ফেব্রুয়ারিতে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ১৪ মাসের সর্বোচ্চে

নিজস্ব প্রতিবেদক | র‍্যাপিড পিআর নিউজ.কম

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী হতে দেখা গেছে। গতকাল প্রকাশিত মাসিক জরিপ অনুসারে, বিক্রি, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির সুবাদে গত মাসে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাতের পারফরম্যান্স ১৪ মাসের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের জিডিপি মন্থর হয়ে ছয় প্রান্তিকের সর্বনিম্নে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।  

ব্যবসা পরিস্থিতির শক্তিশালী উন্নতির মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে নিক্কেই ইন্ডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) জানুয়ারির ৫৩ দশমিক ৯ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫৪ দশমিক ৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে টানা ১৯তম মাস ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ৫০ পয়েন্টের উপরে বহাল রয়েছে। পিএমআইয়ের ক্ষেত্রে ৫০ পয়েন্টের উপরে সম্প্রসারণ এবং এর নিচে সংকোচন বোঝায়।

জরিপ অনুসারে, ফেব্রুয়ারি পরিসংখ্যানে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে ব্যবসা পরিস্থিতির শক্তিশালী উন্নতি, টানা ২৮তম মাস কারখানা কার্যক্রমে বৃদ্ধি এবং উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের দ্রুত প্রবৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা গেছে।

আইএইচএস মারকিটের প্রধান অর্থনীতিবিদ ও প্রতিবেদনের লেখক পলিয়ান্না দো লিমা বলেন, ভারতের ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের শেষ প্রান্তিক থেকে জোরালো গতি জানুয়ারিতে অব্যাহত রয়েছে। লিমা আরো বলেন, স্থানীয় ও বাহ্যিক শক্তিশালী চাহিদা পূরণে পণ্য উৎপাদকরা নিজেদের উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ করায় কর্মসংস্থান খাতে গত সাড়ে ছয় বছরের মধ্যে সেরা উত্থান দেখা গেছে।

মূল্যস্ফীতির দিক থেকে জানুয়ারিতে কিছুটা বাড়লেও গত মাসে ইনপুট ব্যয় ও আউটপুট মূল্যে মূল্যস্ফীতি নিম্নমুখী থাকতে দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মূল্যস্ফীতিজনিত চাপ শিথিল হওয়ায় রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) একটি সুবিধাজনক আর্থিক নীতি গ্রহণ করতে পারে। ২-৪ এপ্রিল আরবিআইয়ের মনিটারি পলিসি কমিটির (এমপিসি) পরবর্তী বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

লিমা বলেন, চলতি অর্থবছরের শেষ প্রান্তিকে ম্যানুফ্যাকচারিং খাত সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে একটি শক্তিশালী অবদান রাখবে বলে জরিপের ফলাফল থেকে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ফলে মার্চ পরিসংখ্যান অনুকূল অবস্থানে থাকবে বলেই ধারণা করছে সবাই।

২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭ দশমিক ১ শতাংশ করেছে আইএইচএস মারকিট।

অন্যদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে ছয় প্রান্তিকের সর্বনিম্ন ৬ দশমিক ৬ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সেন্ট্রাল স্ট্যাটিস্টিকস অফিসের (সিএও) প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুসারে, মূলত কৃষি, খনি, ম্যানুফ্যাকচারিং ও সরকারি ব্যয় খাতের দুর্বল পারফরম্যান্সের কারণে চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ভারতের অর্থনীতি মন্থর হয়ে পড়েছে। তবে বিনিয়োগ কার্যক্রমে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে পূর্ণাঙ্গ অর্থবছরের জন্য দেশটির প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৭ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করেছে সিএসও।

প্রথম প্রান্তিকের উচ্চপ্রবৃদ্ধির সুবাদে গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে উচ্চতর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস করা হয়েছে। এদিকে চতুর্থ প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে বলে মনে করছে সিএসও। ইন্ডিয়া রেটিংসের প্রধান অর্থনীতিবিদ দেবেন্দ্র পান্ত বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি গত পাঁচ বছরের এবং তৃতীয় প্রান্তিকের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ছয় প্রান্তিকের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর অর্থ অর্থনীতি গতি হারাচ্ছে।

এদিকে প্রবৃদ্ধি জোরালো করতে আরবিআইয়ের এমপিসি রেপো রেট আরো হ্রাস করতে পারে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কেয়ার রেটিংস জানায়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি উদ্বেগের কারণ হয়ে ওঠায় আরবিআই সুদহার কর্তনে উদ্যোগী হয়ে উঠতে পারে। আর এর ফলে আগামী দিনগুলোয় মূল্যস্ফীতি নিয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন পড়বে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে চলতি অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ৯ করার কথা জানিয়েছে কেয়ার রেটিংস।

খাতওয়ারি হিসাবে, তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষি, বন ও মত্স্য খাতের জিভিএ (গ্রস ভ্যালু অ্যাডেড) প্রবৃদ্ধি মন্থর হয়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা দ্বিতীয় প্রান্তিকের ৪ দশমিক ২ শতাংশের নিচে রয়েছে।