পাকিস্তান ইস্যুতে নতুন কৌশল নির্ধারণে বৈঠকে ভারত

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান দ্বন্দ্ব ও সহিসংসতা নিয়ে বৃহস্পতিবার তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে জরুরি বৈঠক বসেছেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। পাকিস্তান ইস্যুতে নতুন কৌশল নির্ধারণ করাই বৈঠকের উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জি-নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে জঙ্গি হামলার পর থেকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় নিহত হন ৪০ জন সিআরপিএফ জওয়ান। যদিও পুলওয়ামা হামলার দায় স্বীকার করেছে জইশ-ই-মহম্মদ।

ওই ঘটনার ১২ দিন পর ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান পাকিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের মানশেহরা জেলায় বোমা ফেলেছে। যদিও এলাকাটা কাশ্মীরের বিরোধপূর্ণ এলাকার বাইরে।এরপর থেকেই পাকিস্তানের হামলার চেষ্টার গতি বাড়তে শুরু করেছে। গতকাল বুধবার পাকিস্তানের তিনটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ঢুকে পড়ে ভারতের আকাশে। সেগুলো তাড়িয়ে দেয় ছয়টি মিগ-২১।

এদিকে পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানকে তাড়াতে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভারতের একটি মিগ-২১। সেই বিমানের পাইলটকে ধরে রেখেছে পাকিস্তান। তাকে দেশে ফেরানোর সবরকম প্রচেষ্টা শুরু করেছে ভারত।

এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান ইস্যুতে নতুন রণকৌশল ঠিক করতে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে এই বৈঠক আহ্বান করেছে প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন।

প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, পাকিস্তান সেনাসদস্যরা সাবমেরিন নিয়ে ভারতে হামলা চালাতে পারে।

সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে ভারতের পশ্চিম প্রান্তের রাজ্য মহারাষ্ট্র ও গুজরাট উপকূলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারত পূর্ব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে চাইছে৷ এগারো বছর আগে মুম্বাই হামলার সময় পাকিস্তানের করাচি থেকেই ভারতীয় উপকূলে এসেছিল জঙ্গি আসমল কাসভ ও তার সঙ্গীরা। মাছ ধরার ট্রেলারে করে আসায় সেই সময় সন্দেহের নজর এড়িয়ে যায় কাসভরা।

এবার তাই ভারতের পশ্চিম প্রান্তের উপকূলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নির্দেশ পেয়ে ইতিমধ্যেই উপকূলের সুরক্ষা বাড়ানো হয়েছে৷ মাছধরার ট্রলারগুলোতে তল্লাশি চলছে করছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা।