বিদেশি ত্রাণবহর আটকে দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সেনাবাহিনী

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোর সমর্থনে ত্রাণ প্রবেশ নিয়ে ফের সহিংস হয়ে উঠেছে সীমান্ত এলাকা। এদিকে, গুইদোর প্রতি সমর্থন দেয়ায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্তরাষ্ট্রের পর এবার প্রতিবেশী দেশ কলম্বিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার রাজধানী কারাকাসে সরকার দলীয় এক জনসভায় জাতীয় পতাকা হাতে মাদুরো সমর্থকরা মার্কিনবিরোধী স্স্নোগান দিতে থাকে। এ সময় 'ট্রাম্প হ্যান্ডস অফ ভেনেজুয়েলা' বা 'ট্রাম্প ভেনেজুয়েলা থেকে দূরে থাক' লেখা পোস্টারে ছেয়ে যায় সর্বত্র -সিনহুয়া
কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে ভেনেজুয়েলার সীমান্ত থেকে বিদেশি ত্রাণবাহী গাড়িবহর ফিরিয়ে দিয়েছে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর অনুগামী সেনাবাহিনী। শনিবারের এ ঘটনায় চার প্রতিবাদকারী নিহত হয়েছে। শনিবার বিক্ষোভকারীরা কলম্বিয়া এবং ব্রাজিল থেকে আসা ত্রাণ সংগ্রহ ও পরিবহনের চেষ্টা করলে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। দেশটির বিরোধী দলের সমর্থকরা সীমান্তে সেনাপ্রতিরোধ ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন খাদ্য ও ওষুধবাহী ট্রাকগুলো কলম্বিয়ার গুদামগুলোতে ফিরে যায়। সেনাপ্রতিরোধ ভাঙার চেষ্টাকালে বহু বিক্ষোভকারী আহত হন। সেনাদের পাশাপাশি মুখোশ ও বেসামরিক পোশাক পরা কিছু লোকও প্রতিবাদকারীদের দিকে গুলি ছুড়েছে বলে দাবি প্রত্যক্ষদর্শীদের। 

এদিকে, বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদোর প্রতি সমর্থন দেয়ায় প্রেসিডেন্ট মাদুরো কলম্বিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়ে দেশটির কূটনীতিকদের ভেনেজুয়েলা ছাড়ার জন্য ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন।

সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, কলম্বিয়ার ?কুকুতা শহর থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলো রওনা হওয়ার পর এর একটিতে উঠেছিলেন গুইদো, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত অধিকাংশ পশ্চিমা দেশ যাকে ভেনেজুয়েলার বৈধ নেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। গুইদো সীমান্তের কলম্বিয়ার পাশের তিয়ানদিতাস সেতু পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট ইভান দুকেও ছিলেন।

বিরোধী দলের আশা ছিল, সেনারা হয়তো ত্রাণ সরবরাহ ফিরিয়ে দেবে না। কলম্বিয়ার দাবি অনুযায়ী, এদিন ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর ৬০ জনের মতো সদস্যপক্ষ ত্যাগ করলেও দেশটির ন্যাশনাল গার্ডের সেনারা সীমান্তে লাইন দিয়ে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এবং ত্রাণবাহী গাড়িবহরের দিকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে। উরেনা সীমান্তে সেনাদের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের পর দুটি ত্রাণবাহী ট্রাকে আগুন ধরে যায়। ভেনেজুয়েলার সীমান্ত শহর সান আন্তোনিও ও উরেনায় কয়েকজন আইনপ্রণেতাসহ বিরোধী দলের সমর্থকরা জাতীয় পতাকা হাতে 'মুক্তি', 'মুক্তি' স্স্নোগান তুলে সীমান্তের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সেনারা তাদের দিকে রাবার বুলেট ছোড়ে। 

উরেনার প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ও নিরাপত্তা বাহিনীর দিকে পাথর নিক্ষেপ করে। এ সময় তারা একটি বাসেও আগুন দেয়। প্রায় ডজনখানেক ত্রাণবাহী ট্রাক ভেনেজুয়েলায় প্রবেশের চেষ্টা করলেও এসব ঘটনার পর অন্তত ছয়টি ট্রাক কুকুতায় ফিরে যায়। এসব ট্রাকের মালামাল 'আনলোড' করে গুদামজাত করে রাখা হবে বলে জানিয়েছে কলম্বিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা। গুইদো ফের এসব ত্রাণ ব্যবহার করতে চাইলে আবার পাঠানো হবে বলে জানিয়েছে তারা।

মাদুরোর নৌবাহিনীর হুমকির পর পিছু

হটলো ত্রাণবাহী মার্কিন জাহাজ

ভেনেজুয়েলার নৌবাহিনীর হুমকির পর পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে ত্রাণবাহী একটি জাহাজ। ওয়াশিংটনের অনুগত পুয়ের্তো রিকো সরকারের তত্ত্বাবধানে ওই জাহাজের ভেনেজুয়েলায় পৌঁছানোর কথা ছিল। দ্বীপরাষ্ট্রটির গভর্নর রিকার্ডো রসেলো এক বিবৃতিতে স্বীকার করেছেন, হুমকি পেয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতের স্বার্থে জাহাজটিকে সরিয়ে নিয়েছেন তারা। শনিবার রাতে দেয়া এক বিবৃতিতে ভেনেজুয়েলার হুমকিকে অগ্রহণযোগ্য ও লজ্জাজনক আখ্যা দিয়েছেন তিনি। অবশ্য, এই বিবৃতির আগেই ভেনেজুয়েলার স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো হুমকির ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত করেন।