শুল্ক বৃদ্ধির ঝুঁকি বহাল

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছতে মরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রতিনিধিদের আলোচনার সময় আরো বাড়ল। চীনের প্রতিনিধিরা ওয়াশিংটনে আরো আলোচনা চালিয়ে যাবেন এ সংবাদে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। খবর বিবিসি ও ব্লুমবার্গ।

চীনের প্রতিনিধিদের ওয়াশিংটনে অবস্থানের সময় বাড়ানোর মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে উভয় পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছার কাছাকাছি এসেছে। হোয়াইট হাউজের বরাতে এক বিবৃতিতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আলোচনার ‘অগ্রগতির’ প্রশংসা করেছেন। এদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘উভয় পক্ষই সত্যিকারের একটি চুক্তিতে পৌঁছতে চাইছে, এমন কোনো চুক্তি নয়, যেটা কোনো অর্থ বহন করে না।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই এ চুক্তি অনেক অনেক বছর টিকে থাকুক এবং উভয় দেশের উপকারে আসুক।’

আগামী ১ মার্চের মধ্যে কোনো একটি চুক্তিতে পৌঁছার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের বেঁধে দেয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে চূড়ান্ত দফা আলোচনা গত শুক্রবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। স্পষ্টত উভয় পক্ষ আলোচনায় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে না পারায় চীনের প্রতিনিধি দলের প্রধান উপপ্রধানমন্ত্রী লিয়ু হি যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে অবস্থানের সময় আরো দুদিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। শুক্রবার লিয়ু হি ও নিজ ক্যাবিনেটের মন্ত্রিদের পাশে দাঁড়িয়ে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যকার আলোচনায় যদি অগ্রগতি দেখা যায়, তাহলে ১ মার্চের সময়সীমা তিনি এক মাস বা তারও বেশি বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছেন।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা সমঝোতায় পৌঁছতে সক্ষম হলে চূড়ান্ত পর্যায়ে শি জিনপিং ও ট্রাম্প দ্বিপক্ষীয় চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ট্রাম্প আশা করছেন, চুক্তির বিষয়টি ‘অত দূরে নয়’ এবং তিনি মনে করেন চুক্তি না হওয়ার চেয়ে চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। এদিকে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী লিয়ু হি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শিগগিরই চুক্তি হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিন ইঙ্গিত দেন, শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মধ্যে ফ্লোরিডার মার-অ্যা-লাগো রিসোর্টে মার্চের শেষের দিকে আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এদিকে শনিবার চীনের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার বরাতে লিয়ু হি জানান, উভয় পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং বাণিজ্য ভারসাম্য, কৃষি, প্রযুক্তি স্থানান্তর, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও আর্থিক সেবাসংক্রান্ত বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।

তবে মার্কিন অংশের নেতৃত্বদানকারী রবার্ট লাইটহাইজার মনে হচ্ছে ততটা আশাবাদী নন। তিনি বলেন, কাঠামোগত দিক থেকে কিছুটা অগ্রগতি হলেও আমরা বড় কিছু প্রতিবন্ধকতারও মুখোমুখি হচ্ছি।

আলোচনার ফলে শেয়ারবাজারে মিশ্র ফলাফল দেখা গেছে। বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতির  সময়সীমা না বাড়ালে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না যে ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা হবে কিনা।

উভয় পক্ষ মুদ্রানীতি নিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বলে বৈঠকে জানিয়েছেন মানিউচিন। চলতি সপ্তাহে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল, মার্কিন শুল্কের প্রভাব লঘু করতে চীন ইউয়ানের মান যেন ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ না করে, সে দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা মার্ক সবেল ব্লুমবার্গের কাছে এক মন্তব্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে ডলারের বিপরীতে ইউয়ানের মান স্থিতিশীল রাখার বিষয়টি চীনের জন্য বড় কিছু ঘটনা নয়, যেখানে বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছার ব্যাপারে মুখিয়ে রয়েছে বেইজিং।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ে কয়েক দফা বাণিজ্য আলোচনায় বসেছেন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধিরা। গত ১ ডিসেম্বর বুয়েন্স আয়ার্সে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের বাণিজ্যযুদ্ধ বিরতি ঘোষণার পর উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরুর সুযোগ সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতি ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, বাণিজ্য আলোচনা আরো এগিয়ে নেয়ার স্বার্থে ১ মার্চের সময়সীমা বাড়াতে প্রস্তুত রয়েছেন তিনি। চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ বাণিজ্য ঘাটতি এবং চীনের বাজারে মার্কিন কোম্পানিগুলোর স্বার্থ সুরক্ষা ও মেধাস্বত্ব আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা নিয়ে রেখেছে।

এদিকে বাণিজ্যযুদ্ধ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তায় উভয় দেশের অর্থনীতির ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে এবং অর্থবাজারে বেশ ঘোলাটে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।