জিন নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

ন সার্কিটের ধারণা আণবিক জীববিজ্ঞানীরা এ ভাবনা থেকে এনেছিলেন যে, একটি ক্রোমোজোমের জিনগুলো এককভাবে কাজ করে না। বরং এদের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। এ সমন্বয় একটি কোষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমে অবস্থিত অসংখ্য জিনের মধ্যে হতে পারে। আরো সমন্বয় হতে পারে একটি কোষের বাইরে অন্য একটি কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ক্রোমোজোমের জিনগুলোর মধ্যে। এভাবে নির্মিত জিন সার্কিটে অস্বাভাবিকতা আসতে পারে সুনির্দিষ্ট একটি জিনে বা কয়েকটি জিনে সিকোয়েন্সের পুনর্বিন্যাসের জন্য। জিনের সিকোয়েন্স ভেঙে গেলেও এরূপ অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে।

হ্যাপি ফেস নিয়ে আরো একটি গবেষণা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। তারা দেখিয়েছেন, গান আমাদের ইমাজিনেশন ও পারসেপশন ক্ষমতায় ভূমিকা রাখে। তারা গবেষণা করে দেখান, মানুষের যখন আনন্দ জেগে ওঠে, তখন এমন ধরনের গান গায় যে মস্তিষ্কে আনন্দের ছবিগুলো ভেসে ওঠে আর যখন কষ্টের গান শোনে তখন দুঃখময় ছবিগুলো ভেসে ওঠে।

এক বা একাধিক সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যখন বেশ কিছু স্নায়ু পরস্পরের সঙ্গে সিন্যাপস বরাবর সংযুক্ত হয় তখন ওই সংযুক্ত স্নায়ুগুলোকে একত্রে স্নায়বিক সার্কিট বলে। স্নায়বিক সার্কিট কাজ করে সার্কিটে থাকা স্নায়ুগুলোর মধ্যে বিরাজমান জিনগুলোর সাহায্যে। তাই কোনো স্নায়বিক সার্কিট সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হলে ওই স্নায়বিক সার্কিটের সঙ্গে জড়িত জিনগুলো সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে। মনোযোগের স্নায়বিক সার্কিটের সঙ্গে জড়িত প্রায় ১৮৫টি জিন আবিষ্কারে ভূমিকা রেখে মিখাইল পসনার কতটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

এভাবে মনোযোগ প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষণ করার পর পসনার তার গবেষণায় নিয়ে আসেন আবেগ প্রক্রিয়াকে। তিনি দেখান, মনোযোগের সঙ্গে আবেগের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। কোনো একটি সময়ে কোনো মানুষের সামনে অসংখ্য উদ্দীপক থাকলে সে অবশ্যই আবেগ-উদ্দীপক বিষয়ের দিকে নিরপেক্ষ বিষয়গুলোর তুলনায় বেশিক্ষণ মনোযোগী হবে। পসনার মনোযোগের সঙ্গে আবেগের সম্পর্ক তুলে ধরতে গিয়ে স্পটলাইটের ধারণা নিয়ে আসেন। তিনি একে বলেন মেন্টাল স্পটলাইট। আবেগসংক্রান্ত উদ্দীপকের ক্ষেত্রে এ মেন্টাল স্পটলাইটটি ছোট পরিসরে থাকে। স্পটলাইটের ক্ষেত্রে যা হয়- স্পটলাইট যত ছোট হয় আলোর তীব্রতা তত বেশি হয়। তেমনি আবেগ-উদ্দীপক বিষয়ের ক্ষেত্রে মেন্টাল স্পটলাইট ছোট থাকে তাই এ ক্ষেত্রে মনোযোগ থাকে তীব্র। নিরপেক্ষ বিষয়বস্তুর ক্ষেত্রে মেন্টাল স্পটলাইট বিস্তৃত থাকে। তাই নিরপেক্ষ বিষয়ের ক্ষেত্রে মনোযোগ বিস্তৃত বা হালকা থাকে।

জিন সার্কিটের ধারণা আণবিক জীববিজ্ঞানীরা এ ভাবনা থেকে এনেছিলেন যে, একটি ক্রোমোজোমের জিনগুলো এককভাবে কাজ করে না। বরং এদের মধ্যে সমন্বয় রয়েছে। এ সমন্বয় একটি কোষের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমে অবস্থিত অসংখ্য জিনের মধ্যে হতে পারে। আরো সমন্বয় হতে পারে একটি কোষের বাইরে অন্য একটি কোষের নিউক্লিয়াসে অবস্থিত ক্রোমোজোমের জিনগুলোর মধ্যে। এভাবে নির্মিত জিন সার্কিটে অস্বাভাবিকতা আসতে পারে সুনির্দিষ্ট একটি জিনে বা কয়েকটি জিনে সিকোয়েন্সের পুনর্বিন্যাসের জন্য। জিনের সিকোয়েন্স ভেঙে গেলেও এরূপ অস্বাভাবিকতা দেখা যেতে পারে।

জিন সার্কিটের এ অস্বাভাবিকতা ব্রেস্ট ক্যান্সারের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি জিনের সিকোয়েন্সে পরিবর্তনের কারণে ক্যান্সার জিন সক্রিয় হয়, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এ তথ্যটিও মাইক স্ট্রাটোন এবং অ্যান্ডি ফুট্রেয়ালের দৃষ্টি এড়ায়নি। ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এ রকম হতেই পারে।

বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিনের পুনর্বিন্যাস এবং হেরাসিপটিন হরমোনের সঙ্গে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্পর্ক আছে এটা বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েক বছর হলো আবিষ্কার করেছেন। এ আবিষ্কারের পরিবর্তন সাধিত হয়েছে মাইক স্ট্রাটোন ও অ্যান্ডি ফুট্রেয়ালের জিনোম পুনর্বিন্যাস বা জিন সার্কিট পুনর্বিন্যাসবিষয়ক আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে।

ব্রেকথ্রো ব্রেস্ট ক্যান্সার রিসার্চ সেন্টারের বিজ্ঞানী ড. জর্জ রেইস ফিলহো একে অসাধারণ ও উলেস্নখযোগ্য একটি আবিষ্কার হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ডিএনএ অণু কোনো কারণে ভেঙে গেলে তা আবার পুনরায় গঠিত হয়ে যায় জীববৈজ্ঞানিক স্বয়ংক্রিয় মেরামত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এ মেরামত প্রক্রিয়া প্রায় সময়ই পুরনো জেনেটিক বিন্যাস ফিরিয়ে দেয়। কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে মিউটেশনের কারণে পুরনো জেনেটিক বিন্যাসে পরিবর্তন হয় তখন দেখা দিতে পারে অস্বাভাবিকতা। ব্রেস্ট ক্যান্সারের ক্ষেত্রে বিআরসিএ-১ ও বিআরসিএ-২ জিনে ও হেরাসিপটিন হরমোন-সংক্রান্ত জিনে মিউটেশনের কারণে পুরনো জেনেটিক বিন্যাসে পরিবর্তন দেখা দেয়। ফলে তৈরি হয় ব্রেস্ট ক্যান্সার। তিনি আরো বলেছেন, বিজ্ঞানীদের এখন কাজ হলো এ মিউটেশনকে বা জেনেটিক পুনর্বিন্যাসকে নিয়ন্ত্রণ করা। তাহলে নারীরা তাদের সৌন্দর্য এবং মাতৃত্বের অন্যতম গঠনকে অক্ষত রাখতে পারবে।

বিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের মাঝে রয়েছে নারী আর পুরুষ এবং অনেক ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের সমন্বিত রূপসহ নানারকম বৈচিত্র্য। এ বৈচিত্র্য বা বিভিন্নতা হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী জিন সার্কিটের ফলাফল। এ সার্কিটের অস্বাভাবিকতা নারী-পুরুষ তথা মানুষের স্বাভাবিক সংগঠনে পরিবর্তন ঘটায়। নারীর সৌন্দর্য ও মাতৃত্বের অন্যতম গঠন ব্রেস্ট এবং জরায়ু অনেক ক্ষেত্রেই এ জিন সার্কিটের অস্বাভাবিকতার কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ওয়েলকাম ট্রাস্ট সাঙ্গার ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানীরা নারীর ব্রেস্টের অস্বাভাবিকতা বা ব্রেস্ট ক্যান্সারের জিনগত কারণ ও তার সমাধান বিষয়ে উলেস্নখযোগ্য আবিষ্কার করেছেন। এ আবিষ্কারের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন ওয়েলকাম ট্রাস্ট সাঙ্গার ইন্সটিটিউটের বিজ্ঞানী প্রফেসর মাইক স্ট্রাটোন ও ড. অ্যান্ডি ফুট্রেয়াল। দুজনই আণবিক জীববিজ্ঞান এবং ক্যান্সার বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা করছেন।

সূক্ষ্ণ এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় অটিজম রোগীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের তাকানোর ও মনোযোগের পার্থক্য তুলনা করলে। ক্যানাবিনয়েড রিসেপ্টর জিনটি অটিজম রোগীদের ক্ষেত্রে বেশ খানিকটা পরিবর্তিত থাকে। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিজ্ঞানী ড. বিসমাদেভ চক্রবর্তী ক্যানাবিনয়েড রিসেপ্টর জিন আবিষ্কার করেন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মস্তিষ্কের সন্তুষ্টি ও প্রাপ্তির অনুভূতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যতম জায়গা স্ট্রাটিয়াম নিয়ে কাজ করছিলেন। তার গবেষণা কার্যক্রমে অটিজম রোগটিও জড়িত ছিল। অটিজম রোগীরা অন্য মানুষের মুখের দিকে বেশিক্ষণ মনোযোগ দিতে পারে না। পাশাপাশি তারা অন্য মানুষের মুখ যে আবেগ প্রকাশ করে তা ধরতে পারে না।