গভীর শ্রদ্ধায় কলকাতায় পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র পালিত হলো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।

বুধবার বিকেল থেকেই ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতি বছরের মতো এ বছরও কলকাতার রবীন্দ্রসদন সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে দিনটি পালন শুরু হয়।

ভাষা সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মাতৃভাষা দিবস পালন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষ। পরে বিকেল ৫টা থেকে সকাল ৫টা পর্যন্ত একটানা ১২ ঘণ্টা ধরে চলে অনুষ্ঠান। 

বুধবার রাত ১২টার দিকে একুশের প্রথম প্রহরে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে  মশাল মিছিল করা হয়। এ সময় দেবশঙ্কর হালদার, বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়সহ অন্যান্য বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনেও যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান ভাষা শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। একুশের শুরুতে উপ-হাইকমিশন চত্বরে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে পতাকা অর্ধনমিত করেন উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান। এরপর ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ১ মিনিট নিরবতা পালন এবং বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে শুরু হয় প্রভাত ফেরি। 

প্রভাত ফেরিটি সোহরাওয়ার্দী এভেনিউস্থ ‘বাংলাদেশ গ্রন্থাগার ও তথ্যকেন্দ্র’ থেকে শুরু হয়ে উপ-হাইকমিশন চত্বরে এসে শেষ হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশের উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান কংগ্রেসের বিধায়ক অসিত মিত্র, বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুসহ কলকাতার কবি, সাহিত্যিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারি ও তাদের পরিবারের সদস্যরা, কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিক, কলকাতার ভাষাপ্রেমী এবং বিভিন্ন নাট্য সংগঠনের সদস্যরাসহ অনেকে। 

প্রভাত ফেরি শেষে উপ-হাইকমিশন চত্ত্বরে অবস্থিত শহিদ মিনারে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। পরে মহান ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা জানিয়ে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু বলেন, প্রতিটি বাঙালির কাছে আজকের দিনটি অনেক গর্বের। ভাষাকে কেন্দ্র করে এত বড় আন্দোলন এর আগে কোনদিন গড়ে ওঠেনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা আন্দোলন বিস্ফোরিত হয়ে আজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। ইউনেস্কোর স্বীকৃতি এই আন্দোলকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।

উপহাইকমিশনার তৌফিক হাসান বলেন, আজকের দিনটিতে ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছিল বাঙালিরা। তাই বাঙালি জাতির কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন।

মহান ভাষা শহীদ দিবসের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে বৃহস্পতিবার বিকেলে কলামন্দিরের কলাকুঞ্জ সভাগৃহে (৪৮, শেক্সপীয়র সরণি, কলকাতা-৭০০০১৭) এক বহুভাষিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কলকাতায় বিভিন্ন দেশের কনস্যুলেট প্রতিনিধিরা এতে নিজ নিজ ভাষায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপস্থাপন করেন। তাদের মধ্যে ছিল নেপাল, রাশিয়া, জার্মানী, থাইল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস।

এদিকে এদিন কলকাতার ময়দান চত্বরে শহীদ উদ্যানে শহীদ বেদিতে মাল্যদান করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধায়। সকাল সোয়া ১১টার দিকে মুখ্যমন্ত্রী শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এ সময় তার সঙ্গে কলকাতার মেয়র ফিরাদ হাকিম ও সাংসদ যোগেন চৌধুরীসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলার সালারে বাবলা গ্রামে ভাষা শহীদ বরকতের জন্মভিটায়ও নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়।