মোদিকে সরাসরি শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিতে চান ইমরান

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নিজে টেলিফোনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিতে সম্মত। সে দেশের সম্প্রচারমাধ্যম জিও নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি প্রশ্ন রাখেন: নরেন্দ্র মোদি আলোচনায় রাজি কিনা। সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনীতির স্বার্থে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকিতে ফেলতে চায় ভারত। তবে পাকিস্তান শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয় বলে দাবি করেছেন কোরেশি।

ইমরান খান ও নরেন্দ্র মোদি
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মিরের পুলওয়ামায় ভারতের ‘সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্সের’ গাড়িবহরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় বাহিনীটির অন্তত ৪০ জন সদস্য প্রাণ হারান। পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিগোষ্ঠী জইশ-ই-মোহাম্মদ হামলার দায় স্বীকার করে। মঙ্গলবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় বিমান বাহিনী ৭১-পরবর্তী ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের আকাশসীমায় ঢুকে বিমান হামলা চালানোর পর জানায়, জইশ-ই মোহাম্মদের ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যেই তারা ওই ‘অসামরিক অভিযান’ পরিচালনা করেছে। বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে দুটি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে পাকিস্তান। বিপরীতে ভারতও পাকিস্তানের একটি ফাইটার জেট ভূপাতিত করার দাবি করেছে।

দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই বুধবার জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ভারতকে আবারও সংলাপের আহ্বান জানান তিনি। বৃহস্পতিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোরেশি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলতে ও শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিতে প্রস্তুত আছেন।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘মোদি কি এর জন্য প্রস্তুত?’

কোরেশি আরও বলেন, ‘আমরা সকল পরিণামের জন্য প্রস্তুত আছি। তারা (ভারত) যদি শান্তিকে প্রাধান্য দেয় তবে আমরাও শান্তি স্থাপনের জন্য প্রস্তুত আছি। তারা যদি সংলাপকে প্রাধান্য দেয়, তবে আমরা সংলাপের জন্য প্রস্তুত।’ আলোচনার প্রসঙ্গে তিনি ভারতের উদ্দেশে প্রশ্ন ছুড়ে দেন। জানতে চান ‘আপনারা আসলে কী চান? রাজনীতির জন্য আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করতে চান? নিরীহ মানুষের জীবন ধ্বংস করতে চান? এটি বিচক্ষণ কৌশল নয়।’

ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় সারা বিশ্বেই উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দুই পক্ষকেই সংযত আচরণ প্রদর্শন এবং আলোচনা পুনঃস্থাপনের তাগিদ দিয়ে যাচ্ছে।