দুর্নীতিবাজদের ‘লোভের জিভ’ কেটে ফেলা হবে : দুদক চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

দুর্নীতিবাজদের ‘লোভের জিভ কেটে’ ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখা হবে এবং আমরা লোভের জিহ্বা কেটে দিতে চাই। সেটা আমরা কাটা শুরুও করেছি।

গতকাল রবিবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ‘দুর্নীতি দমন কমিশনের কৌশলপত্র-২০১৯’ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি একথা বলেন।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতিবাজদের লজ্জা ফিরিয়ে আনতে হলে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা। দুদককে ভয় পায় না এমন লোক হয়তো সমাজে নেই। তবে ভয় দিয়ে সবকিছু জয় করা যায় না। তবে আমি আগেও বলেছি আজও বলছি কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে দুর্নীতি দমন সম্ভব নয়। দুর্নীতি দমনে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন। রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া দুর্নীতি দমন করা যাবে না।

দুদক কমিশনার এ এফ এম আমিনুল ইসলাম বলেন, দুর্নীতি দু’টি পর্যায়ে বেশি হয়। একটি প্রাতিষ্ঠানিক এবং অপরটি ব্যক্তি পর্যায়ে। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে দুর্নীতি অবশ্যই কমে আসবে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তামান্না রিফাত আরা বলেন, দেশের সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমন কোনো পদ্ধতি নেই, যার সাহায্যে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. সাইদুর রহমান দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন।

আর্মডফোর্সেস মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী মো. আশিকুর রহমান মিয়া দুর্নীতিকে একটি চেইন অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, নিচের দিকের কর্মকর্তারা জানেন তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও দুর্নীতিপরায়ণ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শম্পা গুহ বলেন, পদ্ধতিগত কারণেই দুর্নীতি অপ্রতিরোধ্য। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামস আসিফ চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এথিকস্ ক্লাব গঠনের আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অর্পিতা মহাজন বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ এবং তাত্ক্ষণিক ফল চাই। শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী টোটন চন্দ্র দেবনাথ বলেন, দুর্নীতি যারা করেন তাদের জন্য ভয় ও লজ্জার ব্যবস্থা করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ। আরো বক্তব্য রাখেন দুদক কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদক সচিব মোহাম্মদ দিলোয়ার বখ্ত, মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ মুনীর চৌধুরী, মহাপরিচালক (তদন্ত) মো. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ।