচ সরবরাহ হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাজারে মরিচ আসছে। আনা হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি করা শুকনা মরিচও। মান ভালো হওয়ায় ভোক্তাদের কাছে দেশে উৎপাদিত শুকনা মরিচের চাহিদা বেশি। ফলে পণ্যটির বেচাকেনাও তুলনামূলক বেশি হয়। তবে মসলাপণ্য উৎপাদক ও প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলক কম দামে আমদানি করা শুকনা মরিচ কিনতে বেশি আগ্রহী। তাদের কাছে মসলাপণ্যটির চাহিদাও ক্রমে বাড়ছে। বাড়তি চাহিদার বিষয়টি মাথায় রেখেই দেশীয় আমদানিকারকরা শুকনা মরিচ আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে আমদানি করা ও দেশে উৎপাদিত দুই ধরনের শুকনা মরিচের দামই আগের তুলনায় কমে গেছে।