ওয়াশিংটনে মুদ্রাচুক্তি নিয়ে দরকষাকষি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

বেইজিং ইচ্ছেমতো ইউয়ানের মান অবমূল্যায়ন করবে না, ওয়াশিংটনের এ দাবি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো কোনো গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়নি। বিষয়-সংশ্লিষ্ট চারটি সূত্র জানিয়েছে, উভয় পক্ষ মুদ্রাচুক্তিসহ বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে কোনো চুক্তিতে উপনীত হতে পারেনি। 

বেইজিং যেন ইচ্ছেমতো ইউয়ানের মান অবনমন না করে, সে বিষয়ে  ওয়াশিংটনের দাবি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বেশ দরকষাকষি চলছে। শনিবার চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাণিজ্য বিরোধ নিরসনে ৭ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা চালিয়েছেন। উভয় দেশের মধ্যকার এ বাণিজ্যযুদ্ধ দুই দেশের অর্থনীতিসহ বিশ্ব অর্থনীতিতে বেশ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

গতকাল সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে আবার বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। ১ মার্চের আগে ঐকমত্যে পৌঁছাতে উভয় পক্ষই মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট চীনের ২০ হাজার কোটি ডলারের পণ্যে শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার হুমকি দিলেও শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ আরো তিক্তকর অবস্থায় পৌঁছানোর বিষয়টি এড়াতে সময়সীমা মাসখানেক বাড়ানোরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ওয়াশিংটনে চলমান বাণিজ্য আলোচনার সময়সীমা শুক্রবার শেষ হলেও সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছাতে ব্যর্থ হওয়ায় চীনের প্রতিনিধি দলের নেতা উপপ্রধানমন্ত্রী লিয়ু হি ওয়াশিংটনে অবস্থানের সময়সীমা আরো দুদিন বাড়িয়ে নেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে নেয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরেই ট্রাম্প অভিযোগ করে আসছেন, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক বাজারে সুবিধা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ইচ্ছেমতো ইউয়ানের মান নির্ধারণ করছে বেইজিং। দ্বিপক্ষীয় আলোচনাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হচ্ছে চীন যেন ইউয়ানের মান স্থিতিশীল রাখে। যদি বেইজিংকে এ দাবি পালনে বাধ্য করতে পারে ওয়াশিংটন, তাহলে মার্কিন শুল্ক আরোপের প্রভাব ঠেকাতে ইউয়ানের মান অবমূল্যায়নের মাধ্যমে রফতানি সাশ্রয়ী করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হবে।

শনিবারসহ টানা পাঁচদিন আলোচনা চালিয়ে নিজেদের বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা চালাচ্ছে শীর্ষ দুই অর্থনীতি। উভয় পক্ষ আলোচনায় অগ্রগতির দাবি করে তা আরো দুদিন বাড়িয়ে নেয়।

বিষয়-সংশ্লিষ্ট এক সূত্র মারফত জানা যায়, চীনের প্রতিনিধি দল সোমবার ওয়াশিংটন ত্যাগ করতে পারে। গত ১ ডিসেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যযুদ্ধে বিরতি কার্যকর হওয়ার পর এ নিয়ে উভয় পক্ষ নিজেদের বিরোধ নিরসনে চতুর্থ দফা বৈঠক করেছে।

‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি গ্রহণ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্যে ভারসাম্য সৃষ্টি এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নিয়ে আনার চেষ্টা করছেন। শুক্রবার আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে হোয়াইট হাউজের ওভাল অফিসে তিনি বলেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর বেশ ভালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া তিনি ১ মার্চের সময়সীমা বাড়াতে চান এবং শিগগিরই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান বলে ইঙ্গিত দেন।

সময়সীমা বাড়ানো হলে দ্বিতীয় দফা ২০ হাজার কোটি ডলারের চীনা পণ্যে শুল্কারোপ থেকে বিরত থাকবে ওয়াশিংটন।

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েক দফা চলা আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিরা যুক্তি দেখিয়ে আসছেন যে, ইউয়ানের অবমূল্যায়নের ফলে বাণিজ্যক্ষেত্রে সুবিধা পাচ্ছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কারোপের প্রভাব লঘু করছে বেইজিং। এছাড়া চীনের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি নিয়েও মার্কিন প্রতিনিধিরা অভিযোগ তুলে আসছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীন। আগামীতে অতিরিক্ত ১ কোটি টন সয়াবিন আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।

গত বুধবার রয়টার্সের একটি বিশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়, উভয় পক্ষ সাইবার চুরি, মেধাস্বত্ব, সেবা, কৃষি ও ভর্তুকিসহ শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) খসড়া তৈরি করেছে। কিন্তু শুক্রবার ট্রাম্প জানান, তিনি এমওইউ পছন্দ করেন না। তিনি আসলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি প্রত্যাশা করছেন।