টানা তৃতীয় মাসে চীনের কারখানা কার্যক্রমে সংকোচন

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চলতি ফেব্রুয়ারিতে চীনের কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রয়টার্সের এক মতামত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। চলতি মাসে সংকুচিত হলে টানা তৃতীয় মাসের মতো সংকুচিত হবে দেশটির কারখানা কার্যক্রম। এছাড়া জরিপে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটির অর্থনীতির গতি আবারো মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। খবর রয়টার্স।

গত জানুয়ারিতে ব্যাংকগুলোর রেকর্ড পরিমাণ ঋণ প্রদান এবং চীন-মার্কিন বাণিজ্য আলোচনার অগ্রগতির ফলে এশিয়ার শীর্ষ অর্থনীতি চীনে ইতিবাচক পূর্বাভাস দেখা দিয়েছিল। কিন্তু ম্যানুফ্যাকচারিং খাত দুর্বল হয়ে পড়ায় ধারণা করা হচ্ছে দেশটির বিপদ কাটতে এখনো অনেক দেরি।

রয়টার্স জরিপ অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে চীনের পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) হবে ৪৯ দশমিক ৫০ পয়েন্ট। জানুয়ারিতেও দেশটির পিএমআই সূচক একই ছিল। পিএমআই সূচক ৫০ পয়েন্টের নিচে থাকার অর্থ হলো অর্থনীতি সম্প্রসারিত না হয়ে সংকুচিত হচ্ছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের একটি মন্তব্য অনুযায়ী, গত বছরের ঋণ প্রবৃদ্ধির ধীরগতির প্রভাব অন্তত চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত শিল্প কার্যক্রমের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চাহিদা কিছুটা কমে আসায় চীনের রফতানিও হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে রফতানির পিএমআই সূচক ৪৯ পয়েন্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগামী ৫ মার্চ থেকে চীনে শুরু হবে দেশটির সংসদের বার্ষিক বৈঠক। এর আগে আগেই প্রকাশিত হবে ফেব্রুয়ারির পিএমআই উপাত্ত। সংসদের বার্ষিক বৈঠকে দেশটির শীর্ষ নেতারা অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে বেশকিছু সহায়তামূলক পদক্ষেপের ঘোষণা দিতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে কর কর্তন প্রক্রিয়া বিস্তৃত করা। এছাড়া চলতি বছরের জন্য সরকারের প্রধান অর্থনৈতিক ও আর্থিক লক্ষ্যগুলোও এ বৈঠকে প্রকাশ করবেন দেশটির শীর্ষ নেতারা। এসব লক্ষ্যে দেশটির ভবিষ্যৎ নীতিমালার কিছু আভাসও দেয়া হতে পারে।

 বেইজিং তাদের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে ৬ থেকে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছে। ২০১৮ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা ছিল প্রায় ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ও রফতানি চাহিদা হ্রাস পাওয়ার কারণেই প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করছে দেশটি।

২০১৮ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ অর্থনীতি চীনের প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, যা কিনা ২৮ বছরের সর্বনিম্ন। ২০১৭ সালে দেশটির প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ। রয়টার্স জরিপে অংশ নেয়া বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন, চলতি বছর চীনের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের তুলনায় কমে প্রায় ৬ দশমিক ৩০ শতাংশে দাঁড়াবে।

চলতি মাসের শুরুতেই উদযাপিত হয়েছে চীনা নববর্ষ। নববর্ষের ছুটিতে সাধারণত ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম কমিয়ে আনেন অথবা দীর্ঘ সময়ের জন্য বন্ধ রাখেন। কিন্তু রয়টার্সের এক প্রতিবেদক সম্প্রতি চীনের রফতানিনির্ভর প্রদেশ গুয়াংডং পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, কিছু কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

কাইজিন/মার্কিট ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই)  চীনের ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের ওপর বেশি মনোযোগ দিয়ে থাকে। এ জরিপেও কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার আভাস দেয়া হয়েছে। কাইজিন পিএমআই সূচক জানুয়ারির ৪৮ দশমিক ৩০ পয়েন্ট থেকে কিছুটা বেড়ে ৪৮ দশমিক ৫০ পয়েন্ট হওয়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে। যদিও এ থেকে কারখানা কার্যক্রম সংকুচিত হওয়ার আভাসই পাওয়া যাচ্ছে।

কাইজিন জরিপে অন্তর্ভুক্ত বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই ছিল রফতানিনির্ভর। ওয়াশিংটন ও বেইজিং একটি বিস্তৃত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছলেও এসব প্রতিষ্ঠানকে তাদের বাজার অংশীদারিত্ব পুনরুদ্ধার করতে হবে। গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, চীন-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির মধ্যস্থতাকারীরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন। তিনি হয়তো বাণিজ্যযুদ্ধ নিরসনে শিগগিরই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। অবশ্য যদি দুই দেশ তাদের মধ্যকার বাণিজ্য বিরোধগুলো নিষ্পত্তি করতে পারে, তবেই তিনি চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন।