সিলেটে দাম বাড়ায় বাণিজ্যিক উৎপাদন বেড়েছে টক বরইয়ের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

সাত্তার আজাদ, সিলেট: সিলেটে পথের ধারে ঝোড়ঝাড় জঙ্গলে এমনি বেড়ে উঠত বরই গাছ। গাছে কাটার কারণে লোকজন কেটে ফেলত। সেই বরই গাছ নতুন করে লাগানো শুরু হয়েছে সিলেটের বিভিন্ন উপজেলায়। বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক কদর বেড়েছে টক বরইয়ের।

২০২১ সালে বাংলাদেশ থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। এর মধ্যে টক বরই রয়েছে। এমনিতে বিচ্ছিন্নভাবে এই বরই বিদেশ রফতানি করা হয়। কানাডা, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রে টক বরই কিনতে পাওয়া যায়।


 সিলেটে টক বরইকে জংলী বরই, বনবরই বা টেঙ্গা বরই বলা হয়। সিলেটের বাজারে বিক্রি বেশি। প্রতি কেজি পাকা বরই এখন ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাচা অবস্থায় টক বরইয়ের প্রতিকেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। শুকিয়ে রাখার জন্য এখন পাকা বরইয়ের দাম বেড়েছে বলে জানালেন ব্যবসায়ীরা। সিলেটে এই বরই শুকিয়ে রাখা হয়। পরে দোকানে রেখে শুকনো বরই বিক্রি করা হয়। কেউ শুকিয়ে আচার করে রাখেন। শুকনো বরই বিদেশে আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানো হয়।

সিলেটে এখন প্রায় প্রতটি বাড়িতে বরইগাছ লাগানো হচ্ছে। কয়েক বছর আগে গ্রাফটিং করে বনবরই গাছে হাইব্রিড কলম সংযুক্ত করার প্রবনতা বেড়েছিল। এখন তা কমে গেছে। প্রতিটি মাঝারি গাছ থেকে এক থেকে দেড় মণ বরই উৎপাদন করা যায়। তাই বরইগাছ এখন লাভজনকও।

দেশি বরইয়ে ভিটামিন সির পরিমাণ বেশি। এতে সংক্রমণজনিত রোগ যেমন টনসিলাইটিস, ঠোঁটের কোণে ঘা, জিহ্বায় ঘা, ঠোঁটের চামড়া উঠে যাওয়া ইত্যাদি দূর করে। দেশি বরইয়ে প্রচুর পরিমাণ রস থাকে। এই রসকে অ্যান্টিক্যানসার হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্যানসার কোষ, টিউমার কোষ ও লিউকেমিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই দেশি বরই উপকারি। ক্যালরি ও ফাইবার থাকার কারণে শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়। শুকনো বরই রক্ত পরিশুদ্ধ করে। হজম শক্তি বাড়ায়। বরইতে ফ্যাট নেই।

বরই খেয়ে বীজ ফেলে দিলেই চারা গজিয়ে গাছ হয়। পরিচর্যা ছাড়াই ফলন পাওয়া যায় বলে সিলেটে টক বরইয়ের চাষ ও উৎপাদন বেড়েছে বলে জানালেন সিলেট কৃষি সম্প্রাসারণ অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপ পরিচালন এম ইলিয়াস।