অনলাইন নিরাপত্তায় ভিপিএন সবসময় কার্যকর নয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএনের মাধ্যমে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধা মিলছে। ভিপিএন নেটওয়ার্কে সাইন আপ করা অনলাইন নজরদারি বন্ধের সমার্থক হয়ে উঠেছে। বহু মানুষ অনলাইনে গোপনীয়তা রক্ষায় ভিপিএন সফটওয়্যার ব্যবহার করছে। কিন্তু অনলাইনে থাকা অবস্থায় ভিপিএন কি শতভাগ নিরাপত্তা দিতে সক্ষম? ইয়াহু টেকের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, অনলাইন নিরাপত্তায় ভিপিএন সবসময় কার্যকর নয়।

ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক বা ভিপিএন হলো কোনো পাবলিক নেটওয়ার্কের মধ্যে একটি বিশেষ প্রাইভেট নেটওয়ার্ক সিস্টেম, যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীকে সম্পূর্ণ নিরাপদ ব্রাউজিং ও তথ্য আদান-প্রদানে সহায়তা করে। পাশাপাশি কোনো দেশ বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ওয়েবসাইট এবং ব্লক করে দেয়া ইন্টারনেট কনটেন্ট দেখার জন্যও ভিপিএন কার্যকর। এ নেটওয়ার্ক সেবা ব্যবহারের জন্য প্রয়োজন ভালো মানের একটি ভিপিএন সফটওয়্যার। বিনামূল্যে বা অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের অনেক সফটওয়্যার পাওয়া যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাস্তবে ভিপিএনের ব্যবহার অনেক বেশি জটিল। ভিপিএনের মাধ্যমেও হাতিয়ে নেয়া যেতে পারে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য। সম্প্রতি সোস্যাল মিডিয়া জায়ান্ট ফেসবুকের বিরুদ্ধে ওঠা এক অভিযোগে এমন তথ্যই জানা গেছে।

 ফেসবুক নিজেদের তৈরি ‘ওনাভো’ নামের ভিপিএন অ্যাপের মাধ্যমে ব্যবহারকারী ও প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর নজরদারি এবং তথ্য সংগ্রহের কাজ করে আসছে। বিষয়টি প্রকাশের পর ভিপিএনের ব্যবহার নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

ফেসবুক ব্যবহারকারীদের অনলাইনে থাকার সময় অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে ওনাভো অ্যাপ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু কৌশলে ওনাভোর মাধ্যমে গ্রাহকদের অ্যাপ ব্যবহারসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবহারকারীরা কে কত সময় কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন, কোন অ্যাপ কতবার ডাউনলোড করেছেন, এমন অনেক তথ্য ফেসবুক সংগ্রহ করেছে। ফলে কোন অ্যাপ কিংবা কোম্পানির পারফরম্যান্স ভালো, তা যাচাই করে প্রতিদ্বন্দ্বী সম্পর্কে আগেভাগেই জেনে যায় ফেসবুক। পরবর্তী সময়ে তারা হয় ওই প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপ অথবা কোম্পানিকে অধিগ্রহণ করে কিংবা কৌশলে বন্ধ করার ব্যবস্থা করে। ফেসবুক এরই মধ্যে তাদের বিতর্কিত ওনাভো ভিপিএন অ্যাপ গুগল প্লে স্টোর থেকে সরিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের দাবি, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে ভিপিএন সফটওয়্যার অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর। পাবলিক নেটওয়ার্কে বিশেষ এ সফটওয়্যারে এনক্রিপটেড গেটওয়ে ব্যবহার করা হয়। এ কারণে ইন্টারনেট সরবরাহকারী, কফি শপ, আবাসিক হোটেল কিংবা প্রতিবেশীর ওপেন ওয়াই-ফাই রাউটার কখনই একজন ভিপিএন ব্যবহারকারী অনলাইনে দীর্ঘসময় কী কাজ করছেন, সে বিষয়ে জানতে পারে না। তবে ওয়েব দুনিয়ায় ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় ট্র্যাক করা যাবে না, এমন দাবির কোনো ভিত্তি নেই। ফেসবুক ও গুগলের মতো অন্যান্য অনলাইন বিজ্ঞাপন নেটওয়ার্ক সেবাদাতা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের ব্রাউজিং সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহে এখনো কুকিস এবং বিভিন্ন ওয়েব ফিচার ব্যবহার করছে।

ভিপিএন কম্পিউটার নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে চালানো সাইবার হামলা ঠেকাতেও অক্ষম। ভিপিএনের মাধ্যমে ইন্টারনেটে প্রবেশকারী যে কেউ ক্ষতিকর অ্যাটাচমেন্ট কিংবা হ্যাকিংয়ের শিকার কোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশ করলে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে।

বিশ্লেষকদের তথ্যমতে, ভিপিএনের প্রয়োজনীয়তা এখন অনেকটাই কমে এসেছে। বেশির ভাগ ওয়েবসাইট তাদের সেবাগুলোকে এনক্রিপশন প্রযুক্তির আওতায় নিয়ে আসছে। উইন্ডোজচালিত ডিভাইস থেকে ক্রোম ব্রাউজারের মাধ্যমে অনুসন্ধান করলে যে পেজগুলো দেখানো হয়, তার ৮২ শতাংশ এনক্রিপটেড প্রযুক্তির আওতায় নিয়েছে গুগল। কাজেই ভিপিএন ছাড়াও ইন্টারনেটে আপনি কী করছেন, সে সম্পর্কে জানতে পারবে না ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান।